পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ করতে পারে না- অধ্যাপক হামিদ সাহেবের এ মন্তব্যটি যথার্থ। পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা বলতে সাধারণত পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে বোঝায়। এ ধরনের অর্থব্যবস্থা মানবকল্যাণের লক্ষ্যে প্রবর্তিত হলেও তা প্রকৃতপক্ষে মানুষের কল্যাণ করতে পারেনি। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। সেটিও সামগ্রিক মানবকল্যাণ সাধনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই প্রায় পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এখন পুঁজিবাদের হাতে বন্দি। পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা সামগ্রিক মানবকল্যাণে ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হলো সম্পদের মালিকানা নির্ধারণে ব্যর্থতা। ইসলামি অর্থব্যবস্থা সঠিকভাবে সম্পদের মালিকানা নির্ধারণ করে। এটি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কল্যাণকর পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছে। ফলে মানুষ আল্লাহর বিধান অনুসারে নিজের নিয়ন্ত্রণে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। জাকাত ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি। এর ফলে ব্যক্তি উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তা সমাজের সব মানুষের সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখছে।
উদ্দীপকের শাহেদা পুঁজিবাদী ও রিতা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা সমর্থন করে নিজেদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যাপক হামিদ সাহেব তাদেরকে বলেন, "পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ করতে পারে না।" মূলত ইসলামি অর্থব্যবস্থাই মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করতে পারে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নিজেদের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য প্রচলিত পাশ্চাত্য অর্থব্যবস্থা পরিহার করে প্রত্যেক মুসলিমের ইসলামি অর্থব্যবস্থা অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাই বলা যায়, অধ্যাপক হামিদ সাহেব সঠিক উক্তিটিই করেছেন।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!