কবি পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে দল বেঁধে খেলতে চান।
কবি ফুলের মালা গেঁথে বিভোল পল্লিবালা যে ঘাটে কলস ভরতে যায় সেখানে রেখে আসবেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিপ্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছেন। তিনি পল্লিগ্রামের গাছের শাখা দুলিয়ে মনের ইচ্ছামতো ফুল পাড়বেন। পল্লিগ্রামের এই বিচিত্র সুন্দর ফুল দিয়ে তিনি মালা গাঁথবেন। কবির গাঁথা মালা তিনি ঘাটে রেখে আসবেন। কবি কল্পনা করেছেন, পল্লিবালা-সেই মালা কে রেখে গেছে এটা ভাবতে ভাবতে মালাটি কুড়িয়ে নেবে এবং গলায় পরবে।
পল্লিগ্রামের চিত্র বর্ণনা এবং প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ও 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
পল্লিগ্রামের শাশ্বত চিত্র সবাইকে মুগ্ধ করে। শহুরে মানুষকে পল্লিপ্রকৃতি যেমন হাতছানি দিয়ে ডাকে; পল্লি বালক সেই অকৃত্রিম প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠে এবং পল্লিকে ভালোবেসে পল্লির রূপসুধা পান করে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন, প্রকৃতি যাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ, সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। ষরু সুতার মতো বাঁকা দীর্ঘ পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি সেই পথে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন। ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল তুলবেন। সন্ধ্যা নামলে, আঁধার ঘনিয়ে এলে নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লি-দুলালের সাথে পল্লিমায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করবেন। উদ্দীপকের অপু তার গাঁয়ের তেলে-জলেই মানুষ। গাঁয়ের বকুলতলা, গোঁসাইবাগান, চালতেতলা, নদীর ধার এসবই সে দেখে আসছে যা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের উৎস। সে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গরমে বিকেলে নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকে। এই যে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া এই দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'অপু' 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার পল্লি-দুলালের প্রতিনিধিত্ব করে।
এদেশের পল্লিগ্রামে বেড়ে ওঠা বালকেরা প্রকৃতির এক অকৃত্রিম মায়াময় পরিবেশে বড় হয়। গ্রামের মেঠোপথ, নদী, গাছপালা মায়া-মমতায় জড়িয়ে রাখে তাদের।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লি-দুলাল বলতে পল্লিগ্রামের আদরের ছেলেকে বুঝিয়েছেন, যে পল্লির আলো-বাতাসেই বেড়ে উঠেছে। কবি তার সাথেই তার পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেখানে তিনি পল্লি-দুলালের গ্রামের রূপের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। যেখানে গ্রামবাংলার এক অপূর্ব ছবি দেখা যায়। সেই গ্রামকে ঘিরে রেখেছে প্রকৃতি, আর সেই প্রকৃতির ঘিরে রাখা মাঠ, বন এসবেই সে বেড়ে উঠেছে। যেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। সেখানে সরু সুতার মতো পথ; সেই পথের রূপ দেখেই বেড়ে উঠেছে পল্লি-দুলাল। উদ্দীপকেও অপুকে দেখা যায় জন্ম অবধি কোথাও যায়নি। গাঁয়ের বকুলতলা, গোঁসাইবাগান, চালতেতলা, নদীর ধার, বড়জোর নবাবগঞ্জ পর্যন্ত অবলোকন করেছে সে। গ্রামের বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রচন্ড গরমে সে দিদির সাথে বিকেলে নদীর ঘাটে হাঁটতে যায়।
উদ্দীপকের 'অপু' পল্লিপ্রকৃতিতে বেড়ে উঠেছে। এমনকি নিজ গ্রামের বাইরে পর্যন্ত যায়নি। তাই সে একজন অকৃত্রিম পল্লি-দুলাল। 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি এমন পল্লিতে বেড়ে ওঠা একজন পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়,' পল্লিতে বেড়ে ওঠা এবং গ্রামের প্রকৃতি চিত্রণের দিক থেকে অপু পল্লি-দুলালের প্রতিনিধিত্ব করে।
Related Question
View All'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটি লিখেছেন কবি জসীমউদ্দীন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে পথে কদমকলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন এবং সেই সূত্রে পল্লিগ্রামের চিত্র এঁকেছেন। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন কবিকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে ধান-কাউনের খেতের ভিতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথ নানা মাঠ ও বন পেরিয়ে গাঁয়ের ছায়াময় পথে মিশেছে। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।
উদ্দীপকে শহুরে দুই বন্ধুর গ্রাম দেখার যে ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে আমার পাঠ্য পুস্তকের 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
গ্রাম মানুষের প্রিয়। শহুরে মানুষকে গ্রাম চিরদিন হাতছানি দিয়ে ডাকে। গ্রামের অনাবিল নির্মল প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের মনে শান্তি আনে। তাই গ্রামে যাওয়ার জন্য শহুরে মানুষ আকুল হয়।
উদ্দীপকে শহরের দুই বন্ধু শফিক ও আশিক গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের গ্রামের বন্ধু শাহেদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা বইয়ের পাতায় পড়েছে, টেলিভিশনে দেখেছে, কিন্তু কখনো সশরীরে গ্রামে যায়নি। তাদের ভালো লাগা ও যাওয়ার ব্যাকুলতা আরও বেড়ে যায় ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনার বর্ণনা শুনে। শহুরে এই দুই বন্ধুর ব্যাকুলতা ধরা পড়ে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার মধ্যে। কবি সেই গ্রামে যেতে চান যেখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতোর মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথে কবি গ্রামে যেতে চান, সেখানে দস্যি বা দুরন্ত ছেলেদের সাথে খেলতে চান, ধলদিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল আনতে চান। এমন ইচ্ছা ও ব্যাকুলতা উদ্দীপকের শহুরে দুই বন্ধুর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের যে নয়নাভিরাম বর্ণনা করেছেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবিও তেমনই এক পল্লি বা গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন।
মানুষ সব সময় প্রকৃতি ও গ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাস করলেও গ্রামের মনোমুগ্ধকর রূপ সর্বদাই মানুষকে টানে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেই পল্লিগ্রামটিকে প্রকৃতি যেন ঘিরে রেখেছে। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে, ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ চলে গেছে। কবি সেই পথে গ্রামে গিয়ে দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন, দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। অজানা ফুলের রূপে মুগ্ধ হবেন। উদ্দীপকেও এমন সৌন্দর্যময় একটি গ্রামের বর্ণনা করেছে শাহেদ।
উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের নয়নাভিরাম এক বর্ণনা দিয়েছেন। তার গ্রামের বনবনানী, ফুল, পাখি, দিঘি, শাপলা, মেঠোপথ, ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা ইত্যাদির নয়নাভিরাম বর্ণনা শুনে তার শহুরে দুই বন্ধু গ্রামে আসার জন্য ব্যাকুল হয়। এমনই নয়নাভিরাম গ্রামের বর্ণনা পাওয়া যায় 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায়।
বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।
ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে যে দীর্ঘ সরু সুতার মতো বাঁকা পথ গেছে কবি সেই পথ দিয়ে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পলিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবি পল্লিগ্রামে যাওয়ার পথ কল্পনা করেছেন। কবির কল্পনার সেই পথকে হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন। সেই পথ কোথাও সিধা কোথাও বাঁকা। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি এই পথে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!