ইকেবানা হলো জাপানি পদ্ধতিতে পুষ্প সজ্জা।
পরিবেশের সর্বত্র গাছপালা রোপণ করে বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করাকে সবুজ বিপ্লব বলে।
গ্রামের পাশাপাশি শহরের প্রতিটি বাড়ির ছাদকে যদি সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে গাছপালা লাগানো হয় তাহলে সবুজ বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
অনন্যা তার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে জাপানি পদ্বতিতে পুষ্পবিন্যাসকে প্রাধান্য দিয়েছে।
অনন্যা নিজের বাগানের ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে রাখে। পুষ্পসজ্জা বাড়িকে অলঙ্কৃত করে। কক্ষে সাজানো ফুল সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফুলের রং, গন্ধ আমাদের মোহিত করে। দৈনন্দিন গৃহসজ্জা, উৎসব, অনুষ্ঠানে অভ্যর্থনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ফুলের আবেদন অসীম।
অনন্যা স্বর্গ, মানুষ ও পৃথিবীর আদলে ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। এটি জাপানি পদ্ধতিতে পুষ্পবিন্যাস। এই পদ্ধতিকে ইকেবানা বলে। এ পদ্ধতিতে পুষ্পবিন্যাস তিনটি ধাপের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক্ষেত্রে পুষ্পবিন্যাসের সময় মাটি, মানুষ ও সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ রাখা হয়। অনন্যা সর্বোচ্চ ডালটি ফুলদানির কেন্দ্রস্থলে রাখে। এই ভালটি স্বর্গের প্রতীক। এই ডালকে অবলম্বন করে সে অন্যান্য ডালের বিন্যাস করে। দ্বিতীয় ধাপটি সে মানুষের প্রতীক হিসেবে সাজায়। এই ডালের উচ্চতা প্রথম ডালের অংশ এরপর সে তৃতীয় ধাপটি পৃথিবীর প্রতীকরূপে সাজায়।
এই ধাপটি দ্বিতীয় ধাপের অংশ। এই পদ্ধতিতে শুধু যে তিনটি শাখা থাকে তা নয়; তিনটির অধিক শাখা থাকলেও অনন্যা -সেগুলোকে এর এমনভাবে সাজায় যেন তিনটি মূল শাখা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এভাবে অনন্যা ফুল দিয়ে তার ছোট বোনের জন্মদিনে ঘর সাজায়।
অনন্যার কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। সে বাসার বারান্দায় বাগান করে তার অবসর সময় কাটায়।
গাছ আমাদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ দূষণ রোধ ও ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালার ভূমিকা অনেক। বর্তমানে নগরজীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলকারখানা থেকে নির্গত গ্যাস, ইটের ভাটা ও পেট্রোল, টায়ার প্রভৃতি দহনের ফলে সৃব্য ধোঁয়া, ইটের ভাটা পরিবেশকে দূষিত করে। বিভিন্ন ধরনের কারখানা থেকে দূষিত গ্যাস ও ধুলিকণা নির্গত হয়। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কলকারখানী ও যানবাহনে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল পোড়ানোর ফলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। এসব কার্বন ডাই পরিবেশকে নির্মল রাখে। বায়ুদূষণ মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ইড শোষণ আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুদূষণ রোেধ করে গাছ স্মৃতিশক্তি হ্রাস করে, অবসাদগ্রস্ততা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সবুজ ফেলে। পড়াশোনায় মনোযোগ ও রনায়ন তৈরিতে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন।
গৃহ প্রাঙ্গণ, ছাদ ও বারান্দায় বনজ, ফলজ, ওষধি গাছ ও ফুলের বাগান প্রভৃতির মাধ্যমে বাড়িকে পরিবেশ বান্ধব ও নান্দনিক করে গড়ে তোলা যায়। সুতরাং বলা যায়, অনন্যার কার্যক্রম পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Related Question
View Allকোনো কিছু তৈরি করার পূর্বে যে নমুনা তৈরি করা হয় তাই নকশা পরিকল্পনা।
বাড়ির সামনে যে খালি জায়গা থাকে তাকে আঙিনা বলে।
গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আঙিনায় মাচা করে ফুল ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি উৎপাদন করা হয়। আঙিনার যে দিকে ছায়া থাকে সে দিকে হাঁস-মুরগি, কবুতর পালন করা যায়।
লায়লা ছাদ ও বারান্দার সঠিক ব্যবহার করে গৃহকে মনোরম করে তুলতে পারেন।
বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে লায়লা বারান্দা ও ভাল ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত শহরের বাড়িতে ছাল ও বারান্দা হলো উন্মুক্ত স্বাস। পরিকল্পনা করে ছালে ও বারান্দায় সর্বজি এবং ফলের বাগান করা বার। বারান্দা ও ছাদের আয়তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাগান করতে হবে।
এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেখানে পর্যাপ্ত রোদ লাগে। জাবের আশেপাশে চলাচল করার পর্যাপ্ত জায়গা রেখে সবজি বাগাস ও ঈস-সুরপি পালন করতে হবে। নিয়মিত গাছে পানি দিতে হবে এবং সাংয়ে সাংয়ে সাটি আলগা করে দিতে হবে। শিশুরা সাধারণত বারান্দায় সেলাধুলা করে, তুই তাদের চলাচলের জায়গা রেখে বাগান করতে হবে। বারান্দা বা বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাপাস করলে পরিবেশও মনোরম হয়।
এ সকল বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রেখে লায়লার বারান্দা ও ভাস ব্যবহার করতে হবে
লায়লার বাড়িতে তার বান্ধবী বেড়াতে এসে বারান্দা ও ভাস অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে এর বস্তুমুদী ব্যবহারের কথা জানালেন।
বারান্দা ও ছাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাবার পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্য বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই নিজের বসবাসের জায়গা যে রকমই হোক না কেন একটু চিন্তা করে পরিকল্পনা করলেই গৃহ প্রাঙ্গণ, ছাদ ও বারান্দার উপযোগিতা বৃদ্ধি করা যায়। লায়লা তার বান্ধবীর কাছ থেকে বারান্দা ও ছাদের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। লায়লার বারান্দায় মাটির টবে গোলাপ, বেলি, গন্ধরাজ, অপরাজিতা, সন্ধ্যামালতি, মানি প্ল্যান্ট ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়। এই ধরনের গাছ বারান্দার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আবার ছিকা বা রডের স্ট্যান্ড তৈরি করেও টব রাখা যায়। বারান্দায় ফুল ছাড়াও শাক, সবজি যেমন-টমেটো, বেগুন, কাঁচামরিচ, লেবু, লেটুস পাতা, ক্যাপসিকামম, পুঁইশাক, পালং শাক ইত্যাদি চাষ করা যায়। এক্ষেত্রে লায়লাকে খেয়াল রাখতে হবে বারান্দার গাছে যেন পর্যাপ্ত রোদ লাগে। তাকে নিয়মিত গাছে পানি এবং প্রায়ই মাটি আলগা করে দিতে হবে।
পরিকল্পনা করে লায়লার ছাদে সবজি ও ফলের বাগান করা যায়। ছাদে যেসব গাছ লাগানো যায় তা হলো- কলম করা আম, পেয়ারা, ডালিম, পেঁপে, বরই, লিচু, কামরাঙা, জামরুল ইত্যাদি। সবজির মধ্যে লাউ, কুমড়া, শিম, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, পুঁইশাক, শশা, করলা, মরিচ, লেবু, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি গাছও লায়লা লাগাতে পারেন। এছাড়াও তিনি ছাদে হাঁস-মুরগি, কবুতর ও কোয়েল পাখি পালন করতে পারেন। লায়লার বান্ধবী তাকে উপরিউক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দিলেন।
বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বন তৈরির প্রক্রিয়াকে বনায়ন বলে।
গ্রাম বা শহরের বাড়িতে ফুল ও ফলের বাগান তৈরি করা যায়। বাড়ির আঙিনায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা যায়। এভাবে বাড়ির চারপাশে গাছপালা বা বাগান করার মাধ্যমে বাড়ি পরিবেশবান্ধব করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!