অধ্যাপক নাজমুল হাসান শ্রেণিকক্ষে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ৫৬% মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে মাত্র ৩.২৭% লোকের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করে বাঙালি সংস্কৃতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করা হলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। শমি নামের এক ছাত্রী জিজ্ঞেস করল, স্যার এর পরিণতি কী হয়েছিল? অধ্যাপক নাজমুল হাসান বললেন, পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনা, ষড়যন্ত্র-নির্যাতন যতই বাড়তে থাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাও ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসলই হলো স্বাধীন বাংলাদেশ।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে, ছাত্রদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ফলে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ অনেক ছাত্র নিহত হয় এবং ভাষা আন্দোলন পূর্ণতা পায়।

উত্তরঃ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো বাংলাদেশের ভাষা শহিদ দিবস। যেটি প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে পালিত হয়।
মূলত ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করেন তখন বাংলার ছাত্র সমাজ তার প্রতিবাদ করেন। ছাত্ররা তাদের মায়ের ভাষা রক্ষার জন্য দৃঢ় সংকল্প করেন। তারা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে আন্দোলন করেন। এভাবে ভাষার জন্য জীবনদানের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ফলে UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৯৯ সালে ঘোষণার প্রেক্ষিতে ২০০০ সাল থেকে এ দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পালিত হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। এ লক্ষ্যে তারা বাঙালি জাতিসত্তাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার জন্য বাঙালিদের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা প্রথমে ষড়যন্ত্র শুরু করে বাংলা ভাষা ও বাঙলি সংস্কৃতিকে নিয়ে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্নে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং কতিপয় মুসলিম বুদ্ধিজীবী একমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেন। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী সমগ্র পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ ভাগ লোকের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে শতকরা ৪ ভাগ লোকের মুখের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাঙালি জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ উদ্ভুত সমস্যা সম্পর্কে শাসক শ্রেণির স্বেচ্ছাচারী মনোভাব এবং একরোখা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষার দাবিতে পূর্ব বাংলার জনসাধারণ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে ১৯৪৮ সালের জিন্নাহর ঘোষণার বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ করে। আর ক্রমান্বয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার ছাত্র সমাজ বাংলা ভাষা রক্ষার্থে জীবন উৎসর্গ করেন এবং অর্জন করেন মাতৃভাষায় কথা বলার ক্ষমতা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে অধ্যাপক নাজমুল হাসানের মন্তব্য অর্থাৎ ১৯৫২ সালের জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসলই হলো স্বাধীন বাংলাদেশ-এই বক্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চনা শুরু হয়। তারা বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংসের প্রচেষ্টায় মত্ত হলে বাঙালি জনগণ ১৯৫২ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতি রক্ষা করে। আর ১৯৫২ সালের এ আন্দোলন ছিল বাঙালিদের প্রথম স্বাধিকার আন্দোলন। ফলে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। তারা ক্রমে তাদের অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে একত্রিত হতে থাকে। এ লক্ষ্যে তারা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে এক ব্যালট বিপ্লব সাধন করে যুক্তফ্রন্টকে বিজয়ী করে। এছাড়া তারা ১৯৬২ সালে শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গঠন করেন। এছাড়া ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা ঘোষণা করেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এ ঘোষণায় ৬টি দাবি উত্থাপন করেন যার মধ্যে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অন্যতম ছিল। এছাড়া ১৯৬৯ সালে এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। এভাবে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আর ১৯৭১ সালে বীর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয় এবং বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয়, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হয় তারই বাস্তব ফল হলো স্বাধীন বাংলাদেশ।

151
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা যখন জাতীয় সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে তখন তাকে বাংলাভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ বলে।
ভাষার দাবিতে জীবন বিসর্জন বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন কিন্তু বাঙালি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার সমুন্নত রাখার দাবিতে জীবন দিয়েছিল। তাই বাঙালির এই বৃহৎ ত্যাগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

674
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে জোট গঠন আমাদেরকে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মূলত পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলাম মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বরে। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকরে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সফিপুরের জাতীয় নির্বাচনে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে ছোট ছোট বিভিন্ন উপদল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ঐ জোট ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জয়লাভ করে। উদ্দীপকের এই নির্বাচন এবং উপরে আলোচিত নির্বাচনের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করলে একবাক্যে বলা যাবে উদ্দীপকের নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মিল রয়েছে।

320
উত্তরঃ

উক্ত নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের জোটের নেতৃত্বদানকারী দলের সৃষ্টি ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা এই নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি সম্মিলিতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্ত্বেও জয়ী হতে পারেনি। মূলত ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। বাঙালি ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মুসলিম লীগের ন্যাক্কারজনক শাসনের বিরুদ্ধে তাদের বিপ্লব ঘটিয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে। ফলে এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালিদের মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।

234
উত্তরঃ

ভাষা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।

289
উত্তরঃ

২২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে খুলনায় হরতাল ও প্রতিবাদ সভা ছিল খুলনা অঞ্চলের বৃহত্তর কর্মসূচি।
খুলনা অঞ্চলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২৭ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর বাজারে জনসভা ও অপর এক জনসভা মিউনিসিপ্যাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। যাতে যোগদান করে প্রায় দশ হাজার লোক। ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুসারে খুলনা শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

207
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews