“নারীর ক্ষমতায়ন”
ভূমিকাঃ এই পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই মহান সৃষ্টিকর্তা নারী ও পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবী সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বক্ত উন্নয়ন, সাধিত হয়েছে এতে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। মানুষ যতই সভা হচ্ছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ততই বেড়ে চলছে। তাই আজ বাংলাদেশ সহ বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থার নিয় তাকালে দেখতে পাই যে সর্বত্রই নারীর জয়গান। তাদের অংশগ্রহণ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্র ক্রমান্বয়ে উন্নতি শিখরে উঠছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশঃ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) ২০১৬ এর রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ১৪৪ দেশের মধ্যে ৭২তম। ২০১৫ সালে ছিল ৬৪তম। আর ২০১৪, ২০১৩, এবং ২০১২ সালে অবস্থান ছিল যথাক্রমে ৬৮, ৭ এবং ৮৬ তম। তবে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবার শীর্ষে।
রাজনৈতিক ক্ষমতায়নঃ বাংলাদেশ রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ২০১ প্রদত্ত রিপোর্টে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম। ২০০৬ সালে এর অবস্থান ছিল ১৭তম। গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র সভাপতি পদে নারী। রাজনীতির লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করে আঞ্চলিক নেতৃত্বে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ ওসেন ইন পার্লামেন্টস (WIP) গ্লোবা ফোরাম অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।
জাতীয় সংসদে নারীঃ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জাতীয় সংসদে নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ বিদে ৭৪তম। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সৈ সাজেদা চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ ৭০ জন নারী প্রতিনিধি রয়েছে। যার মধ্যে ২০ জন সরাস জনগণের ভোটে নির্বাচিত।
মন্ত্রীসভায় ও প্রশাসনে নারীঃ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী মন্ত্রীসভায় নারীর অবস্থানের দিক দিয়ে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২৪তম। নব্বই এর দশক থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে লিখিত জব (জানু-২১)-৫ মন্ত্রীসভার প্রধান অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নারী হয়ে আসছেন। বর্তমানে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় ৫ জন মারী রয়েছে। তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। প্রশাদ কর শীর্ষ পদে এ পর্যন্ত ১৮ জন নারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। যার মধ্যে ৭ জন বর্তমানে দায়িত্বরত। বর্তমানে সরকারি চাকুরীতে ২৭.৩৬% নারী রয়েছে। যা ২০১১ সালে ছিল ২২.৪০%। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রথম বারের মতো একজন নারী কমিশনার কবিতা খানম-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিশু একাডেমির মহাপরিচালকও নারী সেলিনা হোসেন।
বিচার বিভাগে নারীঃ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এ বর্তমানে নারী বিচারপতি রয়েছেন ৮ জন। যার মধ্যে একমাত্র আপিল বিভাগের নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান “নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলুপ্ত কমিটির (বিভো)" সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নারীঃ দেশের বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষপদে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক দীপা হাফিজা, পিআইবি'র ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা সুলতানা, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। দ্রুতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টি (ব্লাস্ট) এর নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) এর নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা উল্লেখযোগ্য।
পুরুষ নির্ভর অর্থনীতি, নিম্ন শিক্ষার হার, ধর্মীয় গোড়ামী, দুর্বল সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক বৈষম্য, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বড় বাধা। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপঃ
- সময়োপযোগী “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১” প্রণয়ন হয়েছে।
- সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০ এ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- মাতৃকালীন ছুটি ৪ থেকে ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারীর কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ার সেন্টার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- নারী শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ঋণ প্রদান এবং বিসিকের প্লটে নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬০% এবং সরকারি চাকুরীতে ১০% নারীর জন্য কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
- প্রশাসনের উচ্চ পদে নারীদের পদায়নের মাধ্যমে নারীদের উৎসাহ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
- নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
- সরকারি কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সেনসিটিভ বাজেট তৈরি হচ্ছে।
চতুর্থবারের মতো জার্মানির চ্যান্সেলর হয়েছেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হালিমা ইয়াকুব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন ২০১৭ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশের সরকার প্রধান যিনি পরপর জবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার নজির স্থাপন করেছেন।
উপসংহারঃ বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে যে সকল দেশ এগিয়ে, সে সকল দেশের সফলতার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। উচ্চ শিক্ষার হার এবং সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) ২০১৬ এর রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে শীর্ষে পাঁচটি দেশ যথাক্রমে আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ড। উক্ত রিপোর্টে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪টি দেশের মধ্যে ৭২তম। তবে আশার কথা হলো নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। নারীর ক্ষমায়তনে গুণগত দিক দিয়ে এগিয়ে ভারত। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিনা লাগার্দ বর্তমান বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
Related Question
View All"পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার"
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ব্যাপক আলোচিত ঘটনা যা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা মানব জাতিকে সতর্ক ও সচেতন হতে নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পরিবেশ দূষণ মানব সমাজে নিদারুন সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবেশ দূষণের ফলে শুধু মানব গোষ্ঠীই নয়, বরং সমস্থ জীবকূলের অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দূষণ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। পরিবেশে বিভিন্ন উপাদানে ক্ষতিকারক বস্তুর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিশিষ্ট বস্তুবিজ্ঞানী ওডামের মতে, “বায়ু, পানি, মাটি” ইত্যাদি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন মানব সভ্যতাকে অথবা কোন প্রজাতির জীবনকে সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বা করতে পারে, তাকেই দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদগুলো হলোঃ পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ।
পানি দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. পানিতে আবর্জনা, সার বা বিষাক্ত দ্রব্য না ফেলা।
২. উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহার।
৪. জমিতে সার বা কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. ধুমপানের ধোঁয়া, যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২. ওজোন স্তরে ছিদ্র হয়ে যে সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তা প্রতিরোধ করা।
৩. গ্রীণ হাউজ গ্যাসের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা।
৪. আবর্জনাকে ধরণ অনুযায়ী পৃথক করে জমা ও অপসারণ করা। ৫. জনগণকে বৃক্ষ রোপনে উৎসাহী করা।
শব্দ দূষণ রোধে করণীয় :
১. উচ্চস্বরে কথা/চিৎকার করা যাবে না।
২. জোরে গান বাজানো যাবে না।
৩. হাইড্রোলিক হর্ণ/ বোমাবাজি/ বিকট আওয়াজে স্লোগান ইত্যাদি করা
মাটি দূষণ মুক্ত রাখতে করণীয়:
১. প্লাস্টিকের ব্যাগ, পলিথিন পরিহার করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপন, পাহাড় ও উচ্চভূমি রক্ষা করতে হবে।
৩. কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৪. ইটের বিকল্পে ব্লক ইট ব্যবহার।
৫. পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
কারাগারের রোজনামচা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত একটি গ্রন্থ সংকলন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে ২০১৭ সালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির মহানায়ক গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীণ থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিন তিনি ডায়েরী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জেল- জীবনচিত্র এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো সেসব বিষয় যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে; ঠিক তেমনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা, গণমাধ্যমের অবস্থা, শাসক গোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ঘাতকতা, প্রকৃতি প্রেম, পিতৃ-মাতৃ ভক্তি, কারাগারে পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেছেন।
Rice is our main food. There is plenty of rice produced in our country. We all should work hard to reduce poverty. Excessive crop production is not possible without hard work. At present, we grow advanced varities of rice.
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!