অসীম দায়ের ফলই মি. 'ক'-কে দেউলিয়া বানিয়েছে- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
একমালিকানা ব্যবসায়ে সব দায়-দায়িত্ব মালিককে বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে মালিকের বিনিয়োগকৃত মূলধনের বাইরেও দায় তৈরি হয়। অর্থাৎ, ব্যবসায়ে মালিকের সরবরাহকৃত মূলধন দিয়ে দায় পরিশোধ না হলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করা হয়।
উদ্দীপকের মি. 'ক' শহরে একটি মুদি দোকানের ব্যবসায় গড়ে তোলেন। এতে তিনি পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির অর্ধেক বিক্রির অর্থ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভাবে কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এতে পাওনাদারদের দায় মেটাতে আদালত তার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করে।
ব্যবসায়ের দায় মেটাতে ব্যবসায়ের বিনিয়োজিত মূলধনের বাইরেও দায় পরিশোধ করতে হয়। মি. 'ক' ব্যবসায়ের একমাত্র মালিক হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে দায় পরিশোধ করেছেন। অর্থাৎ, মি. 'ক'-কে পৈতৃক সম্পত্তির বাকি অংশ বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে ব্যবসায়ের মূলধন ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির সব অর্থ পাওনাদারের দায় পরিশোধে খরচ হয়েছে। এরপরও সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় তিনি আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যবসায়টি একমালিকানার ভিত্তিতে গঠিত হওয়ায় মি. 'ক'-কেই সব দায় বহন করতে হয়েছে।
সুতরাং, মি. 'ক' দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার কারণ হলো অসীম দায়।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
