১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়।
জাতীয় আদর্শের ভিত্তিতে যে স্বজাত্যবোধ গড়ে ওঠে তাই জাতীয়তাবোধ। অর্থাৎ যখন একটি অঞ্চল বা সমাজের মানুষ ভাষা, ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয় কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদেরকে 'অন্যদের থেকে আলাদা ভাবতে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য অনুভব করে, তখন তাকে জাতীয়তাবোধ বলে। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ সমাজ জাতি সৃষ্টি করে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বা করতে চায়।
আঁখির মানসিকতায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ পায়।
১৯৫২ সালে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া ভাষার প্রশ্নে প্রাণ দিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষা করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে সম্পূর্ণ অনৈতিক-অন্যায্যভাবে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা তা প্রতিরোধ করে। এজন্য বাঙালিদেরকে প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ ঘটনা বাঙালির ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। বাঙালিরা এর বিশ্বমর্যাদা পেয়েছে। এটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি জাতি এখন গর্বভরে একে পালন করে এবং স্মরণ করে। ভাষার প্রশ্নে এরূপ দুর্লভ ঘটনা পৃথিবীতে আর দেখা যায় না। তাই এটি আমাদের মানসিকতার সাথে মিশে আছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের লুসির চিন্তাচেতনা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের বড় অন্তরায়।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা বলতে যা বোঝায়, তা তার মধ্যে আছে বলে মনে হয় না। বাঙালি জাতি নিজেদের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। কেননা কেবল নিজ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেউ এরূপ সংগ্রাম করার নজির নেই। এমন অপরিসীম প্রেম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও ভালোবাসা থাকলেই কেবল নিজ জীবনের মায়া ত্যাগ করা সম্ভব। আর এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ভাষার মানরক্ষা করাও বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। ভাষার প্রশ্নে নিজ ভাষার ওপর অন্যকোনো ভাষার প্রাধান্য কোনোভাবেই থাকতে পারে না। বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা গ্রহণ করতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু অহেতুক নিজ ভাষা বাদ দিয়ে অন্য ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। এটি ভাষাশহিদদের সাথে উপহাসের শামিল, যা আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মতো। তাই লুসির চিন্তাচেতনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। যেখানে আমাদের ভাষাই যথেষ্ট সমৃদ্ধ, সেক্ষেত্রে অনর্থক অন্য ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্তরায় ছাড়া আর কিছুই নয়।
Related Question
View Allপাকিস্তানি শাসন আমলে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলনের নাম ছিল 'ভাষা আন্দোলন'।
৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।
উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।
১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!