আইয়্যাম শব্দের অর্থ সময়, যুগ বা কাল আর জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতা। সুতরাং আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অজ্ঞতার। ফা। ঐতিহাসিক নিকলসনের মতে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেকার একশ বছর সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়া বলা হয়। পি.কে. হিট্টিও এই মত সমর্থন করেন। তবে আরব ঐতিহাসিকদের মতে হযরত ঈসা (আ)-এর মহাপ্রস্থানের পর থেকে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়া বলা হয়।
জাহেলী যুগের সামাজিক অবস্থা: মহানবী (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল পাপাসক্ত। তৎকালে দুনিয়ার মানুষ আল্লাহর বিধান ভুলে গিয়ে সকল প্রকার জঘন্যতম অনাচার ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। মানুষের আচার আচরণ ছিল বর্বর ও মানবতাবিরোধী। এ সময়ে মানুষের জান মাল ও ইজ্জতের কোন নিরাপত্তা ছিল না। সে সময়ের লোকদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা বলতে কিছু ছিল না। নরহত্যা, রাহাজানি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ছিল তাদের নেশা ও পেশা। 'রক্তের বদলে রক্ত' ছিল তাদের মূলনীতি। সে যুগে কন্যা সন্তানকে অপমান ও অভিশাপের কারণ বলে মনে করে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। এ ছাড়াও তারা মদ্যপান, জুয়া, ব্যভিচার ইত্যাদি। খারাপ কাজে সদা লিপ্ত থাক্ত। যুদ্ধ, নারী ও মদ ছিল তাদের নিত্ত সঙ্গী। শোষণের হাতিয়ার সুদ প্রথা ছিল জমজমাট। সাধারণ লোকেরা কতিপয় সুদখোর ব্যক্তির কাজে ছিল জিম্মি।
Related Question
View All"الم" (আলিফ-লাম-মীম) কুরআনের শুরুতে আসা এক ধরনের বিশেষ বর্ণমালা, যাকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তা‘আত (বিচ্ছিন্ন বর্ণ)
মর্মার্থ ও তাৎপর্য
- অর্থ রহস্যময়
- এর সঠিক অর্থ কেবল আল্লাহ তায়ালাই জানেন।
- ইসলামের প্রাচীন যুগ থেকেই আলেমরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত অর্থ গোপনই রাখা হয়েছে।
- কুরআনের অলৌকিকতার অংশ
- এই বর্ণগুলো কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এসেছে।
- অনেক আলেমের মতে, এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ এর মধ্যে এক বিশেষ সংকেত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, এটি কুরআনের ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকতার প্রমাণ।
- মানুষের জন্য শিক্ষা
- আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানুষের জ্ঞান সীমিত—এটি বিনম্রভাবে স্বীকার করার শিক্ষা দেয়।
- আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুরআনের প্রতিটি হরফেই গভীর জ্ঞান ও রহস্য লুকিয়ে আছে।
- যেসব সূরায় এসেছে
- সূরা আল-বাকারাহ (২:১)
- সূরা আলে ইমরান (৩:১)
- সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১) — ইত্যাদি
মুত্তাকী (المتقين) শব্দটি এসেছে তাকওয়া (تقوى) থেকে, যার অর্থ আল্লাহভীতি, সতর্কতা, ও গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা। কুরআন ও হাদিসে মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য:
- গায়েবের প্রতি ঈমান রাখা (আল্লাহ, ফেরেশতা, আখেরাত ইত্যাদি)
- সালাত কায়েম করা
- আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করা
- কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা
- আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা
গুনাহ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা, এমনকি সন্দেহজনক বিষয় থেকেও বিরত থাকা
هدى للمتقين — “মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের প্রভাব ও ফল লাভ করেন কেবল আল্লাহভীরু ও সত্যগ্রহণে প্রস্তুত মানুষ।
এখানে "হিদায়াত" বলতে কার্যকর দিকনির্দেশনা বোঝানো হয়েছে—যা শুধু সেই ব্যক্তির জীবনে প্রভাব ফেলে, যে তা গ্রহণ করতে চায়।
هدى للناس — “মানবজাতির জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের বার্তা সবার জন্য উন্মুক্ত।
এখানে কুরআনের সর্বজনীন বার্তা বোঝানো হয়েছে—এটি জাতি, ধর্ম, ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য পথপ্রদর্শক।
মূল শিক্ষা
- কুরআন সবার জন্য নাজিল হয়েছে (هدى للناس), কিন্তু প্রকৃত উপকার পান তারা, যাদের অন্তরে তাকওয়া আছে (هدى للمتقين)।
- যেমন বৃষ্টি সবার জমিতে পড়ে, কিন্তু ফসল জন্মায় শুধু সেই জমিতে, যা প্রস্তুত ও উর্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!