মুসলিম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণকারী ও শান্তিকামী।
তাকরিরি হাদিস বলতে রাসুল (স)-এর সম্মতিমূলক হাদিসকে বোঝায়। তাকরিরি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- স্বীকার করা, স্বীকৃতি দেওয়া, সম্মতি প্রদান, মৌন সমর্থন করা ইত্যাদি। পরিভাষায় শরিয়তের বিধান হিসেবে সাহাবিদের যেসব কাজের প্রতি রাসুল (স) সমর্থন বা সম্মতি প্রদান করেছেন অথবা যেসব ব্যাপারে নীরবতা পালন করেছেন তাকে হাদিসে তাকরিরি বলে।
পাঠ্যবইয়ের ৪ নং হাদিসের আলোকে আকবর হোসেনের চরিত্রে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত ৪নং হাদিসটি মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য সংবলিত। এ হাদিসটি হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম উভয় হাদিস শরিফে সংযোজিত হয়েছে। এ হাদিসে মহানবি (স) মুনাফিকের তিনটি চিহ্নের কথা বলেছেন। যথা- মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং খিয়ানত করা। এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই উদ্দীপকের আকবর হোসেনের মধ্যে লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ তার কর্মকাণ্ডকে নিফাক বলা হয় এবং তাকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
আকবর হোসেন প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলেন। হাদিস অনুযায়ী এটি মুনাফিকদের প্রথম বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতপক্ষে একজন মুনাফিক সব সময়ই মিথ্যা কথা বলে এবং এর মাধ্যমে নিজের কপটতা গোপন করে লোক দেখানো ইমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মুনাফিকের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো কথা দিয়ে কথা না রাখা বা ওয়াদার বিপরীত কাজ করা। এ বৈশিষ্ট্যটিও আকবর হোসেনের চরিত্রে পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া আকবর হোসেন আমানতের খিয়ানত করেন। এটি মুনাফিকদের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য। তাদের কাছে কোনো আমানত রাখা হলে তারা তা আত্মসাৎ করে। তারা যেমন কোনো কথার নিরাপত্তা দেয় না, তেমনি তারা সম্পদও হেফাজত করে না। ফলে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না। এ জন্যই আকবর হোসেনকে কেউ বিশ্বাস করে না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আকবর হোসেনের চরিত্রে মুনাফিকের তিনটি লক্ষণই প্রকাশ পেয়েছে।
ফরিদের মতো চরিত্র গঠনে আকবর হোসেনকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথে চলতে হবে। একজন মুমিন আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে রাসুল (স)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন গঠন করেন। ফলে তার চরিত্র উত্তম গুণাবলিতে ভাস্বর হয়ে ওঠে এবং তিনি সবার কাছে প্রশংসিত হন। উদ্দীপকে বর্ণিত ফরিদ উদ্দিনকেও আমরা একজন মুমিন বলতে পারি।
আকবর হোসেনের চরিত্রে মুনাফিকের সব লক্ষণ প্রকাশিত। অন্যদিকে ফরিদ উদ্দিন তার সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের অধিকারী। আকবর হোসেন যদি নিজের চরিত্র সংশোধন করতে চান তাহলে তাকে ফরিদ উদ্দিনের মতো আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুসারে জীবন গঠন করতে হবে। প্রথমেই তাকে মিথ্যা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ মিথ্যা সব পাপের মূল। এছাড়া কথায় ও আচরণে সত্যবাদিতাকেই মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কেননা, মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে সত্যবাদিতাই পার্থক্য রচনা করে। তাছাড়া আকবর হোসেনকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং কথায় ও কাজে মিল রাখতে হবে। তাকে সম্পূর্ণরূপে আমানতের খিয়ানতের অভ্যাসও পরিত্যাগ করতে হবে। তাহলে তিনি সবার আস্থা অর্জন করতে পারবেন।
পরিশেষে বলা যায়, ওপরের কাজগুলো করার মাধ্যমে আকবর হোসেন একজন সৎ ও মুমিন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!