আব্বা-আম্মার জন্য কুরআন মজিদে বর্ণিত দোয়াটি হলো
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا.
উচ্চারণ: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী-সাগীরা।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক, আমার আব্বা-আম্মা আমাকে ছোটবেলায় যেমনি সেবাযত্নে লালন-পালন করেছেন, আপনি 'তাঁদের প্রতি তেমনি দয়া করুন।"
আব্বা-আম্মার মতো শিক্ষক আমাদের প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলেন। তিনি আমাদের কুরআন, সালাত ও আদব-কায়দা শেখান। তিনি সৎ ও ন্যায়ের পথে চলতে শেখান। অন্যায় ও অসৎ পথে চলতে নিষেধ করেন। কীভাবে পড়তে হয়? কেমনভাবে লিখতে হয়? তা শিক্ষক আমাদের শেখান। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বিষয় আমরা তাঁর কাছে শিখি। কুরআন ও হাদিসের কথা শিখি। তিনি আমাদের দেশ ও দশের কথা শেখান।
ফুয়াদের আম্মার একবার ভীষণ জ্বর হলো। বাসায় আর কেউ নেই। সে তার আম্মার চিকিৎসার জন্য ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসল। ডাক্তার সাহেব তার আম্মাকে পরীক্ষা করে বললেন, "ফুয়াদ, তোমার আম্মার মাথায় পানি দাও। আর এ ওষুধ সময়মতো খাওয়াবে। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে।” ফুয়াদ সময়মতো তার আম্মাকে ওষুধ খাওয়াল। মাথায় পানি দিল আল্লাহর কাছে তার আম্মার আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করল। আল্লাহর রহমতে তার আম্মা সুস্থ হয়ে উঠল। ফুয়াদ আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করল।
সত্য কথা বলা মহৎ গুণ। যে সত্য কথা বলে সে সত্যবাদী। সত্যবাদীকে আরবিতে সাদিক বলে। যে সত্য কথা বলে 'তাকে সকলে ভালোবাসেন। সকলে বিশ্বাস করে। আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। সে আল্লাহর কাছে প্রিয়। পৃথিবীতে সে সকলের কাছে প্রিয় ও সম্মানিত। পরকালে সে জান্নাত লাভ করবে।
মিথ্যা সকল পাপের মূল। যে মিথ্যা কথা বলে তাকে মিথ্যাবাদী বলে। মিথ্যাকে আরবিতে কাযিব (১৩) বলা হয়। মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালোবাসে না। বিশ্বাস করে না। সকলে তাকে ঘৃণা করে। অপছন্দ করে। আল্লাহও তাকে ঘৃণা করেন। পরকালে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। মহানবি (সা.) বলেন, "সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়, আর মিথ্যা ধ্বংস করে।"
অপচয় অর্থ ক্ষতি, অপব্যয়, নষ্ট। বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু নষ্ট করাকে অপচয় বলে। যেমন- বিনা প্রয়োজনে বাতি জ্বালিয়ে রাখা, পানির কল খুলে রাখা। অকারণে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা ইত্যাদি। অপচয় করা বড় পাপ। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।"
মানুষের স্বভাব ও চরিত্রকে আরবিতে আখলাক বলে । চরিত্র ভালো হলে জীবন সুন্দর হয়। সুখের হয়। আখিরাতে শান্তি পাওয়া যায়। সুখ পাওয়া যায়। সুন্দর ও ভালো চরিত্রই সচ্চরিত্র। যেমন সত্য কথা বলা। রোগীর সেবা করা। আব্বা-আম্মাকে সম্মান করা। প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা।
মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্রকে অসচ্চরিত্র বলা হয়। চরিত্র অসৎ হলে কেউ তাকে ভালোবাসে না। সকলে ঘৃণা করে। তার সাথে কেউ মেলামেশা করে না। খেলা করে না। আল্লাহ তাকে অপছন্দ করেন। মন্দ স্বভাব ও খারাপ চরিত্র হলো মিথ্যা কথা বলা, লোভ করা, অপচয় করা, পরনিন্দা করা ইত্যাদি।
আমাদের মহানবি (স) ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
মহানবি (স) বলেন, “সত্যিকার মুমিন তারাই, যাদের চরিত্র সুন্দর।”
নিচে সচ্চরিত্র এবং অসচ্চরিত্রের একটি তালিকা দেওয়া হলো :
| সচ্চরিত্রের তালিকা | অসচ্চরিত্রের তালিকা | ||
|---|---|---|---|
| ১ | আব্বা-আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করা | ১ | আব্বা-আম্মার সাথে খারাপ ব্যবহার করা |
| ২ | শিক্ষককে সম্মান করা | ২ | লোভ করা |
| ৩ | বড়দের সম্মান করা | ৩ | অপচয় করা |
| ৪ | ছোটদের স্নেহ করা | ৪ | পরনিন্দা করা |
| ৫ | সত্য কথা বলা ও ওয়াদা পূরণ করা | ৫ | অহংকার করা |
| ৬ | সালাত আদায় করা | ৬ | সালাত আদায় না করা |
আমরা চরিত্র সুন্দর করব। সকলে আমাদের ভালোবাসবে। আল্লাহ আমাদের উপর খুশি হবেন। দুনিয়াতে আমরা শান্তি পাব । পরকালে পাব জান্নাত।
আমরা সর্বদা-
ইমান আনব, সালাত আদায় করব ।
আব্বা-আম্মা, শিক্ষক ও বড়দের সম্মান করব ।
ছোটদের স্নেহ করব, সত্য কথা বলব ।
স্বভাব চরিত্র সুন্দর করব, শান্তি পাব ।
| পরিকল্পিত কাজ : শিক্ষার্থীরা সচ্চরিত্রের একটি তালিকা তৈরি করবে। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!