অনুচ্ছেদের দেশটিতে অর্থাৎ নেপালে রাজা জ্ঞানেন্দ্র একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে বর্তমানে নেপালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক।
যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণ শাসনকার্যে পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। আবার নির্বাচিত সরকার জনগণের পক্ষে কাজ না করলে জনগণ নির্বাচন বা আন্দোলনের মাধ্যমে সেই সরকারের পতন ঘটাতে পারে। গণতন্ত্রে জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসক। এ শাসনব্যবস্থা জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয়। তাই বিশ্বের সর্বত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনপ্রিয় এবং অধিকাংশ দেশেই তা প্রচলিত রয়েছে।
গণতন্ত্র বর্তমান যুগে প্রচলিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং জনগণের কাছে দায়ী থাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। সরকারের সমালোচনা করতে পারে। প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় অংশ নিতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। এছাড়া গণতন্ত্র নমনীয় শাসনব্যবস্থা। জনগণ ইচ্ছে করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার পরিবর্তন করতে পারে। ফলে এখানে বিপ্লবের আশঙ্কা কম থাকে।
অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্রের বিপরীত 'শাসনব্যবস্থা। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় জনগণ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বর্তমান বিশ্বে কোনো রাষ্ট্র একনায়ককে সমর্থন করে না।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, একনায়কতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্যে নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। আর এ কারণেই প্রশ্নোক্ত, উক্তিটি সঠিক।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!