সুখ
কামিনী রায়
নাই কিরে সুখ? নাই কিরে সুখ?-
এ ধরা কি শুধু বিষাদময়?
যাতনে জ্বলিয়া কাঁদিয়া মরিতে
কেবলি কি নর জনম লয়?-
বল ছিন্ন বীণে, বল উচ্চৈঃস্বরে-
না, না, না, মানবের তরে
আছে উচ্চ লক্ষ্য, সুখ উচ্চতর
না সৃজিলা বিধি কাঁদাতে নরে।
কার্যক্ষেত্র ঐ প্রশস্ত পড়িয়া
সমর-অঙ্গন সংসার এই,
যাও বীরবেশে কর গিয়া রণ;
যে জিনিবে সুখ লভিবে সে-ই।
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ;
'সুখ' 'সুখ' করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।
Related Question
View Allজীবনে সফলতা অর্জনের জন্য অনেক সংগ্রাম ও সংকট মোকাবিলা করতে হয় বলে সংসারকে সমর-অঙ্গন বলা হয়েছে।
সব মানুষই জীবনে সুখী হতে চায়। কিন্তু সুখ সহজে ধরা দেয় না। এর জন্য নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়। অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা সহ্য করে, সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই সুখ অর্জিত হয়। এ কারণেই সংসারকে সমর-অঙ্গন বলা হয়েছেন।
উদ্দীপকের জামিল 'সুখ' কবিতায় বর্ণিত অন্যের উপকারের মধ্যে নিজের সুখ নিহিত- সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছে।
মানুষ স্বার্থপরভাবে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে, অন্যের ক্ষতি করে হলেও নিজের সুখের আশায় ধনসম্পদ বাড়াতে থাকে। কিন্তু মানুষের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই আসলে প্রকৃত সুখ নিহিত।"
'সুখ' কবিতায় কবি প্রকৃত সুখী হওয়ার উপায় ব্যাখ্যা করেছেন। 'কবি মনে করেন, পরের কল্যাণার্থে মরণ হলেও তাতে সুখ রয়েছে। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য এ পৃথিবীতে কেউ আসেনি। কবির সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটিই উদ্দীপকে জামিলের মধ্যেও দেখা যায়। উদ্দীপকের জামিল শুধু নিজের সুখ নিয়েই ব্যস্ত নন। পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে তিনি এগিয়ে যান। অন্যের উপকার করার মধ্যেই তিনি সুখ খুঁজে পান।
"আলিমের সুখ প্রকৃত সুখ নয়।"- 'সুখ' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
এ. পৃথিবীতে কিছু মানুষ সুখের আশায় ধন-সম্পদের পরিমাণ বাড়াতেই থাকেন, কিন্তু সুখ খুঁজে পান না। অন্যদিকে যেসব ব্যক্তি শুধু - নিজেদের চিন্তায় মগ্ন না থেকে অন্য সবার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রকৃত সুখ খুঁজে পান।
উদ্দীপকের আলিম প্রবাসে গিয়ে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে দেশে ফিরেছেন, বাড়ি-গাড়ি সবই করেছেন, নিজের সুখের সব ব্যবস্থাই করেছেন। কিন্তু এটাকেই প্রকৃত সুখ বলা যায় না। 'সুখ' কবিতায় কবি বলেছেন, শুধু নিজের স্বার্থচিন্তায় মগ্ন থাকলে সুখ পাওয়া যাবে না। অন্যের কথাও চিন্তা করতে হবে। তবেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যাবে। অন্যের কল্যাণ সাধনেই প্রকৃত সুখ।
উদ্দীপকের আলিম শুধু নিজের সুখের কথা ভেবেছেন। 'সুখ' কবিতায় বলা হয়েছে, শুধু নিজের নয়, পরের জন্যও ভাবতে হবে। তাই 'সুখ' কবিতার আলোকে বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারকে কবি সমর-অঙ্গন বলেছেন।
আলোচ্য চরণে কবি অন্যের মঙ্গল করে প্রকৃত সুখ লাভের কথা বলেছেন।
জগতে যারা কেবল নিজের সুখ খোঁজেন তারা জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে ভাবেন মানুষের জীবন নিরর্থক। মূলত এ ধারণা ভুল। জীবনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য আরও বিস্তৃত, অনেক মহৎ। অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নানা দুঃখ-যন্ত্রণা সয়ে, সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ অর্জিত হয়।
অনিমার হতাশার মধ্যে 'সুখ' কবিতায় বর্ণিত সুখের পিছনে মানুষের নিরর্থক ছোটাছুটির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষের জীবনের লক্ষ্যই সুখী হওয়া। এই সুখের জন্য মানুষ নানা রকম প্রচেষ্টা চালায়। আর কাঙ্ক্ষিত সুখ না পেলে মনে করে জীবন ব্যর্থ।
'সুখ' কবিতায় কবি বলেছেন, কিছু মানুষ সুখের দেখা না পেয়ে ভাবে, পৃথিবী বিষাদময়; দুঃখে জ্বলে মরতেই কেবল বুঝি মানুষের জন্ম হয়েছে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সংগ্রাম করতে প্রস্তুত থাকে না বলেই তাদের এ রকম মনে হয়। উদ্দীপকের অনিমার হতাশার মধ্যে 'সুখ' কবিতার উপর্যুক্ত বিষয়টিই প্রতিফলিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!