হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
আক্তার হোসেন সাহেব একজন দানশীল ব্যক্তি।
তিনি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে আক্তার হোসেন সাহেবের এলাকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষার একটা উপযুক্ত ব্যবস্থা হলো। আক্তার হোসেন সাহেব প্রতিবছর সেই স্কুলের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেন। এতে ছেলেমেয়েরা অল্প খরচে স্কুলে পড়াশোনা করতে পারছে। সম্প্রতি আক্তার হোসেন সাহেব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে তাদের গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। এই ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে আক্তার হোসেন সাহেবের গ্রাম স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে গেল। একটি দেশ তখনই এগিয়ে যাবে, যখন দেশটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এগিয়ে যাবে। তেমনি আক্তার হোসেন সাহেবের গ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়ায় এই গ্রামটির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সামাজিকভাবে এই গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আবার আক্তার হোসেন সাহেব বিভিন্ন সময় গরিব, অসহায় ব্যক্তিদের কল্যাণে দান করে থাকেন। এতে সামাজিকভাবে আক্তার হোসেন সাহেবের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি আরও ব্যয় করতে উৎসাহিত বোধ করতে পারেন।
শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে বেসরকারি বা ব্যক্তি খাতের সুযোগ সীমিত।
এ কারণেই রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা, জনসাধারণের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকার দেশের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয় করে। এ ছাড়া সরকার বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যয় করে থাকে। যেমন- দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বেসামরিক প্রশাসন কাজ পরিচালনা করা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ব্যয় করে থাকে, বেকার সমস্যা লাঘবের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করে থাকে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মন্দা প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ব্যয় করে থাকে। সমাজে বিদ্যমান আয় ও সম্পদের বৈষম্য হ্রাস, সম্পদের সাথে সামঞ্জস্যতা বিধানের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। নগরায়ণের জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্যও বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করে থাকে। নিম্নবিত্তের লোকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সামাজিক কল্যাণসাধনে সরকার ব্যয় করে থাকে। বাংলাদেশ সরকার উল্লেখিত উদ্দেশ্যে ব্যয় করে থাকে। বিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রীয় ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গণতন্ত্রের বিকাশ ও উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্য ও ব্যাপকতা লাভ করেছে l
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!