আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করাকে বোঝায়। এ বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সে জন্য আইন প্ৰণয়ন করে । আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের আইনের বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও উৎস, স্বাধীনতার স্বরূপ, প্রকারভেদ, সংরক্ষণের উপায়, সাম্যের ধারণা, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক এবং নাগরিক জীবনে আইনের শাসনের গুরুত্ব ইত্যাদি জানা একান্ত আবশ্যক ।
এ অধ্যায় পড়া শেষে আমরা-
♦ আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
♦ আইনের উৎস বর্ণনা করতে পারব
♦ আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব
♦ আইনের শাসনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব
♦ আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করব এবং আইন মেনে চলব ।
Related Question
View All'কমেনটরিজ অন দ্যা লজ অব ইংল্যান্ড' গ্রন্থটি ব্রিটিশ আইনজ্ঞ স্যার উইলিয়াম ব্লাকস্টোনের (Sir William Blackstone)।
এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
বিভিন্ন রাষ্ট্র পরস্পরের সাথে কেমন আচরণ করবে, এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা হবে তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
জনাব শ্যামল মিত্র যেখানে বিল উত্থাপন করেন তা আইনের প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
জনাব শ্যামল মিত্র একজন সংসদ সদস্য। তিনি তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আর জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইনসভা। আধুনিককালে আইনের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম উৎস হচ্ছে আইনসভা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে আইনের রদবদল ও সংশোধন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভার অপ্রতিহত ক্ষমতা রয়েছে। তার প্রভার সর্বত্র বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শ্যামল মিত্র তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভায় বিল উত্থাপন করেন।
জনাব অর্ক 'বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস- উক্তিটি যথার্থ।
বিচারকের রায় আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারকগণ সাধারণত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার করেন। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকগণ তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন তৈরি করে উক্ত মামলার রায় দেন এবং প্রয়োজনবোধে ঐ আইনের ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিচারকগণ সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। এভাবে বিচারকের রায় আইনে পরিণত হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল (John Marshall) ও চার্লস হিউজেস (Charles Evans Hughes) বহু নতুন আইন সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব অর্ক বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, তিনি একটি দেশের উচ্চ আদালতের প্রধান। একটি মামলায় অপরাধীর সাজা নির্ধারণের সময় প্রচলিত আইনের সাথে মিল না পেয়ে তিনি তার প্রজ্ঞা ও বিচার-বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণ করেন। বিচারক অর্ক বড়ুয়ার এ কাজের সাথে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিচারকের রায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অর্ক বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাম্যকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।
রাষ্ট্রের স্বার্থের পাশাপাশি ব্যক্তিস্বার্থেও জনগণের আইন মেনে চলা উচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২০০৫ সালে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করে। এ আইন পাস করার একটি ভয়াবহ প্রেক্ষাপটের কথা উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধূমপান রাষ্ট্রের নাগরিকদের মারাত্মক শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি বয়ে এনেছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র এ আইনটি পাস করে। শুধু এ আইন নয়, বরং নাগরিকের কল্যাণে রাষ্ট্র যেকোনো আইন পাস করে। নাগরিকরা আইন মানলে রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্র যেকোনো অরাজকতা থেকে মুক্ত থাকে। আইন মানলে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়। রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!