একটি দেশে প্রতি বর্গমাইল বা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যে পরিমাণ মানুষ বসবাস করে, তা-ই জনসংখ্যার ঘনত্ব।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনের মাত্রাকে অতিক্রম করলে তার অনিবার্য পরিণতি খাদ্যাভাব। সাধারণত কোনো দেশে জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পায়, সে হারে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে আর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে। জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি খাদ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থান নির্মাণের জন্য অনেক কৃষিজমিতে বাসস্থান তৈরি হয় যা খাদ্য উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের 'Q' নামক ধারণাটি হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
মানবসম্পদ উন্নয়ন বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করে জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়।
সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টিকারী জ্ঞান এবং জীবনবোধসম্পন্ন মানবীয় গুণাবলির বিকাশই হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। মূলত উৎপাদন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা সুন্দরভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে তার অন্তর্নিহিত বিভিন্ন কর্মগুণের বিকাশই মানবসম্পদ উন্নয়ন। কোনো দেশের জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত, কর্মদক্ষ, পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল, উৎপাদনশীল ও সুস্বাস্থ্যর অধিকারী করে গড়ে তুলতে পারলেই সেদেশে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটেছে বলা যায়।
উদ্দীপকে সাকিব নোমান 'Q' নামক একটি ধারণার উপর আলোকপাত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট শিক্ষাবিস্তার, উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, আবাসনব্যবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। উক্ত ধারণাটি মানবসম্পদ উন্নয়ন ধারণাকে নির্দেশ কর। কারণ উল্লিখিত বিষয়গুলোর উন্নয়ন হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। নিচে আমার মতামত প্রদান করা হলো-
মানবসম্পদ উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। সরকার শিক্ষার বিস্তারে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষাদান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, নারী শিক্ষার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, গণশিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়নের আরেকটি হাতিয়ার হলো প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা। বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ করে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেশ কিছু এনজিও প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। কারণ মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি অন্যতম উপায় হলো সুস্বাস্থ্য। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানবসম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। তাই সরকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন, নবজাতক ও সন্তান জন্মদানকারী মায়েদের নানা সেবা প্রদান, জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপাদান বিনামূল্যে সরবরাহ ইত্যাদি কার্যক্রম করে থাকে। সাধারণ জনগণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা নিয়ে নিজেদের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে। আবার পুষ্টি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেও নিজেদের শারীরিক পুষ্টিসমৃদ্ধ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে।
উল্লিখিত কার্যক্রম সরকারের একার পক্ষে সম্ভম্ব নয়। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংস্থা এ কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন ও নতুন কর্মসূচি সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করছে।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!