মাদক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ সালে পাশ হয়।
সমাজ থেকে অবাঞ্ছিত অবস্থা দূর করে সুন্দর, সুষ্ঠু ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলার জন্য যে সকল আইন প্রণয়ন করা হয় সেগুলোই সামাজিক আইন।
নাগরিকের কল্যাণে রাষ্ট্র কর্তৃক নানা ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। এ সকল আইন নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যে পরিবর্তন আনয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ আইনগুলোর মাঝে জনকল্যাণ সম্পর্কিত আইন হচ্ছে সামাজিক আইন। মূলত সমাজের স্বাভাবিক গতিধারাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। যে আইন প্রণয়ন করা হয় তাই সামাজিক আইন।যে আইন প্রণয়ন করা হয় তাই সামাজিক আইন।
উদ্দীপকের নাজমা ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারেন।
যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নারী ও তার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্নও হতে হয়। এ কারণে যৌতুক প্রতিরোধে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয়। এ আইন ১৯৮১ সালের ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে কার্যকর করা হয়। এ আইন অনুযায়ী আসাদের আচরণকে এক ধরনের অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
উদ্দীপকের আসাদ ও নাজমার বিয়ে হয়েছে তিন মাস। এর মাঝেই বিয়ের সময় চুক্তিকৃত টাকা ও উপহার দেওয়ার জন্য আসাদ নাজমাকে চাপ দিচ্ছেন যা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে রূপ নিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে নাজমা ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের মাধ্যমে সহায়তা পেতে পারে।
হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের আসাদের মতো ব্যক্তিদের সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা রোধের উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রণীত হয়েছে।
যৌতুকের মতো অমানবিক প্রথা রোধ করতে 'যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০' প্রণীত হয়। এ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনের অভিভাবকের কাছে যৌতুক দাবি করলে সে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড যা এক বছরের কম হবে না অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়াও যৌতুক প্রদান বা গ্রহণে সহায়তাকারীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যৌতুক প্রদানে বাধ্য করা, যৌতুকের জন্য শারীরিক বা মানসিক বা উভয় ধরনের নির্যাতনে উৎসাহিত করা হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে আশা করা যায়, সামাজিকভাবে যে কেউ যৌতুক গ্রহণ বা প্রদানে বিরত থাকবে।
এছাড়া যৌতুক বিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যাপারে আইনটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যৌতুকের নেতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক কুপ্রথা হিসেবে একে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এই আইনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ যৌতুক প্রদানকে ঘৃণ্য কাজ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এমনকিযৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আইনটি সহায়ক হবে।
সুতরাং বলা যায়, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ ঘটাতে সাহস পাবে না।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পাত্র-পাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় কন্যাপক্ষ বরপক্ষকে বা বরপক্ষ কন্যাপক্ষকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাকে যৌতুক বলে। এখানে উপঢৌকন বলতে বাড়িঘর, জায়গা-জমি, নগদ অর্থ বা যেকোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।
বাল্যবিবাহ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। সে অনুযায়ী পাত্র বা পাত্রীর বয়স এর কম হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ আমাদের দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। তবে এ সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই থানায় দাপাড় গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন যা উপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ঐ এলাকার একজন সমাজকর্মী অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক সমস্যা, যেমন- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধের মতো সমস্যা সমাধান করা যায়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছে। আবার, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, কৌতূহল, হতাশা প্রভৃতির কারণে যুবকবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এতে সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি সমস্যাগুলো দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় সামাজিক আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একইসাথে সরকার প্রণীত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে এ সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক রহিম মিয়া মাত্র তের বছর বয়সে ফরিদাকে বিয়ে দিয়েছেন, যা ওপরের বর্ণনানুযায়ী বাল্যবিবাহের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে এলাকায় কর্মরত সমাজকর্মী সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের সমস্যা চিহ্নিতকরণ সচেতনতা সৃষ্টি আইন প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ আইন প্রণয়ন আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন। একইভাবে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।
বঙ্গীয় মাতৃকল্যাণ আইন প্রণীত হয় ১৯৪১ সালে।
১৯৮৩ সালের নারী নির্যাতন আইন নারীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- নারীর মানসিক নির্যাতনের শাস্তি এ আইনে নেই। এছাড়া যৌতুক আদায়ের জন্য যে অপরাধ করা হয় তা প্রতিরোধে যে আইনি বিধান রাখা হয়েছে তা কঠোর কিন্তু যৌতুক লেনদেনের ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ আইনে নারী নির্যাতন প্রতিকারে শাস্তির বিধান করলেও বিবাহ ভাঙনজনিত পরিস্থিতিতে স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া নির্যাতিত নারীসমাজের এক বিরাট অংশই এ আইনের আলো থেকে বঞ্চিত। এর কার্যকারিতার অভাবে দেশে নারী নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!