অনেক নিয়েছ রক্ত, দিয়েছ অনেক অত্যাচার
আজ হোক তোমার বিচার।
তুমি ভাব, তুমি শুধু নিতে পারো প্রাণ
তোমার সহায় আছে নিষ্ঠুর কামান;
জানো নাকি আমাদেরও উষ্ণ বুক, রক্ত গাঢ় লাল,
পেছনে রয়েছে বিশ্ব, ইঙ্গিত দিয়েছে মহাকাল।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

'বাষ্প-শকট' শব্দের অর্থ হলো বাষ্প দ্বারা চালিত গাড়ি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

দিনে দিনে বহু বাড়িয়েছে দেনা- বলতে শ্রমজীবীদের প্রতি দীর্ঘ বঞ্চনাকে বোঝানো হয়েছে।

মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে লক্ষ-কোটি শ্রমজীবী মানুষের হাত ধরে। এদের শোষণ করেই ধনীরা হলো বিত্ত-সম্পদের মালিক। কিন্তু যুগ যুগ ধরে সমাজে এই কুলি-মজুররাই সবচেয়ে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। হৃদয়হীন স্বার্থান্ধ মানুষের কাছে এরা মূল্যহীন। যাদের অবদানে মানবসভ্যতা আজ অগ্রসর হয়েছে, তারাই দিনের পর দিন পেয়েছে সামান্য প্রতিদান। বঞ্চনার দেনা শুধু বেড়েই চলেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'কুলি-মজুর' কবিতার ঋণ শোধ করার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে।

'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি সভ্যতার অগ্রগতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান ও শোষক শ্রেণির দ্বারা শোষিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। শ্রমজীবী মানুষের হাতে গড়া সভ্যতায় ভোগবিলাসে মত্ত থাকে শোষকরা বা ধনিকশ্রেণি। তাদের অত্যাচার দিনে দিনে এমন জায়গায় গিয়ে পৌছায় যে কবি মনে করেন যেদিন শ্রমিক শ্রেণি জাগবে সেই দিন এই ঋণ তাদের শোধ করতে হবে। আর সেই শুভ দিন খুব তাড়াতাড়িই আসবে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যারা অনেক অত্যাচার করেছে, রক্ত ঝরিয়েছে তাদের বিচার হবে। কারণ অত্যাচারিত মানুষগুলোর বুক উত্তপ্ত, তাদের রক্তও গাঢ় লাল। তারা মহাকালের কাছ থেকে ইঙ্গিত পেয়েছে। মূলত উদ্দীপকে শ্রমজীবীদের জেগে ওঠার কথা প্রকাশ পেয়েছে, যা আলোচ্য কবিতার শুভ দিনের আগমন ও শ্রমজীবীদের উপর করা অত্যাচারের দেনা শোধ করার দৃঢ়প্রত্যয়কে ইঙ্গিত করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষের জেগে ওঠার প্রত্যয় ও তাদের মঙ্গল প্রত্যাশা করার দিক থেকে বলা যায় উদ্দীপকের কবির চেতনা 'কুলি-মজুর' কবিতার কবির চেতনার সমান্তরাল।

'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি শ্রমজীবীদের বন্দনা করেছেন। সমাজের ধনিক শোষক শ্রেণির বৈষম্যমূলক আচরণ তুলে ধরেছেন। সেই সাথে তিনি শুভ দিনের আগমন প্রত্যাশা করেছেন। তিন মনে করেন দিন দিন যেভাবে শোষকরা শ্রমজীবীদের উপর অন্যায়-অত্যাচার করেছে তাতে তাদের অনেক দেনা হয়েছে। যে দিন শ্রমিক শ্রেণি জাগবে সেদিন তাদের সব ঋণ শোধ করতে হবে।

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও মনে করেন দিন বদলাবে। যারা শ্রমজীবী মানুষদের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের রক্ত ঝরিয়েছে তাদের বিচার হবে। কারণ এ মানুষের বুকেও রয়েছে প্রতিশোধের আগুন। তাদের রক্তের রংও গাঢ় লাল। সমস্ত বিশ্বের শ্রমজীবীরা এক হয়েছে। তাই পরিবর্তন হবে এমন ইঙ্গিতই দিয়েছে মহাকাল। 'কুলি-মজুর' কবিতাতেও কবি এমন প্রত্যাশাই করেছেন।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়ই মনে করেন একদিন শ্রমজীবী মানুষ জাগবে। তখন তারা তাদের উপর হওয়া সব অন্যায়-অত্যাচারের ঋণ শোধ করে নেবে। তারা দুজনই এই মানুষদের জেগে ওঠার প্রত্যয় ও মঙ্গল প্রত্যাশা করেন। আর এ কারণেই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
92

কুলি-মজুর

কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,

কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিলে নিচে ফেলে!

চোখ ফেটে এল জল,

এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?

যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সাব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ? চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল!
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল তো এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা? ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!

আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু-পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!

(অংশবিশেষ)

Related Question

View All
উত্তরঃ

'শুধিতে হইবে ঋণ' কথাটির দ্বারা শ্রমজীবীদের শুভদিন আগমনের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

যুগে যুগে শ্রমিকদের শ্রমেই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা। তারাই সভ্যতার প্রকৃত রূপকার। কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগ সর্বদাই উপেক্ষিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি এসব শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করে বলেছেন যে তাদের জন্য শুভদিন আসছে। তাদের প্রতি ধনিকশ্রেণির জমে থাকা ঋণ শোধ করতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
641
উত্তরঃ

আজমল সাহেবের ছেলের আচরণে 'কুলি-মজুর' কবিতার ধনিকশ্রেণির দাম্ভিক মনোভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের বিনিময়ে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে বিশ্বসভ্যতা। তাদের শ্রম ও ত্যাগের ফলে পৃথিবীব্যাপী উন্নয়নের চাকা আজও সচল রয়েছে। তবুও তারাই সর্বদা অবহেলা, বঞ্চনার শিকার হয়েছে। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণে নিচু শ্রেণির মানুষের প্রতি অবহেলার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও তার ছেলে দাম্ভিক ও অত্যাচারী। সে বাড়ির কাজের লোক, আশপাশের দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তাদের সাথে কারণে-অকারণে খারাপ আচরণ করে। আলোচ্য 'কুলি-মজুর' কবিতায়ও দেখা যায় রেলস্টেশনে এক বাবু সাব এক কুলিকে ঠেলে মাটিতে ফেলে দেয়। এর মধ্য দিয়ে বাবু সাহেবের মধ্যে অত্যাচারী ধনিকশ্রেণির দাম্ভিক মানসিকতা লক্ষ করা যায়। এদিকটি উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণেও পরিলক্ষিত হয়। এ বিবেচনায় উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের মধ্যে আলোচ্য কবিতার বাবু সাহেবের দাম্ভিক ও অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
301
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করার প্রেক্ষাপট বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

শ্রমজীবী শ্রেণিই সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। ধনীদের আরাম-আয়েশের জন্য এসব শ্রমিক তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে। কিন্তু সে পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা মজুরি তো পায়-ই না বরং তাদের ভাগ্যে জোটে কেবল অন্যায় আর অবহেলা। এখন সময় এসেছে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়ার।

'কুলি-মজুর' কবিতাটি মূলত শ্রমজীবী মানুষের বন্দনাগাথা। এ কবিতায় কবি খেটে খাওয়া মানুষের জয়গান গেয়েছেন। যুগ যুগ ধরে শ্রমজীবীদের ত্যাগের মহিমায় রচিত হয়েছে সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাস। কিন্তু সেই শ্রমের মর্যাদা তারা কখনোই পায়নি। তাই কবি মনে করেন সভ্যতার প্রকৃত রূপকার এই শ্রমিকদের এখন জেগে ওঠার দিন এসেছে। তারা আজ নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। তাই কবি তাদের জয়গান গেয়েছেন, বন্দনা করেছেন তাদের অবিস্মরণীয় অবদানের।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব 'কুলি-মজুর' কবিতার কবির মতোই একজন সচেতন মানুষ। তার ছেলে দরিদ্র-শ্রমজীবী মানুষদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তা দেখে তিনি ছেলেকে ডেকে বুঝিয়ে বলেন, আজ আমরা যে সুন্দর ও বিলাসী জীবনযাপন করি তার মূলে রয়েছে সমাজের নিচু স্তরের খেটে খাওয়া মানুষের অসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে 'কুলি-মজুর' কবিতার কবি যেভাবে শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করেছেন, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের কথায়ও সেই একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাব 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিফলন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
265
উত্তরঃ

শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে কবি প্রদত্ত উত্তটি করেছেন। 'কুলি-মজুর' কবিতায় কবি কলম ধরেছেন মানুষের অধিকারের পক্ষে। কবিতায় তিনি শ্রমজীবী কুলি-মজুরদের দধীচিমুনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। যাদের রক্ত, ঘামে সভ্যতার বিকাশ, তারাই আজ অবহেলিত। তাদের শ্রমের উপর ভর করে যারা ধনী হয়েছেন, তারাই সব সুবিধাভোগী। লেখক তাই এসব স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী মহলের মুখোশ উন্মোচন করে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
280
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews