পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৪ প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
একটি স্থিতিশীল দাম ও পরিমাণ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মোট চাহিদা ও মোট যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত অবস্থাকে বাজার ভারসাম্য বলে।
ভারসাম্য অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট দামে একটি দ্রব্যের বাজারে তার মোট চাহিদা ও বাজার যোগানের পরিমাণ সমান হয়। যে দামে চাহিদা ও যোগান সমান হয় তাকে ভারসাম্য দাম বা বাজার দাম বলে। আর এ দামে চাহিদা ও যোগানের পরিমাণের যে সাম্যাবস্থা অর্জিত হয় তাকে ভারসাম্য পরিমাণ বলে।
অধ্যাপক আমজাদ সাহেব বাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন।
বাজার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অবাধ প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদনের উপকরণ বণ্টনে দক্ষতা। অবাধ প্রতিযোগিতার ফলে বাজার অর্থনীতিতে উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদনের উপকরণসমূহের সুষ্ঠু বিলিবণ্টন ঘটে। আবার, বাজার অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো
সর্বাধিক মুনাফা লাভের জন্য উৎপাদন পরিচালনা করা। বাজার অর্থনীতিতে প্রত্যেক উৎপাদনকারীর লক্ষ্য হলো সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা। বস্তুত এখানে উৎপাদনকারীরা সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে অধ্যাপক আমজাদ সাহেব মনে করেন, দামব্যবস্থা একটি অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাজার অর্থনীতিতে স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা দ্বারাই উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়ে থাকে। আবার, বাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় বাজারের অদৃশ্য হাত দ্বারা। এক্ষেত্রে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে ন্যস্ত নয়। নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি একটি অদৃশ্য হাতে ন্যস্ত। মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থের সাথে সামাজিক স্বার্থও রক্ষিত হয়। উক্ত স্বয়ংক্রিয় উপায়ের মাঝে অদৃশ্য হাতের ছোঁয়া উপলব্ধি করা যায়।
আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে অর্থের ভূমিকা সর্বাধিক। আর তা অবাধ প্রতিযোগিতা, ভোক্তার স্বাধীনতা, মুনাফাভিত্তিক উৎপাদন এবং অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা অর্জনের মত ক্ষেত্রগুলোতে মূল্যায়ন পূর্বক আরো স্পষ্টভাবে বলা যায়।
পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান থাকে তাতে মূল্য প্রক্রিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। মূল্য প্রক্রিয়ার সাহায্যেই দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় ও বণ্টিত হয়। আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ভোক্তা তার ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ভিত্তি করে যেসব পছন্দ করবে তা তার কাছে সর্বাধিক উপযোগ প্রদান করতে সক্ষম। ভোক্তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তই পুঁজিবাদে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গতি নির্দেশ করে। একজন উৎপাদনকারী ভোক্তাদের চাহিদা ও পছন্দমাফিক দ্রব্য উৎপাদন করেই দ্রব্যের ভালো মূল্য পেতে পারে এবং মুনাফা অর্জন করতে পারে। আবার মূল্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভোক্তাদের পছন্দ, অপছন্দ এবং ভোগের প্রবণতা সে জানতে পারে। আর মূল্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুই হচ্ছে অর্থ।
উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সর্বাধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করে। তাই তারা এমন সব দ্রব্য উৎপাদন করতে চায় যার 'বিক্রয় মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি। তাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মূল্য প্রক্রিয়া পরিচালনায় অর্থের ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া, পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সমাজে অনেক সময় অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এ কারণে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করে অর্থের গতিশীল কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে মূল্য প্রক্রিয়ার যে উপস্থিতি তা কেবল অর্থের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। ক্রেতা বিক্রেতার আচরণও অর্থের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাই বলা যায়, আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে অর্থের প্রাধান্য বা ভূমিকা সর্বাধিক।
Related Question
View Allউপযোগ বলতে কোনো দ্রব্য বা সেবার ঐ বিশেষ গুণকে বোঝায়, যা দ্বারা মানুষের বিশেষ অভাব মেটানো সম্ভব হয়।
মোট উপযোগ যখন সর্বোচ্চ হয় প্রান্তিক উপযোগ তখন শূন্য হয়।
ভোক্তা কোনো একটি বিশেষ দ্রব্য অধিক পরিমাণে ভোগ করতে থাকলে তার নিকট উক্ত দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আর ঐ দ্রব্যটি ভোগ করতে চায় না। এমতাবস্থায় ভোক্তার নিকট ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ভোক্তার লিচু খাওয়ার ইচ্ছা হলো। প্রথম লিচুর তুলনায় দ্বিতীয় লিচু থেকে সে কম উপযোগ পায়। তৃতীয় লিচুর ক্ষেত্রে উপযোগ আরও হ্রাস পায়। এভাবে এক পর্যায়ে তার লিচু খাওয়ার আর কোনো আগ্রহ থাকবে না। ফলে সে আর লিচু গ্রহণ করবে না। এ অবস্থায় ভোক্তার নিকট লিচুর মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলেও প্রান্তিক উপযোগ হয় শূন্য।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে মোট উপযোগ রেখা অঙ্কন করা হলো-

উপরের চিত্রে OX অক্ষে পেয়ারার একক এবং OY অক্ষে পেয়ারার ভোগ হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ দেখানো হয়েছে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সাহানা ১ম পেয়ারা ভোগ করে ৮ একক মোট উপযোগ লাভকরে। যা চিত্রের এ বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। একইভাবে ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম পেয়ারা থেকে সাহানা যথাক্রমে ১০ একক, ১২ একক, ১২ একক এবং ১০ একক মোট উপযোগ লাভ করে। যা চিত্রে যথাক্রমে ৮, c. d এবং e বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়েছে। প্রাপ্ত a, b, c, d এবং e বিন্দুগুলো যোগ করে TU মোট উপযোগ রেখা পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের তথ্য হতে প্রান্তিক উপযোগ (MU) নির্ণয় করে মোট উপযোগ (IU) এবং প্রান্তিক উপযোগের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা যায়-কোনো একক হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ (IU) থেকে তার পূর্ববর্তী একক হতে প্রাপ্ত মোট উপযোগ (TU) বাদ দিলে প্রান্তিক উপযোগ (MU) পাওয়া যায়। অর্থাৎ MU, TU-TU প্রদত্ত তথ্যের আলোকে উপযোগ সূচি:
পেয়ারার একক | মোট উপযোগ (TU)একক | প্রান্তিক উপযোগ (MU) একক |
১ম | ৮ | ৮ |
২য় | ১০ | ২ |
৩য় | ১২ | ২ |
৪র্থ | ১২ | ০ |
৫ম | ১০ | -২ |
উপরের উপযোগ সূচিতে লক্ষ করা যায়, সাহানার ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়লেও একসময়ে তা সর্বোচ্চ ১২ একক হয় এবং পরে তা হ্রাস পায়। অন্যদিকে প্রান্তিক উপযোগ প্রথম থেকেই হ্রাস পায়, একসময় শূন্য হয়ে যায় এবং পরে তা ঋণাত্মক (-২ একক) হয়ে পড়ে।
উপরের সূচিতে মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রান্তিক উপযোগ হলো মোট উপযোগের একটি অংশ। ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উপযোগ কী হারে বৃদ্ধি পায় তা প্রান্তিক উপযোগ দ্বারা নির্ধারিত হয়। কোনো দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধি পেলে মোট উপযোগ ক্রমহ্রাসমান হারে বৃদ্ধি পায়; কিন্তু প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এছাড়া, মোট উপযোগ সর্বাধিক হলে প্রান্তিক উপযোগ শূণ্য হয় এবং
চাহিদা ও যোগানের প্রধান নির্ধারক হলো দাম।
চা ও কফি পরিবর্তক দ্রব্য। হওয়ায় কফির দাম কমে গেলে চায়ের চাহিদা কমবে।
সাধারণত যদি দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটির পরিবর্তে অন্যটি ভোগ করা যায় এবং প্রায় সমান উপযোগ লাভ করা যায়, তবে দ্রব্য দুটিকে পরস্পর পরিবর্তক বলা হয়। এ ধরনের দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটির দাম বৃদ্ধি পেলে অপরটির চাহিদা বেড়ে যায়। কফি ও চা এর মধ্যে যদি কফির দাম কমে যায়, তবে চায়ের চাহিদা তথা ভোগ কমবে। এজন্য পরিবর্তক দ্রব্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!