বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।
কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে যখন কিছু সদস্য দলীয় নীতি ও কর্মসূচির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করে কিংবা সাধারণ স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে উপদল বলে। উপদল রাজনৈতিক দলের একটি খণ্ডিত রূপ। এর কাঠামো, কর্মসূচি ও লক্ষ্য সংকীর্ণ।
নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জন্য জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাধারণ কিছু আসনেও নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। কিন্তু তা সংখ্যায় খুবই কম। সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নারীরা পুরুষের সাথে টিকতে পারে না। কেননা আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা হচ্ছে পুরুষশাসিত। ধর্মান্ধতার কারণে নেতৃত্বের নারীদের আমরা ভালোভাবে মেনে নিতে পারি না। কিন্তু নারীরাও পারে তাদের নিজ যোগ্যতাবলে দেশকে উন্নয়নের শীর্ষে পৌছে দিতে। কিন্তু আমাদের সমাজের সর্বত্রই নারীরা বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও অবহেলিত। শিক্ষার দিক দিয়েও নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। পরিবার, কর্মস্থল ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা নির্যাতিতও হচ্ছে। সমাজের অর্ধেক অংশই হচ্ছে নারী। এ অর্ধেক অংশকে অন্ধকারে রেখে কোনো জাতিই উন্নতি করতে পারে না। তাই আমাদের সরকার নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। আর নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা খুব একটা সহজ কাজ নয় বলে সংসদে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংসদে এ মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে মতবিরোধ চলছে। দল চাচ্ছে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে। কেননা দলের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অনির্বাচিত সরকার। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অনির্বাচিত শাসকের কোনো স্থান নেই। অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষমতালিপ্স সামরিক বাহিনী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ পায়। কিন্তু বিরোধী দল কোনো দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন করতে চায় না। বিরোধী দলের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন বিভিন্নভাবেই প্রভাবিত হয়। তাই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বিরোধী দলের অভিযোগ হচ্ছে সরকার ক্ষমতা হারাবার ভয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে চাচ্ছে না। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিয়ে আবারও ক্ষমতা যেতে চাচ্ছে। তাই বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়। এজন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিয়ে শুধু সরকার ও বিরোধী দল নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। সাধারণ জনগণও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে গেছে। একটি তত্ত্বাবধায়ক সমর্থক, অন্যটি তত্ত্বাবধায়ক বিরোধী।
Related Question
View AllLeadership' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নেতৃত্ব।
সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব বলতে নেতার গুণাবলিকে বোঝায়। পৌরনীতিতে নেতৃত্ব বলতে বোঝানো হয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে তাকে। সমাজবিজ্ঞানী কিম্বল ইয়ং-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো এক ধরনের আধিপত্য যাতে অনুসারীরা তাকে সানন্দে মেনে চলে।” অর্থাৎ এটি এমন এক কৌশল, যা তার অনুসারীদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদেরকে উদ্দীপ্ত করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরোক্ষ ব্যবস্থা। বর্তমানকালের বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট জাতীয় রাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য গড়ে উঠেছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের পরোক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। এজন্য পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয়। রাজনৈতিক দলের মূলভিত্তিই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 'আর রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের পন্থা জনসম্মুখে = প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। জনসমর্থন পেলে - নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং সরকার গঠন করে = থাকে। এর বিশেষ দিক হলো-
১. জনগণকে সংঘবদ্ধ করবে একটি আদর্শের ভিত্তিতে
২. তাদের আদর্শ ও নীতি প্রচার করে সমর্থন আদায় করবে;
৩. বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে;
৪. সরকার গঠন করলে দলীয় নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে;
৫. জনকল্যাণে কাজ করবে;
৬. সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
এখানে রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ক্ষমতা লাভই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে ক্ষমতা লাভ অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের আদর্শ ও নীতিমালা প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে থাকে। জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠন করে বা করার চেষ্টা করে। জোসেফ সুম্পিটার বলেন, "রাজনৈতিক দল হলো একটি গোষ্ঠী যার সদস্যরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রামে একযোগে কাজ করে যেতে সম্মত হয়।" আবার অধ্যাপক গ্যাটেল রলেন যে, "রাজনৈতিক দল কমবেশি সংগঠিত নাগরিকদের গোষ্ঠী, যারা রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে এবং যারা তাদের ভোটদান ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাধারণ নীতিমালা কার্যকর করতে চেষ্টা করে।" অন্যদিকে, ম্যাকাইভার মনে করেন যে, রাজনৈতিক দল দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে থাকে।
অর্থাৎ আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রমের মূলভিত্তি হলো জনসমর্থন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।
নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন না পেলে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে থাকে। ক্ষমতা লাভ করার জন্যই রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
"রাজনৈতিক দল আদর্শের প্রচারক হিসেবে কাজ করবে” কথাটি বলেছেন অধ্যাপক ম্যাকাইভার।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রে দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করে। দল ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। এজন্য রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!