একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যখন কর্মে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় না তখন তাকে বলে বেকারত্ব।
মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায়গুলো হলো- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসারতা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি শিক্ষার প্রসার, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের উন্নয়ন, বাসস্থানের সমস্যা সমাধান, সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন সৃষ্টি, পরিকল্পনা এবং সরকারি উদ্যোগ।
উদ্দীপকে জনসংখ্যার ম্যালথাসের তত্ত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
ম্যালথাস ১৭৯৮ সালে তার 'Principle of Population' গ্রন্থে
জনসংখ্যা সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রচার করেন যা ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব নামে পরিচিত। তত্ত্ব মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে। অর্থাৎ ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২.......... এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে, অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬……………. । ভূমির যোগান সীমাবদ্ধ হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন জ্যামিতিক হারে বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পায় খাদ্যোৎপাদন সে হারে বাড়তে পারেনা। ম্যালথাসের তত্ত্বটি সূচির সাহায্যে নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
| বছর | ০ | ২৫ | ৫০ | ৭৫ | ১০০ | - | ২০০ | - | ৩০০ |
| জনসংখ্যা বৃদ্ধি | ১ | ২ | ৪ | ৮ | ১৬ | - | ২৫৬ | - | ৪০৯৬ |
| খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি | ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | - | ৯ | - | ১৩ |
ম্যালথাস ২৫ বছর সময়কে একক হিসাবে গণ্য করেন। সূচিতে দেখা যায় প্রথম ২৫ বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বাড়ে একইভাবে। কিন্তু ২৫ বছর পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা অধিক হারে বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকেও শিক্ষকের আলোচনায় জনসংখ্যার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি এবং খাদ্যোৎপাদন গাণিতিক হারে বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি ২৫ বছর পর পর কোনো দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে যা ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বে লক্ষ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে জনসংখ্যার ম্যালথাসীয় তত্ত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের কার্যকারিতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
জনসংখ্যা ও খাদ্য বৃদ্ধি: বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন অপেক্ষা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। বর্তমানে এ দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭% কিন্তু কৃষি শস্য উপখাতে প্রবৃদ্ধির হার ০.১৫%।
খাদ্য ঘাটতি: বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রচুর খাদ্য উৎপাদন প্রয়োজন। কিন্তু উৎপাদন অনেক কম। এর ফলে প্রচুর খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়।
মাথাপিছু জমি: বাংলাদেশে একজন লোকের ভরণ-পোষণের জন্য ১.২ হতে ১.৮০ একর জমির দরকার। অথচ মাথাপিছু জমি রয়েছে মাত্র ০.২৫ একর।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ম্যালথাস বর্ণিত দুর্ভিক্ষ, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি দেখা যায়।
স্বাস্থ্যহানি: অনাহার, অর্ধাহার, রোগব্যাধি, মহামারি বাংলাদেশের জনগণের নিত্য সহচর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যুহার : অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই অধিক। এদেশে স্থূল জন্মহার ১৮.৮ এবং স্থূল মৃত্যুহার ৫.১ জন।
বেকারত্ব: বাংলাদেশে বর্তমান মোট শ্রমশক্তির এক-তৃতীয়াংশ বেকার।
জীবনযাত্রার মান : অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমান মাথাপিছু আয় মাত্র ১৬০২ মার্কিন ডলার। ফলে জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। শতকরা প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ম্যালথাসের জনসংখ্যা সমস্যার সব লক্ষণই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই তত্ত্ব অধিক কার্যকর।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!