কোষ বিভাজনের মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখায়।
উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
তনিমার ঘরে টানানো ছবিতে ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালার আকৃতি বিশিষ্ট। অর্থাৎ ছবিটি হচ্ছে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ পর্যায়। অ্যানাফেজ পর্যায়ের চিহ্নিত চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
২. ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে।
৩. এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালার V, L, J অথবা। আকৃতি বিশিষ্ট হয়।

উদ্দীপকের তনিমার চেহারা তার মায়ের মতো। তনিমার চেহারা এরূপ হওয়ার যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
তনিমা তার মায়ের মতো হওয়ার কারণ হচ্ছে বংশগতি অর্থাৎ ক্রোমোজোমের মাধ্যমে তার মায়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ তার দেহে সঞ্চারিত হয়েছে। ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। সাধারণত DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো পুরুষাণুক্রমে বহন করে। তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়। DNA হচ্ছে ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি মাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসেবে কাজ করে বংশগতির ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখে। আর এসব কারণেই তনিমার চেহারা তার মায়ের মতো।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!