মানবদেহ ও বিভিন্ন প্রাণীর দেহ থেকে নিঃসৃত রস যা দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাই হরমোন।
একটি খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ বেশি রেখে এবং শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত আদর্শ খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা।
উদ্দীপকের শেষের লাইনে উল্লিখিত রোগগুলো হলো অজীর্ণতা এবং আমাশয়। নিচে এদের সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
অজীর্ণতা: এই রোগটি বদহজম নামেও পরিচিত। পাকস্থলিতে সংক্রমণ, বিষণ্ণতা, অগ্ন্যাশয় রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি কারণে বদহজম হতে পারে। বদহজমের কারণে পেটের উপরের দিকে ব্যথা, পেট ফাঁপা, পেট ভরা মনে হওয়া, বুক জ্বালা করা, বমি বমি ভাব বা বমি করা ইত্যাদি উপসর্গগুলো দেখা যায়। বদহজম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অতি ভোজন করা যাবে না, আস্তে আস্তে ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে হবে, ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে বদহজমের কারণ বের করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে হবে।
আমাশয়: Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রোটোজোয়া এবং সিগেলা (Shigella) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আমাশয় রোগটি হয়। এ রোগটির লক্ষণগুলো হলো- ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া ইত্যাদি। এই রোগটি প্রতিরোধ করতে হলে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে ধুতে হবে, মলত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া লাগবে, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে এবং খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। সময়মতো এ রোগটির চিকিৎসা করা আবশ্যক। নতুবা মারাত্মক কিছু ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি হলো মুরগির মাংস, যা এক ধরনের প্রাণিজ আমিষ। নিচে এটির পরিপাক প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আমিষের পরিপাক: লালায় কোনো প্রোটিওলাইটিক এনজাইম না থাকায় মুখে আমিষ জাতীয় খাদ্যের কোনো পরিপাক হয় না। পাকস্থলিতে পাচকরসের নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন HCI-র উদ্দীপনায় সক্রিয় পেপসিন নামক উৎসেচকে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এ অর্ধপরিপাককৃত খাদ্য এরপর অম্লীয় কাইমে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। পাকমন্ড বা কাইম ডিওডেনামে প্রবেশ করলে অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস নিঃসৃত হয়। এই পাচকরসে আমিষ পরিপাকের এনজাইগুলো থাকে। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস অম্লীয় অবস্থায় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান ট্রিপসিনের সাহায্যে আংশিক পরিপাকৃত আমিষ ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
এরপর পরিপাককৃত আমিষের খাদ্য উপাদান ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই দ্বারা শোষিত হয়।
প্রোটিন বা আমিষের গুরুত্ব: প্রোটিন কোষপর্দাসহ কোষীয় বিভিন্ন অঙ্গাণুর গাঠনিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। কোষে প্রোটিন সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে শক্তি উৎপাদন করে। প্রাণিদেহের পেশি, ত্বক, চুল, শিং, নখ, আঁইশ ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রোটিন হরমোন, এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রোটিন কোষের প্রোটোপ্লাজম গঠনে সহায়তা করে। লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিনযুক্ত হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে। এগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন কাজে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।
Related Question
View Allআমিষ জাতীয় খাদ্য দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে।
বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ আমিষ যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, যকৃত ইত্যাদি উচ্চমানের আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় যার সবকয়টা উদ্ভিজ্জ আমিষে থাকে না। তাই প্রাণিজ আমিষের জৈবমূল্য অনেক বেশি। সে জন্য প্রাণিজ আমিষকে উচ্চমানের আমিষ বলে।
উদ্দীপকে জহির জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে তার পেশার স্বার্থেই প্রতিদিন খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতের মাধ্যমে শরীরের শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে তার দেহে অধিক তাপ ও শক্তির যোগান দেবে এরূপ খাদ্যের চাহিদা অধিক থাকে। তাই তাকে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। যেমন- ঘি, মাখন, ডিম, দুধ, বাদাম, চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সে প্রচুর স্নেহ বা চর্বি উপাদানের সরবরাহ পাবে।
এছাড়া দুধ, ডিম, বাদাম, ডাল, মাংস ইত্যাদি খাবারের আমিষ তার দেহের ক্ষয়পূরণ করে দেহ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দেহে শক্তি উৎপাদনের অন্যতম উৎস হলো শর্করা জাতীয় খাবার। এজন্য ভাত, আলু, রুটি, চিনি, দুধ ইত্যাদি শর্করা যুক্ত খাবার জহিরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে।
আলোচ্য উদ্দীপকে জহির একজন ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ায় তাকে প্রতিদিন প্রচুর দৌড়াতে ও শারীরিক কসরত করতে হয়। ফলে তার মৌল বিপাকের হার বেশি এবং অধিক সময় ধরে তার দেহের মাংসপেশি সংকোচিত প্রসারিত হয় তাই তার খাদ্যের চাহিদাও বেশি। কিন্তু তার বড় ভাই ড. রায়হান দিনের অধিকাংশ সময় গবেষণাগারে বসে সময় কাটান বলে জহিরের মতো তার দেহের মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ হয় না। তাই শারীরিক পরিশ্রম কম করাতে তার উচ্চ শক্তি সরবরাহকারী খাদ্যের চাহিদাও কম। কাজেই BMR বা বেসাল মেটাবলিক রেট জহিরের তুলনায় ড. রায়হানের অনেক কম। এজন্য জহিরের মতো উচ্চ তাপশক্তি সরবরাহকারী চর্বিযুক্ত খাবার ও অন্যান্য উপাদানের খাবার যদি ড. রায়হান অধিক গ্রহণ করেন তবে তা তার শরীরে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে তা তার শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাবে এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে। এজন্য ড. রায়হানের খাদ্য তালিকায় তার ছোট ভাইয়ের চেয়ে তুলনামূলক কম পরিমাণ খাবার থাকবে এবং জহিরের মতো চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া তার মোটেই উচিত হবে না।
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত কম পরিমাণে প্রয়োজন হয় তারাই হলো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ।
উদ্ভিদের প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকেই সমষ্টিগতভাবে 'অত্যাবশ্যকীয় উপাদান' বলা হয়। কারণ এদের যে কোন একটির অভাব হলেই উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয়ে এর অভাবজনিত লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং পুষ্টির অভাব জনিত রোগের সৃষ্টি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!