আকাশে কালো মেঘের রাশি পশ্চিম দিক থেকে উড়ে আসতে লাগল।
"যে আগে গিয়ে পৌছাতে পারে তারই জয়।"- কথাটি বলতে বৈশাখী ঝড়ের সময় আমগাছের নিচে আগে হাজির হয়ে সবচেয়ে বেশি আম কুড়াতে পারাকে বোঝানো হয়েছে।
গ্রামের ছেলেমেয়েরা বৈশাখী ঝড় শুরু হলে তারা বিপদের কথা ভুলে গিয়ে আমতলায় ছুটে যায়। যে আগে পৌঁছাতে পারে তার ভাগেই বেশি পাকা আম জমা হয়। আর যে দেরি করে পৌছায়, সে কম পরিমাণ আম কুড়াতে পারে। আলোচ্য কথাটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
ন্যায়-অন্যায় বোধ এবং সততার দিক থেকে উদ্দীপকের অলি মিয়ার সাথে 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সাদৃশ্য রয়েছে।
লোভ মানুষের আদর্শ ও নৈতিকতা নষ্ট করে দেয়। ন্যায়বোধে উদ্দীপ্ত মানুষ লোভ সংবরণ করতে পারেন। মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষ কখনো লোভ করেন না, অন্যের জিনিস আত্মসাৎ করেন না।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে গল্পকথক ও তার বন্ধুরা একটি বাক্স কুড়িয়ে পায়। প্রথমে বাক্সটির প্রতি তাদের লোভ জন্মালেও পরবর্তীতে যার বাক্স তার কথা ভেবে তারা ব্যথিত হয়। তারা বুঝতে পারে লোভ করা অন্যায়। তাই তারা বুদ্ধি খাটিয়ে বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে। প্রকৃত মালিকের হাতে তারা বাক্সটি সততার সাথে বুঝিয়ে দেয়। আলোচ্য গল্পের কিশোরদের মতো অলি মিয়াও সততা ও ন্যায়-বোধের পরিচয় দিয়েছে। সংসারে অভাব-অশান্তি থাকলেও অসততা তার মধ্যে জেঁকে বসতে পারেনি। রাস্তার পাশে টাকা ভর্তি মানিব্যাগ পেয়েও সে প্রকৃত মালিককে তা ফেরত দেয়। তাই বলা যায় যে, ন্যায়-অন্যায় বোধ এবং সততার দিক থেকে উদ্দীপকের আলি মিয়ার সাথে 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সাদৃশ্য রয়েছে।
"অলি মিয়ার অনুভূতি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল চেতনারই প্রতিচ্ছবি"- উক্তিটি যথার্থ।
সততা মানুষের মহৎ গুণ। সৎ মানুষেরা কখনো অন্যের জিনিস আত্মসাৎ করেন না। বিবেকবোধ মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে দুই কিশোর একটি বাক্স কুড়িয়ে পায়। তারা প্রথমে বাক্সের জিনিস নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে চায়। পরক্ষণেই তাদের মধ্যে চেতনা ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হয়। বাক্সের মালিকের কষ্টের কথা স্মরণ করে তারা বাক্সটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে উদ্দীপকের অলি মিয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। সংসারে অভাবের জন্য স্ত্রীর, পুত্রের সাথে তার অশান্তি হয়। সে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে একটি মানিব্যাগ খুঁজে পায়। টাকা দেখে তার আনন্দ হলেও যার মানিব্যাগ তার কথা ভেবে মর্মাহত হয়।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের কর্মকান্ড ও অনুভূতি উদ্দীপকের অলি মিয়ার কর্মকান্ড ও অনুভূতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তারা সবাই একই বোধের পরিচয় দিয়েছে। কিশোরদের ও অলি মিয়ার এই সততা ও মূল্যবোধের জাগরণই আলোচ্য গল্পের মূল চেতনা। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!