দ্বিকোটিক বিভাগে এক জোড়া বিরুদ্ধপদ ব্যবহৃত হয় ।
যৌক্তিক বিভাগের মধ্য দিয়ে মানুষের মননশীল ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে। কারণ যখন কোনো জাতিকে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করা হয়, তখন সেই জাতি ও তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা অবগত হতে পারি এবং এদের সম্বন্ধে নতুন নতুন ধারণা গঠন করতে পারি। আর এভাবেই মানুষের চিন্তাধারা মননশীল হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অন্তরঙ্গ সমাজকল্যাণ পরিষদের জরিপে শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম-৪ লঙ্ঘিত হয়েছে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো-
নিয়ম-৪: In a Logical Division, the sub-classes must not overlap, but must be mutually exclusive. অর্থাৎ যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর প্রকৃতি এমন হতে হবে, যেন এরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে না যায়। আর যদি এদের মধ্যে মিশ্রণ ঘটে, তাহলে বিভাগ ভ্রান্ত হবে। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে সৎ ও অসৎ- এ দুটি উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হলে উপশ্রেণি দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকে। বস্তুত যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে আলোচ্য নিয়মটির লঙ্ঘন ঘটলে বিভাগে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ নামে একটি অনুপপত্তির উদ্ভব ঘটে, অর্থাৎ বিভাগের ক্ষেত্রে একটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে যদি এমনভাবে বিভক্ত করা হয়, এর অন্তর্ভুক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র বা বিচ্ছিন্ন না থেকে বরং একে অপরের সাথে মিশে যায়, তাহলে যৌক্তিক বিভাগে যে ভ্রান্তির সৃষ্টি হয় তাকে বলে 'পরস্পরাজী বিভাগ অনুপপত্তি'। বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত একই সাথে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করা হলে বিভাগের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ভুলের সৃষ্টি হয়। কারণ এরূপ ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মধ্যে এমনভাবে মিশ্রণ ঘটে, সেগুলোকে তাদের মূলসূত্র অনুযায়ী আর পৃথক করা যায় না। যেমন: মানুষ শ্রেণিটিকে একই সাথে 'সততা' ও 'সুখ' মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ থেকে প্রাপ্ত উপশ্রেণিগুলো আর বিচ্ছিন্ন থাকে না; বরং এরা পরস্পরের অঙ্গীভূত হয়ে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তির উদ্ভদ্ধ ঘটায়। কারণ একই মানুষ সৎ হিসেবে সুখীও হতে পারে আবার অসুখীও হতে পারে। একইভাবে মানুষ সুখী হিসেবে একই সাথে সৎ ও হতে পারে, আবার অসৎও হতে পারে।
সর্বোপরি, একই মানুষ একই সাথে সৎ ও সুখী উভয়ই হতে পারে। আর এভাবেই বিভাজন-প্রক্রিয়ায় আলোচ্য ভ্রান্তির উদ্ভব ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অন্তরঙ্গ সমাজকল্যাণ পরিষদের কাজে যৌক্তিক বিভাগের বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে এই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। সেই নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরাঙ্গী বিভাগের অনুপপত্তি তৈরি হয়। নিচে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগের একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'পরস্পরাঙ্গী বিভাগ', যার উদ্ভদ্ধ ঘটে বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়ম অনুযায়ী, যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোকে পরস্পর বিচ্ছেদক হতে হবে। কিন্তু একটি জাতি বা শ্রেণিকে যদি একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এর অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র বা বিচ্ছিন্ন না থেকে বরং একে অপরের সাথে মিশে যায়। আর এরূপ ক্ষেত্রেই উদ্ভব ঘটে আলোচ্য ত্রুটিপূর্ণ বিভাগের। বস্তুত এ ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মধ্যে এমনভাবে মিশ্রণ ঘটে যে সেগুলোকে তাদের মূলসূত্র অনুযায়ী আর পৃথক করা যায় না। যেমন: 'মানুষ' শ্রেণিকে একই সাথে 'সততা' ও 'সুখ' মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ থেকে প্রাপ্ত উপশ্রেণিগুলো বিচ্ছিন্ন না থেকে পরস্পরের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ে। কারণ একই মানুষ সৎ হিসেবে সুখী হতে পারে আবার অসুখীও হতে পারে। একইভাবে মানুষ সুখী হিসেবে সৎ হতে পারে আবার অসৎও হতে পারে। আর এরূপ ক্ষেত্রে বিভাজন প্রক্রিয়াটি পরিণত হয় 'পরস্পরাঙ্গী বিভাগ' নামক ভ্রান্ত বিভাগে। কাজেই ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য বিভাজন প্রক্রিয়াকে এমনভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণি থেকে প্রাপ্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো সম্পূর্ণরূপে পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকে।
Related Question
View Allকোনো নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর উপশ্রেণিসমূহে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।
যৌক্তিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তার কিছু ক্ষেত্র এখানে তুলে ধরা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্তর্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাই।
⇨ বৃহত্তর জাতির অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাই।
⇨ সহজেই কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ণয় করা সম্ভম্ব হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
⇨ মানুষের মননশীল ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে।
উদ্দীপকে বাবা যৌক্তিক বিভাগের যেসব নিয়মের কথা ইঙ্গিত করেছেন তা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়।
⇨ একই সময় একটি মাত্র মূলসূত্র ব্যবহার করে একটি পদকে বিভক্ত করতে হয়।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণির মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ হবে।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে।
⇨ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির নাম বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিসমূহের প্রত্যেকের উপর প্রযোজ্য হবে।
⇨ বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তিসমূহকেই ইঙ্গিত করছে। বিভাজন প্রক্রিয়ায় যে নিয়মসমূহ রয়েছে, তা লঙ্ঘন করলে যেসব অনুপপত্তির সৃষ্টি 'হয় তা হলো-
অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি : জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের পরিবর্তে একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বিভক্ত করা হলে উপশ্রেণির উপর প্রযোজ্য না হলে এই অনুপপত্তিগুলো ঘটে। যেমন: একটি গাছকে মূল, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদি অংশে বিভক্ত করা হলে একে অঙ্গগত বিভাগ এবং যদি ফুলকে গন্ধ, বর্ণ, সৌন্দর্য ইত্যাদি বিশিষ্ট গুণে বিভক্ত করা হয়, তাহলে একে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
সংকর বিভাগ : একই সময় একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হলে এই অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে একই সাথে বর্ণ ও উচ্চতা-এ দুটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ ক্ষেত্রে 'লম্বা ও ফর্সা মানুষ' এবং 'বেঁটে ও কালো মানুষ' দুই শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, যা সঠিক বিভাজন নয়। কারণ এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা লম্বা কিন্তু ফর্সা নয়; আবার এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা লম্বা নয় কিন্তু ফর্সা। কাজেই এ ক্ষেত্রে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
পরস্পরাঙ্গী বিভাগ : জাতি বা শ্রেণিকে যদি একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এর অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র বা বিচ্ছিন্ন না থেকে বরং একে অপরের সাথে মিশে যায়। আর এ ক্ষেত্রে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অব্যাপক বিভাগ ও অতিব্যাপক বিভাগ: যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ না হয়ে যদি কম হয়, তাহলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি এবং যদি ব্যক্তর্থ বেশি হয় তবে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ: বিভাজন প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর না হয়ে যদি মধ্যবর্তী কোনো স্তরকে বাদ দিয়ে বিভাজন করা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে জাতি বা শ্রেণির পরিবর্তে কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং বিভিন্ন গুণে বিভক্ত করা হলে সৃষ্ট অনুপপত্তির নাম হচ্ছে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ।
যৌক্তিক বিভাগ অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভিন্নধর্মী বিভাগ প্রক্রিয়া; কারণ এরা হচ্ছে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। এদের সাথে যৌক্তিক বিভাগের পার্থক্য হলো-
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কেবল জাতি বা শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য, কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। আর অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ লৌকিক পদ্ধতি।
⇨ যৌক্তিক বিভাগে নির্দিষ্ট একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে নির্দিষ্ট কোনো মূলসূত্র ব্যবহার করে না।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়ম পালন করে। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে কোনো নিয়ম নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!