অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই জনগণ তার এ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, যদি কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে, অন্য প্রার্থীর প্রচার কাজে ব্যাখাত ঘটায়, নির্বাচনে অসঙ্গত প্রভাব খাটিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে, জাল ভোট দেয় প্রভৃতি নির্বাচনি আচরণবিধি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শাস্তি ভোগ করবে। উদ্দীপকের আকমল সাহেব এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য বা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিকার হিসেবে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে ব্যবস্থা রয়েছে।
উদ্দীপকের আকমল সাহেবও তেমনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। কারণ তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন এবং তার কর্মীরা অন্য প্রার্থীর লিফলেট, ব্যানার নষ্ট করেছে। এসব কাজ দ্বারা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনকেই বোঝায়।
পরিশেষে বলতে পারি, শুধু আইন করে বা আইনের দ্বারা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিকার করা যায় না, এর সাথে সামাজিক সচেতনতা বা নাগরিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে।
উদ্দীপকের আকমল সাহেবের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। যার ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। এক্ষত্রে অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আকমল সাহেবের মতো জোর করে নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গলা টিপে হত্যা করে থাকে। আধুনিক যুগ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যুগ। আর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হলো প্রার্থী বাছাই করে শাসনকার্য পরিচালনা করা। এজন্য বর্তমান শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচনের মাধ্যমে একদিকে জনমত প্রকাশ পায় অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই উদ্দীপকের আকমল সাহেবের মতো প্রভাবশালী দুর্নীতিপরায়ণ লোকদের কর্মকান্ডের জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন সম্ভব হয় না।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!