বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ছিল ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত।
একটি দেশের জাতীয় উৎপাদন, কর্মসংস্থান, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভোগ, সঞ্চয় ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের দরকার পড়ে। সেই লক্ষ্য নির্ধারণ, লক্ষ্য বাস্তবায়ন কৌশল, প্রয়োজনীয় সম্পদের উৎস চিহ্নিতকরণ, সম্পদ বরাদ্দ দান প্রভৃতি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেয়াদের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।
উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রয়োজন, প্রয়োজনের প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান সম্পদ ও দক্ষতার ধরন, কর্মকৌশল এবং করণীয়সমূহ চিহ্নিত করা যায়; এতে করে দক্ষতার সাথে সর্বনিম্ন খরচে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধন করা যায়। পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রচেষ্টা দেশের শিক্ষা, বিনিয়োগ, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলে। তাই যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো যষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের লক্ষ্যমাত্রাগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো-
- গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে সরকারি বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ২০১৫ সাল নাগাদ জিডিপির ১ শতাংশে এবং ২০২১ সাল নাগাদ ১.৪ শতাংশে উন্নীতকরণ।
- ২০১৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি শিক্ষা প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণকরণ।
- দেশের সব ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধাসহ টেলিসেন্টার/কমিউনিটি ই-সেন্টার চালুকরণ।
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি ৫টি কম্পিউটারসমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাবরেটরি স্থাপন।
- সরকারের সব নির্বাহী পর্যায়ে ও সব জেলায় ই-গভর্ন্যান্স চালুকরণ।
- ঢাকার সব থানায় ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিতে ডিডি এবং এফআইআর পদ্ধতি চালুকরণ।
- টেলিফোন সংযোগ ৭০ শতাংশে উন্নীতকরণ।
- ব্রডব্যান্ড সেবা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারণ।
- দেশব্যাপী ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড (ওয়াইম্যাক্স) সুবিধা চালুকরণ।
- ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজকরণ।
অতএব বলা যায়, আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ, কম্পিউটার ল্যাব সম্প্রসারণ, ই-গভর্ন্যান্স চালুকরণ ইত্যাদি লক্ষ্যমাত্রা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের জন্য করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে স্বতন্ত্র। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০২ সালের মধ্যে পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, এর মধ্যে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ এবং ২০০৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে কোনো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এরপর ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ এর জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা কমিশনও এতে সম্মতি প্রদান করে, ফলে ২০১১ সালের জুন মাসে উক্ত পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।
বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) যেটি জুলাই ২০১০ থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে, উন্নয়নের কৌশলকে মূলস্তম্ভ বিবেচনা করে ন্যায্যতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণের উপর জোর দিয়েছে। এই পরিকল্পনার সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য হচ্ছে-প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, ভালো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা, মানব উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, আয়-বৈষম্য হ্রাসকরণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ। এছাড়াও প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতি কৌশল ইত্যাদির দিক থেকে অন্য পাঁচটি পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার থেকে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কিছুটা ভিন্নধর্মী। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাতগুলো হলো- আয় ও দারিদ্র্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শক্তি সম্পদ ও অবকাঠামো, লিঙ্গ সমস্যা ও ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রাগুলো প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আওতার মধ্যেই নির্ধারিত ও বাস্তাবায়িত হবে। এ পরিকল্পনা শেষে এবং লক্ষ্যমাত্রায় সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে ভিশন-২০২১ ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনে সহায়তা করবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে স্বতন্ত্র।
Related Question
View Allউন্নয়ন পরিকল্পনা তিন প্রকার।
সাধারণত কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে যেসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে জাতীয় স্বার্থে সেগুলো অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে এগুলো একত্রে বাস্তবায়ন সম্ব হয় না। তাই এসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সমষ্টি।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে।
এ ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে এমন ধরনের কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। বাণিজ্যের প্রসার, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার প্রসার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রভৃতি লক্ষ্য সামাজিক স্বার্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্জন করা দরকার। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সময়সীমা বিবেচনা করে এই পরিকল্পনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অনিশ্চয়তা হ্রাস করে। এ ধরনের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ ত্বরান্বিত করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
অতএব বলা যায়, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা এমন কিছু পরিকল্পনা, যেখানে জাতীয় স্বার্থ অন্তর্নিহিত থাকে।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে। আবার ইউনুসের কাজের ধারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে। এ দুই ধরনের পরিকল্পনা দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত। নিচে এই দুই ধরনের পরিকল্পনার তুলনা করা হলো-
সাধারণ সময়সীমার মধ্যে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। পক্ষান্তরে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্বাচন করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলে।
সাধারণত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সময় ১-৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মেয়াদ ১০-২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ভেতর ব্যক্তির ক্ষুদ্রস্বার্থ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষুদ্র স্বার্থ অপেক্ষা অগ্রাধিকার পায়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা একটি অস্থায়ী পরিকল্পনা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভেতর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহের স্থয়িত্ব, অস্তিত্ব, সঠিক কর্মদক্ষতা ও দিকনির্দেশনা থাকে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে কম কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে অধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক।
অতএব স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পাঁচ বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত সময়সীমার পরিকল্পনাই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৩ সালে। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৮১% ও বেসরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৪৯.১১% অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়। বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫-এর স্থলে প্রকৃত বৃদ্ধি হয়েছিল ৪% হারে। বার্ষিক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য ২.৫% ধরা হলেও পরিকল্পনা শেষে তা বার্ষিক ১.১% হারে বৃদ্ধি পায়। জিডিপির বার্ষিক ১৫.২% হারে সঞ্চয় আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সঞ্চয় আহরণের হার ছিল ৩.৯%।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!