যে অনুমান প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে।
অবরোহ অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। যেমন-
সকল ফুল হয় সুন্দর।
সকল গোলাপ হয় ফুল।
সকল গোলাপ হয় সুন্দর।
অনুমানের সিদ্ধান্তটি কখনো আশ্রয়বাক্য থেকে ব্যাপক হয় না। অবরোহ অনুমানে সার্বিক বাক্য থেকে বিশেষ বাক্যে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। উপরোক্ত দৃষ্টান্তে দেখা যাচ্ছে যে, দুটি আশ্রয় বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের সুপ্ত ব্যঞ্জনা স্পষ্ট রূপ লাভ করে। অমাধ্যম অনুমানের সংজ্ঞা হতে আমরা পাই যে অনুমানে একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় মূলত সেটিই হলো অমাধ্যম অনুমান। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
কোন মানুষ নয় অমর।
উপরের উদাহরণে একটি আশ্রয় বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে। অমাধ্যম অনুমানে দ্বিতীয় কোনো আশ্রয় বাক্যকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। আর এটি একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে নিঃসৃত হয়। অমাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্ত বাক্য গঠনগতভাবে আশ্রয়বাক্য থেকে ভিন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বিরোধী অর্থ প্রকাশ করে না। সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি নিঃসৃত হয়। এখানে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ পরিবর্তিত হয়ে সিদ্ধান্তে অবস্থান করে।
এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে না। আর A কারণে বলা যায় যে অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয় বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থ সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়।
আমরা জানি অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য হতে সরাসরি সিদ্ধান্তে নিঃসৃত বা অনুমিত হওয়াই হলো অমাধ্যম অনুমান।
বিভিন্ন মাধ্যমে একটি আশ্রয়বাক্যের মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো আবর্তন ও প্রতিবর্তন। যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে বিধিসঙ্গতভাবে কোনো আশ্রয় বাক্যের উদ্দেশ্যে স্থলে তার বিধেয়কে এবং বিধেয় এর স্থলে উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় তাকে 'আবর্তন' বলে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
কিছু মরণশীল প্রাণী হয় মানুষ।
অর্থাৎ, আবর্তনে সত্যমানকে অপরিবর্তিত রেখে একটি আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন করে নতুন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছা হয়। আবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে বলা হয় 'আবর্তনীয়' এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় 'আবর্তিত'।
আবার প্রতিবর্তন এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদকে অপরিবর্তিত রেখে গুণগত পরিবর্তন করে আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাকে 'প্রতিবর্তন' বলে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
কোনো মানুষ নয় অমরণশীল।
প্রতিবর্তনে সদর্থক যুক্তিবাক্যের নঞর্থক করা হয় এবং নঞর্থক যুক্তিবাক্যের সদর্থক করা হয়। প্রতিবর্তনে আশ্রয়বাক্যকে বলা হয় 'প্রতিবর্তনীয়' এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় 'প্রতিবর্তিত'।
Related Question
View Allযে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে বিধিসঙ্গতভাবে কোনো আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্যের স্থলে তার বিধেয়কে এবং বিধেয়ের স্থলে তার উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত করা হয় তাই হলো আবর্তন।
সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থে ব্যবহৃত পদ ব্যাপ্য পদ হয়। মূলত পদের ব্যাপ্যতা হলো পদের প্রসারতা। একটি পদ কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার পর সে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে তার দ্বারা সে 'পদের ব্যাপ্যতা' নির্ণয় করা হয়। কোনো পদ যখন তার সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করে কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে 'পদের ব্যাপ্যতা' বলে। যেমন- 'সকল দার্শনিক হন জ্ঞান, এখানে দার্শনিকের সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। এজন্য দার্শনিকের দার্শনিক পদটি ব্যাপ্য পদ।
উদ্দীপকের ৩নং বক্সে O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন নির্দেশিত হয়েছে। O-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে যে বিধেয় পদ অস্বীকার করে তাকে বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকে দেওয়া আছে যে-
কিছু A নয় B
কিছু B নয় A
মূলত O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়। যেহেতু O-যুক্তি বাক্যটি একটি নঞর্থক বচন, সে কারণে তার আবর্তিতকেও হতে হবে নঞর্থক। অর্থাৎ আবর্তিতকে E বা O হতে হবে। কিন্তু ০-এর আবর্তিত E বা O হতে পারে না, E বা O- হলে আবর্তনের ৪র্থ নিয়ম লঙ্ঘন হয়। অর্থাৎ আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। উপরের উদাহরণে O-আবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য হিসেবে পদটি পূর্ণব্যাপ্ত হয়নি, অথচ সিদ্ধান্তে -বাক্যের বিধেয় হিসাবে পূর্ণব্যাপ্ত হয়ে আছে। কারণ পদের ব্যাপ্ততার নিয়ম অনুসারে বিশেষ বাক্যের উদ্দেশ্য পদ আংশিক ব্যাপ্য হলেও O-বাক্যের বিধেয় পদ যথাসময় পূর্ণব্যাপ্য হয়। সুতরাং ৩নং বক্সের যুক্তিবাক্য O-যুক্তি বাক্যের আবর্তন হয়েছে। অথচ O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে ২নং বক্সের মতো ১নং বক্সের আবর্তন করলে অনুপপত্তি হতে পারে। ২নং বক্সের যুক্তিবাক্যটি একটি E-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য এবং ১নং বক্সের যুক্তিবাক্যটির সম্পূর্ণরূপ হবে।
A- সকল A হয় B
A- সকল B হয় A
উক্ত যুক্তিবাক্যটি A-যুক্তিবাক্য হবে বা সার্বিক সদর্থক। A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি। উপর্যুক্ত যুক্তিটি আবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ আবর্তিতে এসে ব্যাপ্য হতে পারবে না। আলোচ্য যুক্তিটিতে B পদটি আবর্তনীয় A বাক্যের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অব্যাপ্য হয়েছে এবং আবর্তিত A-বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যাপ্য হয়েছে। এটি আবর্তনের নিয়ম বিরোধী। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী A-বাক্য আবর্তন করলে আমরা 1 বাক্য পাই। অর্থাৎ A-বাক্যের আবর্তন হচ্ছে অসরল আবর্তন। কিন্তু আলোচ্য দৃষ্টান্তে A-বাক্যের সরল আবর্তন করায় পদের ব্যাপ্যতা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখা দিয়েছে। সুতরাং যুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ। এটি একটি অবৈধ আবর্তন। এতে A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। E-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটে না। কারণ E- কে আবর্তন করলে E পাওয়া যায়। সুতরাং ২নং বক্সে অনুপপত্তি না ঘটলেও ১নং-এ অনুপপত্তি ঘটেছে।
সংস্থান চার প্রকার। যথা- ১. প্রথম সংস্থান, ২. দ্বিতীয় সংস্থান, ৩. তৃতীয় সংস্থান এবং ৪. চতুর্থ সংস্থান।
সহানুমানের যে পদ আশ্রয় বাক্যে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না সেটিই হলো মধ্যপদ। মধ্যপদের ভূমিকা সহানুমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সকল ছাত্র হয় মানুষ।
সকল ছাত্র হয় মরণশীল।
এখানে 'মানুষ' পদটি মধ্যপদ। আর এটি আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সেতু হিসাবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!