জনসংখ্যা সম্পর্কে বাংলাদেশের স্লোগানটি হলো- 'দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়'।
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের একটি কৌশল হলো দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ। দেশের জনগণকে শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মে নিয়োজিত হতে পারবে। এছাড়া তারা নিজেদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বনির্ভর হবে। এভাবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়।
সেলিনা আস্তারের সংস্থার কার্যক্রমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বেসরকারি উদ্যোগকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে সংস্থাগুলো কমিউনিটিভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প, দুই সন্তানের পরিকল্পিত পরিবার গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন, বাল্যবিবাহ রোধে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সচেতনতা কার্যক্রম, ধর্মীয় নেতাদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্দীপকে সেলিনা আক্তার বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা পালন করেন এবং তার এ উদ্যোগটি ছিল বেসরকারি উদ্যোগ।
তাই বলা যায়, সেলিনা আক্তারের সংস্থার কার্যক্রম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি উদ্যোগকে ইঙ্গিত করেছে।
না, সুমীর স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতাকারী সংস্থা বা বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প, বাল্যবিবাহ রোধ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদ্দীপকের সেলিনা আক্তার একটি মানবাধিকার সংস্থার কর্মী। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় সুমী ও অনির বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, যা উপরে বর্ণিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি উদ্যোগকে নির্দেশ করছে। তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এ বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারিভাবেও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণকে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কাজি অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এছাড়াও নারীদের বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে যেমন-হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষ, হস্ত ও কুটির শিল্প প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। উদ্দীপকে নির্দেশিত বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও গ্রহণ করতে হবে।
Related Question
View Allউন্নয়ন শব্দটি অগ্রগতি বা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বৃদ্ধি সৃষ্টি করে, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সাধারণত, উন্নয়ন শব্দটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে বর্ণনা করে।
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা। কোনো দেশের নারী-পুরুষ মিলে যে মোট লোকসংখ্যা হয় তাকে ওই দেশের জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের একক জনগোষ্ঠীকে ওই ভূখণ্ডের জনসংখ্যা বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয় ৮১,৬৯৫ মার্কিন ডলার (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ২০২৩)।
একটি দেশ ভবিষ্যতে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশি সত্যি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!