কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি হলো শৃঙ্খলযোজন।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ হিসেবে বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তিকে স্বতন্ত্র কোনো পদ্ধতি বলা যায় না। কেননা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে আলোচ্য ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার অর্থই হলো কোনো ঘটনা যেসব নিয়মের অধীন তা উল্লেখ করা, অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তি করা এবং একই সাথে ঘটনাটি সংঘটনের কারণগুলোকে উল্লেখের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করা। অর্থাৎ শৃঙ্খলযোজন করা। কাজেই এদিক থেকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যথার্থতা প্রতিপাদনে বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তি- এ তিনটি রূপেরই মিলিত প্রয়োগ অপরিহার্য।
উদ্দীপকে আঁখির দাদার দেওয়া ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। নিচে তা নিরূপণ করা হলো:
ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণের মাধ্যমে এবং প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিশেষ তথ্যের উল্লেখের ভিত্তিতে আলোচ্য ঘটনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এবং এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সম্বন্ধগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বর্ণনা প্রদানের প্রক্রিয়াই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। যেমন : 'চন্দ্রগ্রহণ'কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি বলা হয়, 'সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন এক সমান্তরালে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর ছায়ার মধ্য দিয়ে চাঁদকে অতিক্রম করতে হয় বলে চন্দ্রগ্রহণ হয়। তাহলে এ ব্যাখ্যাটি হবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। কারণ এখানে চন্দ্রগ্রহণের ঘটনাটিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের অধীনে এনে সহজবোধ্য করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কাজেই আলোচ্য ব্যাখ্যাটিকে একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে অভিহিত করা যায়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়- আঁখির দাদা চন্দ্রগ্রহণের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
উদ্দীপকে আঁখির দাদার ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। নিচে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ধরন দুটি বিশ্লেষণ করা হলো:
* বিশিষ্ট ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোনো বিশিষ্ট ঘটনার কারণ আবিষ্কার করা। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি যে কার্যকারণ নিয়মে সংঘটিত হয়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মূলত তা-ই ব্যক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে বিশিষ্ট ঘটনাটিকে প্রথমে এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অনুরূপ অন্যান্য ঘটনার সাথে সম্পর্কিত করা হয়। এরপর এই সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আরোহ অনুমান প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, আলোচ্য বিশিষ্ট ঘটনাটি এবং এর সাথে সাদৃশ্যপূ ঐ ঘটনাগুলো মূলত একই কারণ থেকে অনুসৃত ভিন্ন ভিন্ন কার্য। যেমন: বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কলিন, বজ্রপাতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রথমে এর সাথে বৈদ্যুতিক ঘটনার সাদৃশ্য আবিষ্কার করেন। এরপর বজ্রপাতকে বৈদ্যুতিক ঘটনার সাথে সংযুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত উভয়ই একই ঘটনা থেকে নিঃসৃত; অর্থাৎ উভয়ই একই কারণের কার্য। আর এভাবেই তিনি বিশিষ্ট ঘটনা হিসেবে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
* নিয়ম সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: কোনো বিশিষ্ট ঘটনাকে যে নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, সেই নিয়মটিকে আবার ব্যাপকতর কোনো প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করতে হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিশিষ্ট ঘটনাটি যে নিয়মে সংঘটিত হয়, সেই নিয়মের সাথে কোনো ব্যাপকতর নিয়মের সাদৃশ্য নির্ণয় করে উভয় নিয়মকে সংযুক্ত করা হয়। এরপর অবরোহ অনুমান প্রয়োগ করে দেখানো হয়, ব্যাপকতর নিয়মটি থেকে এর অধীনস্থ বিশিষ্ট ঘটনার নিয়মটি অনুসৃত হয়েছে। যেমন: ব্যাপকতর নিয়ম হিসেবে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের সাথে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জোয়ার-ভাটার নিয়মকে এর সাথে সংযুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। আর এভাবেই জোয়ার- ভাটার নিয়মটি মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম থেকে অনুসৃত হয়।
Related Question
View Allজগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযোগ ক্রিয়া বর্তমান।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!