জলবায়ু পরিবর্তন
মানুষের প্রাণ-প্রকৃতি বিরোধী নানাবিধ কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর প্রত্যক্ষ প্রভাব আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর পড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা। আর তাপমাত্রা বৃদ্ধিও ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ইত্যাদির মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিই জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণায়নই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে 'উন্নয়ন'-এর নামে প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি পরিমাণে মারাত্মক ক্ষতিকর গ্যাস মজুদ হয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করছে। এসব গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর ক্রমেই ক্ষয় হচ্ছে। এ কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সহজেই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারছে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ গলে যাবে। ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গিয়ে নিম্নভূমির দেশসমূহ প্লাবিত হবে। তবে আশার কথা হলো জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ কারণে ১৯৭২ সালে স্টকহোমে প্রথম জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমাদের করণীয় বিষয়ে একাধিক 'ধরিত্রী সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে, চীন ২০৬০ সালের মধ্যে এবং ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের একদিকে মরুকরণ, অন্যদিকে বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলের যেমন নজর দেওয়া উচিত, তেমনিভাবে আমাদেরও উচিত নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের করালগ্রাস থেকে মুক্তির উপায় বের করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!