সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
আবহমানকাল থেকেই আমাদের দেশে নানা ধর্মের, নানা জাতির, নানান পেশার মানুষ বসবাস করে আসছে। মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এদেশের মানুষ শত শত বছর ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলছে। এদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বাঙালি হিন্দু-মুসলমান সংস্কৃতিও অনেকটাই কাছাকাছি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, আমাদের হাজার বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের যে ইতিহাস রয়েছে তাতে জাতিগত ভিন্নতা তেমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধেও এদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। জাতীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন আমাদের দীর্ঘকালের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তবুও বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে দেশি-বিদেশি শক্তি এ সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে। আজও সমাজের কিছু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো গর্হিত কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের হামলা তারই প্রমাণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু একটি দেশের ঐক্যরক্ষার জন্যই জরুরি নয়, বরং এটি সে দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। কেননা, নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি - সুখি, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!