সবুজ বিপ্লব
সবুজ বিপ্লব বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার এবং সেচের পানি ব্যবহারের মাধ্যমে গম, ধান, ভুট্টা প্রভৃতির উৎপাদনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অতি দ্রুত যে বিরাট সাফল্য অর্জিত হয়েছে তাকে 'সবুজ বিপ্লব' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এখানে বিপ্লব শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে দ্রুত পরিবর্তন অর্থে। এ পরিবর্তন এসেছে প্রচলিত পদ্ধতির চাষাবাদ থেকে অধিক উৎপাদনক্ষম নতুন প্রযুক্তির চাষাবাদে রূপান্তরের মাধ্যমে। এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে নিরবে-নিভৃতে, বিশ্বের অসংখ্য মানুষের ক্ষুধা নিবারণের জন্যে। বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়েছে ষাট-এর দশকে। তবে এর ব্যাপকতা এসেছে অনেক বিলম্বে, স্বাধীনতার পরে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি, বর্তমানে ২০২১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ের ব্যবধানে খাদ্য শস্যের উৎপাদন ১০ মিলিয়ন টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। তা কেবল সম্ভব হয়েছে সবুজ বিপ্লবের কারণে। উপরোক্ত তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত প্রায় ৪ দশকে দেশের খাদ্যোৎপাদন প্রায় ৩ গুণের অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ম্ভবরতার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছে। এভাবে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বকে ক্ষুধার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে সবুজ বিপ্লব। সবুজ বিপ্লব আরম্ভের প্রাক্কালে বাংলাদেশের কৃষক কদাচিৎ উন্নতমানের সার, কীটনাশক এবং আধুনিক সেচযন্ত্র ব্যবহার করত। অধিকাংশ কৃষক হাজার বছরের পুরানো চিরায়ত পদ্ধতির মাধ্যমে চাষাবাদ করত। সত্তরের দশকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাষণ পদ্ধতি প্রভৃতি প্রবর্তন করে। অতঃপর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাতের গম ও ধানের বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও সেচ সুবিধা কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এদেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। বর্তমানে ধান, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য শস্যের উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ও ধারণে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
সবুজ বিপ্লবের সুফলঃ
১. ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিঃ রাসায়নিক সার, কীটনাশক, উচ্চফলনশীল বীজ প্রভৃতি ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন অদ্ভূতপূর্ব বৃদ্ধি পায়।
২. কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিঃ প্রচুর পরিমান ফসল উদবৃত্ত হওয়ায় তা বাজারে বিক্রি করে কৃষকদের আয় হয়, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে।
৩. বহু ফসলি কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন আগে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে ফসল ফলাতে হত বলে বছরে একবার বীনার ফসল উৎপাদন হত। কিন্তু সবুজ বিপ্লবে জলসেচ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটায়, সেই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে স্বভাবতই ফসলের উৎপাদন অনেকটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসঃ নদী থেকে অসংখ্য খাল কেটে জলসেচ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটানো হয়। ফলে জমিতে সময় মতো প্রয়োজন অনুসারে জল সরবরাহ করা সম্ভব হয় । মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হয় না।
৫. অনাহারের পরিমান হ্রাসঃ সবুজ বিপ্লবের পূর্বে বাংলাদেশের বহু মানুষকে খাদ্যের অভাবে অনাহারে থাকতে হত। সবুজ বিপ্লবের ফলে ফসলের উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়, যার দ্বারা দেশের প্রায় সকল মানুষকে খাবার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
৬. দেশের আর্থিক উপার্জন বৃদ্ধিঃ উদ্বৃত্ত ফসল বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, যা দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে।
Related Question
View All"পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার"
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ব্যাপক আলোচিত ঘটনা যা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা মানব জাতিকে সতর্ক ও সচেতন হতে নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পরিবেশ দূষণ মানব সমাজে নিদারুন সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবেশ দূষণের ফলে শুধু মানব গোষ্ঠীই নয়, বরং সমস্থ জীবকূলের অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দূষণ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। পরিবেশে বিভিন্ন উপাদানে ক্ষতিকারক বস্তুর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিশিষ্ট বস্তুবিজ্ঞানী ওডামের মতে, “বায়ু, পানি, মাটি” ইত্যাদি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন মানব সভ্যতাকে অথবা কোন প্রজাতির জীবনকে সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বা করতে পারে, তাকেই দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদগুলো হলোঃ পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ।
পানি দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. পানিতে আবর্জনা, সার বা বিষাক্ত দ্রব্য না ফেলা।
২. উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহার।
৪. জমিতে সার বা কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. ধুমপানের ধোঁয়া, যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২. ওজোন স্তরে ছিদ্র হয়ে যে সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তা প্রতিরোধ করা।
৩. গ্রীণ হাউজ গ্যাসের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা।
৪. আবর্জনাকে ধরণ অনুযায়ী পৃথক করে জমা ও অপসারণ করা। ৫. জনগণকে বৃক্ষ রোপনে উৎসাহী করা।
শব্দ দূষণ রোধে করণীয় :
১. উচ্চস্বরে কথা/চিৎকার করা যাবে না।
২. জোরে গান বাজানো যাবে না।
৩. হাইড্রোলিক হর্ণ/ বোমাবাজি/ বিকট আওয়াজে স্লোগান ইত্যাদি করা
মাটি দূষণ মুক্ত রাখতে করণীয়:
১. প্লাস্টিকের ব্যাগ, পলিথিন পরিহার করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপন, পাহাড় ও উচ্চভূমি রক্ষা করতে হবে।
৩. কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৪. ইটের বিকল্পে ব্লক ইট ব্যবহার।
৫. পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
কারাগারের রোজনামচা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত একটি গ্রন্থ সংকলন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে ২০১৭ সালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির মহানায়ক গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীণ থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিন তিনি ডায়েরী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জেল- জীবনচিত্র এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো সেসব বিষয় যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে; ঠিক তেমনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা, গণমাধ্যমের অবস্থা, শাসক গোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ঘাতকতা, প্রকৃতি প্রেম, পিতৃ-মাতৃ ভক্তি, কারাগারে পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেছেন।
Rice is our main food. There is plenty of rice produced in our country. We all should work hard to reduce poverty. Excessive crop production is not possible without hard work. At present, we grow advanced varities of rice.
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!