যৌবনের গান' প্রবন্ধটি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ভাষণ হিসেবে প্রদত্ত হয়।
তরুণরা সুনামের পিছনে না ছুটে নীরবে মানবজাতির কল্যাণের জন্য পরিশ্রম করে যায়, যার সঙ্গে তুলনা দেওয়া যায় চাঁদের।
বনের পাখির, আনন্দময় গানের মতোই তরুণরা অন্যের কল্যাণের জন্য সৃষ্টিশীল কাজের আনন্দে ব্যাপ্ত থাকে। যে চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রে জোয়ার আসে, সে চাঁদ জোয়ারের জল বাড়ার খবর রাখে না। একইভাবে তেমনই তরুণেরা তাদের সৃষ্টিক্ষমতা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে না, অথচ তাদের কল্যাণকামী শক্তির বলেই মানবজাতির বৃহত্তম কল্যাণসমূহ বাস্তবায়িত হয়।
ইদীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের তারুণ্য ও বার্ধক্যের প্রকৃত স্বরূপের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
চৌবনের গান' প্রবন্ধে তরুণ বলতে প্রাবন্ধিক তাদের বুঝিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাণশক্তি অফুরন্ত, দূরন্ত যাদের সাহস, যাদের তেজ সূর্যের মতো, পতি কড়ের মতো- তাদের যৌবনশক্তি শাশ্বত ও সুন্দর। যৌবনশক্তি মৃত্যুকে পরোয়া না করে মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে। এর দেশ, কাল, জাতি, ধর্মের উর্ধ্বে। অন্যদিকে বৃদ্ধ তারাই যারা দেশ-জাতি-মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে না।
মৌীপকের অসীম একজন এমএ পাশ যুবক হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে কোনো তারুণ্য নেই, সে আত্মকেন্দ্রিক। নিজের ভালোর জন্য অন্যের কথা ভাবে না তারুণ্যই যৌবনের ধর্ম যা অসীমের মধ্যে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে অসীম ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে না গিয়ে নিজের কাজে হস্ত থাকে। তার ধারণা, দেশে সরকার আছে, সে ছাড়াও এ কাজের জন্য অন্য আরও মানুষ আছে। আলোচ্য প্রবন্ধানুসারে তার এ মনোভাবই হযতোর চিহ্ন বহন করে। অপরদিকে উদ্দীপকের অসীমের বন্ধুরা তার মতো পিছিয়ে না গিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করে উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অসীমের বন্ধুরা আলোচ্য প্রবন্ধের যৌবনের শক্তির অধিকারী। তারা মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে। তাই বলা যায়, চুমীপকটিতে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের দুটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে, যার একটি হলো বার্ধক্য আর অপরটি হলো যৌবন বা তারুণ্য।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে সেবাপরায়ণতার পথে স্বার্থান্বেষী বার্ধক্যই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা উদ্দীপকের অসীমের চিন্তা-চেতনার সাথে সমান্তরাল।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে ভয়হীন নিরন্তর ছুটে চলাই যৌবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেকারণে তারুণ্যের দীপ্ত শিখায় দীপ্তিমান শক্তিতে অকুতোভয়। চলার পথে কোনো বাধাবিপত্তিতে তারা দমে যায় না। কেননা যৌবন হলো অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। অন্যের কল্যাণে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে তরুণরা। দেশ-জাতির কল্যাণে তারাই এগিয়ে আসে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, অসীম বয়সে একজন তরুণ। কিন্তু সে মননে এবং চিন্তা-চেতনায় পুরোদস্তুর বার্ধক্যকে ধারণ করে। তার বন্ধুরা ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। অসীমকে সেকাজে ডাকলেও তাতে সে সাড়া দেয় না। বরং এসব অন্য লোকের দায়িত্ব বলে পাশ কাটায়।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের বর্ণিত যৌবনের যে স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে তা গতিশীল ও ক্লান্তিহীন উদ্দামের বহিঃপ্রকাশ। এই যৌবনশক্তি দেশ-কাল বা ধর্মের বাঁধন মানে না। মৃত্যু এর কাছে তুচ্ছ। সেবাই এর কাছে প্রধান। পক্ষান্তরে প্রবন্ধে উল্লিখিত তারুণ্যের বৈশিষ্ট্যর সম্পূর্ণ বিপরীত চেতনায় আবর্তিত হয়েছে উদ্দীপকের অসীম। সে আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অসীম বয়সে যুবক হলেও তার চিন্তাধারা বার্ধক্যে ম্রিয়মাণ।
Related Question
View Allগানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।
উদ্ধৃতাংশে ধ্যানী বলতে মূলত যাঁরা অন্তরালে থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন তাঁদের বোঝানো হয়েছে।
তরুণদের এক সভায় আমন্ত্রিত হয়ে প্রাবন্ধিক তারুণ্যের জয়গান করে ভাষণ প্রদান করেন। সে সভায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, যৌবনশক্তি সংকীর্ণ জাতিগত ধর্মের মধ্যে সীমিত নয়; তা বিশ্বজনীন উদার মানবধর্মের ব্রতে আত্মনিষ্ঠ। মানবকল্যাণে নিবেদিত এ তরুণেরা বড়ো বড়ো কথা বলে আস্ফালন করে বেড়ায় না, বরং নীরব সাধনায় ফুল ফোটানোর মতো সুকঠোর ব্রত পালন করে। তরুণদের এ সাধনাকে ধ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রাবন্ধিক তাই বলেছেন, তিনি আজ তাঁদেরই দলে, যাঁরা কর্মী নন, ধ্যানী।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণদের সমাজসেবামূলক কাজকে প্রাবন্ধিক যৌবনের মাতৃরূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মা যেমন সন্তানকে সমস্ত অকল্যাণ থেকে আগলে রাখে তেমনই যৌবন মাতৃরূপে মানবসমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। মায়ের মতো স্নেহ ও মমতা নিয়ে যৌবনধর্ম দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্তের পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের কর্মকাণ্ডে যৌবনের এ কল্যাণকামী বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব যৌবনধর্মে উদ্দীপ্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন। মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখেন এবং মেয়েদের স্কুলে পাঠান। এভাবেই তিনি দুর্বলের ও অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের কর্তব্য সাধন করেন। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত ফারুক সাহেব বয়সের জালে বন্দি হলেও মনকে অবমুক্ত করে রেখেছেন। তিনি রাস্তার দুধারে গাছ লাগান, রাস্তার গর্ত ভরাট করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। মানবকল্যাণে কাজ করতে তার কোনো ক্লান্তি নেই। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও এসব কর্মকাণ্ডের মানসিকতাকে তারুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের চেতনানুযায়ী অফুরন্ত প্রাণশক্তি উদ্দীপকের বয়স্ক ফারুক সাহেবের মাঝে লক্ষ করা যায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের জয়গান গেয়েছেন। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল, সেবাব্রতী ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। কাজী নজরুল ইসলামের মতে, যৌবনকে বয়স দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিও প্রাণশক্তির দিক থেকে যৌবনপ্রাপ্ত হতে পারে। আবার বয়সে তরুণ একজন ব্যক্তি যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তিকে ধারণ করতে পারে। মূলত মানুষের প্রাণশক্তি ও কর্মোদ্যম দ্বারাই যৌবন বা বার্ধক্য নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব বয়সে বৃদ্ধ হলেও চিন্তা-চেতনা ও কর্মের দিক থেকে যুবক। কর্ম থেকে অবসর নিলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মধ্যে তার সবই বিদ্যমান। আলোচ্য প্রবন্ধানুসারে বয়স দ্বারা নয়; বার্ধক্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয় রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছরাতা ও পশ্চাৎপদতা দ্বারা। আর যার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাকে বয়স বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'বার্ধক্য আক্রান্ত' বলে অভিহিত করা যায় না। তাই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে, ফারুক সাহেবের বার্ষকাকেও বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি।
বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব
কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কারণ তারা সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতির ও সর্বকালের হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করে থাকে।
ঘুণেধরা সমাজকে বসবাসের উপযোগী করে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণেরা কুসংস্কার, অনাচার ও বার্ধক্যের মূলোৎপাটন করে। জাতিকে স্বপ্নময় নতুন সমাজ উপহার দিতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। এভাবে অন্ধকারকে দূর করে জগৎকে আলোকিত করে বলেই তাদের আদশ হিসেবে গ্রহণ করে কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!