হাসির মাধ্যমে সমাজের অসংগতি প্রকাশ করা যায়।
শেখ তোফাজ্জল হোসেনের আঁকা কার্টুনটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আঁকা।
শেখ তোফাজ্জল হোসেনের আঁকা কার্টুনটিতে দেখা যায় একটি গরু পূর্ব পাকিস্তানে ঘাস খাচ্ছে, কিন্তু তার দুধ চলে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পূর্ব ও পশ্চিম দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছিল আমাদের দেশের পূর্ব নাম। আমাদের দেশকে পশ্চিম পাকিস্তান শাসকেরা শোষণ করত। আমাদের দেশে ফসল উৎপাদন করে তারা নিয়ে যেত পশ্চিম পাকিস্তানে। একটি গরুর মাধ্যমে শোষণের কথাটিই শেখ তোফাজ্জল হোসেন তাঁর কার্টুনে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার গ্রাফিতির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে সেগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
গ্রাফিতি হলো দেয়ালে আঁকা, লেখা বা ছবি, যা শোষকের বিরুদ্ধে জনতার মনের ভাব প্রকাশ করে। শহর বা নগরের দেয়ালে দেয়ালে আঁকা এসব গ্রাফিতি মানুষকে আন্দোলন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ শোষকের অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিষয় জানতে পারে এবং প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।
উদ্দীপকের আকিব তার চাচ্চুর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়াতে যায়। সেখানে সে দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য ছবি আঁকা দেখতে পার। তার চাচ্চুকে সে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান সেই ছবিগুলো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে আঁকা। দেয়ালে আঁকা এই ছবিগুলো 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' ।
রচনায়ও বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে। এই রচনার সালের অভ্যুত্থানে নাম-না-জানা শিল্পীদের অসংখ্য কার্টুন, ব্যয় গ্রাফিতির কথা বলা হয়েছে। তারা আন্দোলন চলাকালীন আন্দোলনের পরেও শহরের দেয়ালে দেয়ালে অনেক। এঁকেছেন। ফলে আন্দোলনের পরেও অনেক মানুষ এসব। দেখে আন্দোলন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছে। আগের ও আন্দোলনের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এগুলোনে উঠেছে। ফলে এই গ্রাফিতিগুলো আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উক্তিটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি বোঝায় যে চিত্রশিল্প, বিশেষ করে দেয়ালচিত্র, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার শুধু সময়ের প্রতিবাদের ভাষা নয় — বরং ইতিহাসের অংশ, যা ভবিষ্যতের আন্দোলন ও সচেতনতা জাগানোর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
পঠিত রচনার আলোকে যৌক্তিকতার দিকগুলো:
1. ইতিহাসের জীবন্ত দলিল:
রচনায় বলা হয়েছে,
“পোস্টার, ব্যঙ্গচিত্র ও কার্টুন ছিল আন্দোলনের প্রতীক, যা সময়কে ধারণ করেছে।”
এই চিত্রগুলো কেবল তখনকার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের এক অসামান্য সাক্ষ্য।
2. নতুন প্রজন্মের চেতনা জাগ্রত করে:
আকিবের মতো ছোট শিক্ষার্থী যখন দেয়ালে আঁকা চিত্র দেখে ইতিহাস জানতে পারে, তখন তা তার মনে নতুন করে জিজ্ঞাসা, সচেতনতা ও জাগরণ সৃষ্টি করে।
এই জাগরণই ভবিষ্যতের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
3. চিরস্থায়ী বার্তা বহন করে:
রচনায় বলা হয়েছে,
“প্রতিবাদের ভাষা পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু এর প্রেরণা, উদ্দেশ্য ও শক্তি থেকে যায়।”
এই ছবিগুলো সময়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবাধিকারের, ন্যায়ের ও গণআন্দোলনের চেতনাকে বহন করে।
4. প্রতিরোধের চেতনা চিরজাগ্রত রাখে:
উক্তিতে বলা "নতুন দিনে নতুন প্রয়োজনে" — এ কথার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যদি আবার কোনো অন্যায়-অবিচার ঘটে, তবে এই ছবিগুলিই হবে নতুন প্রতিবাদের প্রেরণা।
উদাহরণ:
যেমন:
ভাষা আন্দোলনের পোস্টার বা দেয়ালচিত্র এখনও আমাদের ভাষাচেতনা জাগিয়ে তোলে।
তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ছবিগুলো ভবিষ্যতের অন্যায়-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
“এগুলো নতুন দিনে নতুন প্রয়োজনে আমাদের নতুনভাবে জাগিয়ে তুলবে” — উক্তিটি শুধু আবেগপ্রবণ নয়, বরং পঠিত রচনার মূল ভাবের বাস্তব ও যুক্তিপূর্ণ প্রতিফলন।
কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার যেমন অতীতে জনগণকে জাগিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ, চেতনা ও জাগরণের মশাল হয়ে থাকবে।
এগুলো ইতিহাসের সম্পদ — যা স্মরণ করায়, শিখায় এবং সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।
Related Question
View All১৯৭১ সালে নিতুন কুন্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধে শত্রুদের বিরুদ্ধে বাংলার মুক্তিবাহিনীর সদা জাগ্রত থাকা।
একটি বাক্য যখন গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদকে ধারণ করে তখন তা হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শাসকশ্রেণি যখন স্বৈরাচারী হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে তখন মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। জনতার সঙ্গে মিছিল-সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনতাকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। তাঁরা তাঁদের চিত্রকর্মে যেসব বাক্য ব্যবহার করেন সেগুলোতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে এগুলো মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এভাবেই একটি বাক্য হাজার মানুষ মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকর্মের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র গণআন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রবন্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলোর কথা বলা হয়েছে, যা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ ঘটায়। একইভাবে উদ্দীপকে রনির মামা দেয়ালের চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
দুই ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রবন্ধে দেখা যায়, অনেকে নির্যাতিত ও নিহত হয়েছেন, যেমন মুশতাক আহমেদ। উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিত্রকর্মের অনেক স্রষ্টা নির্যাতনের শিকার হয়ে শহিদ বা পঙ্গু হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র কেবল প্রতিবাদের ভাষাই নয়, বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পকে গণআন্দোলনের ভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকর্ম শুধুমাত্র সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা জনসচেতনতা, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকা হয়েছিল। এসব চিত্রশিল্প স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে উঠেছিল। শিল্পীরা তাদের রঙ, তুলি ও লেখার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এ চিত্রকর্মগুলো শুধুই নান্দনিকতা বা শৈল্পিক রুচির বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং এগুলোর মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যন্তরীণ বেদনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রনির মামা বিদেশে থাকার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করতে পারছিলেন না। তবে দেশে ফিরে তিনি যখন দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম দেখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন আন্দোলনটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন গণপ্রতিরোধের রূপ ধারণ করেছে। তিনি এসব চিত্রের মাধ্যমে আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগণের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, অনেক শিল্পী রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। লেখায় মুশতাক আহমেদের মত সাহসী লেখক ও শিল্পীর উদাহরণ এসেছে, যিনি বাকস্বাধীনতার পক্ষে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকে রনি তার মামাকে জানান যে, এসব চিত্রকর্মের স্রষ্টাদের অনেকে হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অথবা শহিদ হয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয়ই একটি অভিন্ন বস্তুর আলোকপাত করেছে—শিল্প এবং প্রতিবাদ একে অপরের পরিপূরক। দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার কেবল মুহূর্তের আবেগ নয়; বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের এক অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে একটি জাতির সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারবে এবং প্রেরণা নিতে পারবে। সুতরাং, প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মধ্যে গভীর ভাবসম্পৃক্ততা বিদ্যমান, যা গণআন্দোলনের চিত্র ও আত্মার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
পৃথিবীর অনেক দেশে নানা সময় স্বৈরাচারী সরকার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে জনগণকে শোষণ করে। তখন সময়ের প্রয়োজনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এসব আন্দোলনে সবার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা একদিকে যেমন মানুষের সঙ্গে মিছিল-মিটিং করেন, নানা কর্মসূচি পালন করেন অন্যদিকে তাঁরা আবার তাঁদের আঁকা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের মাধ্যমে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁদের আঁকা ছবিগুলো আন্দোলনকে অনেক শক্তিশালী করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!




