যুক্তফ্রন্ট হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরে নাম হয় আওয়ামী লীগ), কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি এবং বামপন্থী গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৪ সালে গঠিত একটি রাজনৈতিক জোট।
পাকিস্তানি শাসকচক্রের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে সংঘটিত বাংলার মানুষের তীব্র আন্দোলনই উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। ১৯৬৮ সালের নভেম্বরের ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
সব শ্রেণির বাঙালির মধ্যে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পদত্যাগ। তবে শিল্প শ্রমিক এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের পেশাজীবীদের কাছে এটি ধীরে ধীরে পাকিস্তানীদের শোষণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এ অভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সর্ববৃহৎ গণজাগরণ। এর মধ্য দিয়ে আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটেছিল।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানি সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য আছে।
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ থাকায় দেশটির সংবিধান তৈরি করতে দীর্ঘ ৯ বছর লেগে যায়। দীর্ঘদিন পর সংবিধান তৈরি হলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় তা বাতিল হয়ে যায়। পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের ঘটনার সাথে উদ্দীপকের প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার গঠনতন্ত্র তৈরিরও মিল পাওয়া যায়।
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৪৯ সালে 'আদর্শ প্রস্তাব' গ্রহণ করে। এছাড়া সংবিধানের মূলনীতি নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটি তিনজন প্রধানমন্ত্রীর সময়কালে তিনটি রিপোর্ট তৈরি করে। তবে কোনো রিপোর্টই আলোর মুখ দেখেনি। তাছাড়া ঐ সময়ে গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ অযাচিতভাবে গণপরিষদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে থাকেন। ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে গণপরিষদ বাতিল করেন। ১৯৫৫ সালের মে মাসে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি গণপরিষদে 'সংবিধান বিল' উত্থাপিত হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে তা পাস হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে এ সংবিধান কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অনেক স্বপ্ন নিয়ে 'প্রত্যাশা' সমাজকল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বশীলদের মধ্যে মতভেদ থাকায় সংস্থাটির কোনো গঠনতন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন পর একটি গঠনতন্ত্র তৈরি হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল হয়ে যায়। উদ্দীপকের এ সংস্থাটির গঠনতন্ত্র তৈরির সাথে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের স্পষ্ট সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা অর্থাৎ ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের দীর্ঘসূত্রিতা এবং তা অল্পসময়ের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যাওয়ার মূলে ছিল 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অমিল'।
জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি অংশ ছিল পশ্চিম পাকিস্তান এবং অন্যটি ছিল পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ)। এ দুই অন্যলের মধ্যে প্রায় ১২০০ মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব (ভারতের ভূখণ্ড) ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই অঞ্চলদ্বয়ের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক অমিল লক্ষ করা যায়। ইসলাম ধর্মের বন্ধন ছাড়া দুই অংশের অধিবাসীদের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাকপরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস এসব দিকে প্রায় কোনোই মিল ছিল না। পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পর পরই দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে রাষ্ট্র ভাষার প্রশ্নে মতবিরোধ দেখা দেয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ বাঙালি হলেও উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু হয়। এ ছাড়া লাহোর প্রস্তাবের আলোকে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রদেশগুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন পাকিস্তান সরকার প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকামী ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের পক্ষাবলম্বনকারীদের মধ্যে বিরোধের ফলে গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়নে দীর্ঘ সময় নিতে বাধ্য হয়।
কেন্দ্রীয় আইনসভায় বিভিন্ন প্রদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি ছিল পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয়। মূলনীতি কমিটির প্রথম রিপোর্টে পূর্ব বাংলাকে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে কমসংখ্যক আসন দেওয়া হয়। এ কারণে বাঙালি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।
সবশেষে বলা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, রাষ্ট্রের দুই অংশের মধ্যকার ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক দূরত্ব এবং অমিল পাকিস্তানের গঠনতন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। যার ফলে সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
শাসন বিভাগ বলতে বোঝায় সরকারের সে বিভাগকে যে বিভাগ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে শাসন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসন বিভাগই সরকারের আসল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। শাসন বিভাগের কাজ হলো আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করা।
উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য বৃয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। উত্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশের মধ্যে পিপিপি মোট ৮৩টি আসন পায়। আওয়ামী লীগের এ বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি ছড়িয়ে দেয়। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ঘ' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আমার পঠিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন বস্তুতপক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির স্বাধিকার এবং মুক্তি লাভের দাবিরই বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ভাষেেণ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরগুলোতে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রকৃতই পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটায়।
ছয়দফা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত বাঙালির অধিকার আদায়ের ৬টি দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি।
যুক্তফ্রন্ট বলতে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি রাজনৈতিক জোটকে বোঝায়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ জোট চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত হয়। দলগুলো হলো- আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!