অনামিকার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রের মাঝে পাঠ্যবইয়ে উল্লেখিত রাম অবতারের পরিচয় পাওয়া যায়।
ঈশ্বর ত্রেতাযুগে রাম অবতার হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন। রাম অবতাররূপে তিনি দেখিয়েছেন যে, কীভাবে মানুষ হয়েও চরিত্রগুণে দেবতার স্তরে উন্নীত হওয়া যায়। কেননা, সেই সময় তিনি রাজা দশরথের বড় ছেলে হয়েও রাজ্য অভিষেকের দিনে মন্থরার পরামর্শে বিমাতা কৈকেয়ীর ষড়যন্ত্রে পিতৃসত্য পালনের উদ্দেশ্যে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। তাঁর সাথে ছোট ভাই লক্ষ্মণ এবং তাঁর স্ত্রী সীতাও বনবাসে যান। বনবাসকালে নানা ঘটনার মধ্যদিয়ে রাম লঙ্কারাজ রাবণের মতো দুর্বৃত্তদের দমন করে ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠা করেন যা অনামিকার স্বপ্নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
রাম অবতারের সাথে উদ্দীপকের অনামিকার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রের পুরোপুরি মিল রয়েছে। রাম, লক্ষ্মণ দুজন ছিলেন রাজপুত্র এবং রামের স্ত্রী সীতা বনবাসে গিয়েছিল। রাম সেখানে রাবণের মতো নর দুর্বৃত্তদের দমন করেছিল। তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, অনামিকার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রের মাঝে পাঠ্যবইয়ের রাম ধর্মাবতারের পরিচয় পাওয়া যায়।
Related Question
View Allঈশ্বরের পূর্ণ অবতার হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ।
'ঈশ্বর' শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রভু। তিনি শৃঙ্খলার সাথে জীব ও জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তিনি সকল শক্তি ও গুণের আধার। তিনি জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও পালনের একমাত্র কর্তা। তিনিই মৃত্যুর সীমায় জীবনকে বেঁধে দিয়েছেন। এভাবেই তিনি জীব ও জগতের ওপর প্রভুত্ব করেন।
অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় ঈশ্বরের সাকার রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকল প্রাণীর একজন স্রষ্টা রয়েছেন। যাঁকে আমরা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার তবে সাকার রূপও ধারণ করতে পারেন। ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি যখন রূপ বা আকার ধারণ করে সাকার হয়ে ওঠে এবং বিশেষ গুণ, শক্তি বা মহিমা প্রকাশ করে তখন তাঁকে দেবতা বা দেব-দেবী বলা হয়। অর্থাৎ দেব-দেবী ঈশ্বরের বিশেষ গুণ বা শক্তির সাকার রূপ। উদ্দীপকের অনিতা ও শিলাদেবী দুজনেই ঈশ্বরের সাকার রূপকেই পূজা করে। তারা মনে করে দেব-দেবীরা যেহেতু ঈশ্বরের অংশ, তাই তাদের সন্তুষ্ট করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।
অনিতা রানি ও শিলা দেবী দুজনেই তাদের পরিবারের সুখ-শান্তির জন্য পূজা করে থাকেন।
অনিতা রানি তার গৃহে লক্ষ্মীদেবীর বিগ্রহ স্থাপন করে নিয়মিত তার আরাধনা করেন। লক্ষ্মীদেবী হচ্ছেন ঈশ্বরের সাকার রূপ। তিনি ধনসম্পদের দেবী। পরিবারের, সচ্ছলতার জন্য তাই তিনি নিয়মিত লক্ষ্মীদেবীর পূজা করেন। তিনি জানেন লক্ষ্মীদেবী যেহেতু ঈশ্বরের অংশ, তাই তাঁকে সন্তুষ্ট করলে ঈশ্বরই সন্তুষ্ট হবেন। অপরদিকে অনিতা রানির প্রতিবেশী শিলাদেবী তার গৃহে গৌর-নিতাই-এর বিগ্রহ স্থাপন করে ভক্তি ভরে তাঁর পূজা করেন। গৌর নিতাই হচ্ছেন ঈশ্বরের অবতার। ঈশ্বর যখন বিশেষ উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে অবতরণ তখন তাকে অবতার বলা হয়। গৌর-নিতাই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য সর্বদা তৎপর। শিলাদেবী সংসারের নানা অপকর্মের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত গৌর-নিতাই-এর পূজা করে থাকেন।
তাই বলা যায়, অনিতা রানি ও শিলাদেবীর আরাধনায় বিগ্রহের ভিন্নতা থাকলেও তারা একই ঈশ্বরের পূজা করছেন কথাটি যথার্থ 'সত্য। কারণ লক্ষ্মীদেবী ও গৌর-নিতাই ঈশ্বরেরই সাকার রূপ। এসব সাকার রূপ আলাদা কিছু নয়। সব সাকার রূপ একই ঈশ্বরের বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র।
ঈশ্বর যখন নিজেই জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাকে জীবাত্মা বলা হয়।
ঈশ্বর হচ্ছেন এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া বিশ্বব্রহ্মান্ডে আর কিছু নেই।
দেব-দেবীগণ ঈশ্বরের সাকার রূপ। অনেক দেব-দেবী রয়েছেন। তারা সবাই ঈশ্বরের বিভিন্ন শক্তির প্রতিনিধি। কিন্তু ঈশ্বরের আকার নেই। ঈশ্বর নিরাকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
