বুক ধড়ফড় করা নেতিবাচক মানসিক চাপ।
কিশোর অপরাধ হলো অপরিণত বয়সে প্রচলিত সমাজব্যবস্থা, আইন কানুনবিরোধী আচরণ। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের দুটি করণীয় হলো-
১. প্রতিটি পরিবারে সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের বন্ধন দৃঢ় করতে হবে।
২. পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাদের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব দূর করতে হবে।
মানসিক চাপ কমানোর জন্য আঁখিকে কিছু কাজ করতে হবে।
আখির মানসিক চাপের জন্য সে নিজে দায়ী নয়। এখন যদি সে ভেঙে পড়ে তবে তার অনেক ক্ষতি হবে। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় তাকে বের করতে হবে।
প্রথমত আখিঁকে মনোবল অটুট রাখতে হবে। কোনোভাবেই তার ভেঙে পড়লে হবে না। ধৈর্য ধারণ করে তাকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। পরিবারের সদস্যরা যাতে তার পড়ালেখা বন্ধ করে না দেয় সে বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলতে হবে। প্রয়োজনে সে বিভিন্ন আয়মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে টাকা রোজগার করতে পারে। এই টাকা দিয়ে সে পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি তার পরিবারকেও সাহায্য করতে পারবে। আঁখি তার শিক্ষকদের সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সে বিনামূল্যে পড়ার জন্য আবেদন করতে পারে। এর ফলে তার পড়াশোনা বন্ধ হবার সম্ভাবনা থাকবে না। এভাবেই আঁখি তার মানসিক চাপ কমাতে পারবে।
আঁখির বান্ধবী তার সমস্যা সমাধানের জন্য পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করতে বলে। তার পরামর্শটি আঁখির জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে আমি মনে করি।
আমরা জীবনের নানা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই। তখন পরিবারের সদস্যরা আমাদের পাশে থাকলে যেকোনো বিপর্যয় মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়।
আমরা পারিবারিক পরিবেশেই বেড়ে উঠি। পরিবারই আমাদের সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে। তাই আমরা যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হই তখন হতাশ না হয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করতে হবে। এর ফলে খুব সহজেই যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। আঁখির বাবা অবসর গ্রহণ করেছে। এ কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে আঁখি মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে। তার এ অবস্থা দূর করার জন্য তার বান্ধবী তাকে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করতে বলে। এর ফলে আঁখির মানসিক চাপ দূর হতে পারে। আঁখি তার পরিবারের সদস্যদের তার পড়ালেখা বন্ধ না করার জন্য বলবে। সে তার পড়ালেখার খরচ নিজেই বহন করতে পারবে এরকম আশ্বাস দিবে। সে বিভিন্ন আয়মূলক কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার কথা তাদের জানাবে। এছাড়া আঁখি তার পড়ালেখার ব্যাপারে তার শিক্ষকদের সহযোগিতার কথাও বলবে। এর ফলে তার পরিবারের সদস্যরা তার পড়ালেখা বন্ধ করা থেকে বিরত রাখবে। এভাবে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে আঁখি তার সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।
তাই বলা যায়, আঁখির বান্ধবীর পরামর্শটি যথার্থ।
Related Question
View Allকোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
ইমন কৈশোরকালে অবস্থান করছে।
ইমন মাঝে মাঝে স্কুল পালায় ও ক্লাসে অমনোযোগী থাকে। তার বয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও এ বয়সে নানা কারণে অপরাধী হয়ে ওঠে। এর কারণগুলো হলো-
১. পরিবারে বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ শিশুদের মনে বিষণ্ণতা তৈরি করে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলে।
২. পিতামাতার কঠোর শাসন, অতিরিক্ত ভালোবাসা, অযত্ন, অবহেলা, ইত্যাদি।
৩. পড়াশোনায় ব্যর্থতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সমবয়সীদের প্রভাব।
৪. পরিবারে নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলার অভাব হলে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, পিতামাতার সঠিক পদ্ধতিতে সন্তান পরিচালনা, ভগ্ন পরিবার, পারিবারিক বন্ধনের অভাবই এ বয়সী ছেলেমেয়েদের অপরাধী হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
ইমন ১৩ বছর বয়সী কিশোর। তার বাবা-মায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় তারা দুজন আলাদা বসবাস করেন। ফলে ইমন বাবা-মায়ের অবহেলায় বেড়ে উঠছে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাবে সে স্কুলে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। নিম্নলিখিত উপায়ে তার অপরাধ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যেমন-
১. ইমনের সাথে তার মা-বাবার বন্ধন দৃঢ় করে।
২. পরিবারের সবার মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরি করে।
৩. পরিবারের ভাঙ্গন রোধ করে।
৪. ইমনের বাবা-মার মধ্যে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলে।
৫. ইমনের বাবা-মার ইমনের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে।
৬. তার স্কুলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেওয়া ও প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে।
এ সকল বিষয় ছাড়াও ইমনেরও কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যেমন- ভালো বন্ধু দল নির্বাচন, নিয়ম ভঙ্গকারীকে খারাপ বন্ধু হিসেবে চিনে নেওয়া ইত্যাদি।
কোনো সমস্যা যেন উদ্ভব না হয় তার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা হলো প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
কৈশোরে বিষণ্ণতাজনিত কারণে খাবারে অনীহা আসে।
কৈশোরে অতিরিক্ত কঠোর শাসন, সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের অবনতি, বাবা-মায়ের কলহ, পড়াশোনায় ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণ থেকে যে বিষণ্ণতা আসে তা খাবারে অনাসক্তির অন্যতম কারণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!