জ্ঞানার্জন এবং তা সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ ও ব্যবহারের কৌশলকে শিক্ষা বলে।
জ্ঞানচর্চা বলতে জ্ঞানের অনুশীলনকে বোঝায়। জ্ঞানচর্চা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে জেনে তা যথাযথ প্রয়োগ করা, জ্ঞানের মধ্যে ডুবে থাকা। এতে অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসুল (স) বলেন, রাতে এক ঘন্টা জ্ঞানচর্চা করা সারারাত নফল ইবাদত করার চেয়েও উত্তম (দারিমি)। জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে একজন মানুষের মন-মানসিকতা ও মননশীলতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি পার্থিব ও পরকালীন জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
সফল ইবাদতের জন্য জ্ঞানচর্চা করা প্রয়োজন। শিক্ষা অর্থ চর্চা দ্বারা কোনো বিষয় আয়ত্ত নেওয়া। পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন ও প্রদানের কৌশলকে শিক্ষা বলা হয়। আর ইসলাম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞানলাভ করার শিক্ষাই ইসলাম শিক্ষা। বিস্তারিতভাবে বলা যায়, যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ক্লাসের ফাঁকে কয়েকজন বন্ধু শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদতের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। এমতাবস্থায় ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক তাদের কাছে আলোচনার বিষয়টি অবহিত হয়ে মহানবি (স) এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন মুহাম্মদ (স) বলেন,
تَدَارُسُ العِلْمِ سَاعَةَ مِنَ اللَّيْلِ خَيْرٌ مِنْ أَحْيَائِهَا
অর্থ: রাতের একঘন্টা জ্ঞানচর্চা করা সারা রাতের ইবাদতের | চেয়েও উত্তম। (দারিমি)
উল্লিখিত হাদিসটি দ্বারা জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব ফুটে ওঠেছে। মানুষের জীবনধারায় ইসলাম শিক্ষার গুরুত্ব ফুটে ওঠেছে। কেননা অন্য সকল সৃষ্টির ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ তার শিক্ষা। হযরত আদম (আ) আল্লাহর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেই ফেরেশতা ও জিন জাতির ওপর মর্যাদাবান হয়েছিলেন। ইসলাম শিক্ষা মানুষের অসৎ চরিত্র ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে সচ্চরিত্র গঠন করে। আদিকাল হতে পৃথিবীতে যত অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন ও অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, তার কারণ হলো অনৈতিকতা ও ইসলামের বিধান পালন না করা। আধুনিক যুগেও এর ভয়াবহ বিস্তার লক্ষ করা যায়। এ থেকে মুক্তি পেতে দরকার সচ্চরিত্র। সচ্চরিত্র বা Character নামের এ মহামূল্যবান সম্পদটি অর্জন করা সম্ভব ইসলাম শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে। তাই জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অনেক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাদিসটিতে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ফুটে ওঠেছে। ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। এ শিক্ষার সীমাহীন গুরুত্বের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দান করেন। ইসলামি শিক্ষা মানুষকে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত করে তোলে। দীনি ইলম তথা ইসলামের শিক্ষা অর্জন করা ব্যতীত ইসলামকে বোঝা এবং এর মর্ম-অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যে যত বেশি ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করবে সে ইসলামের মর্মার্থ তত বেশি অনুধাবন করতে পারবে এবং সঠিকভাবে ইসলামকে পালন করতে পারবে।
ইসলামি জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষক আলিম সাহেব মহানবি (স) এর যে হাসিদটি উল্লেখ করেন তা, হলো:
تَدَارُسُ الْعِلْمِ سَاعَةَ مِنَ اللَّيْلِ خَيْرٌ مِنْ أَحْيَانِهَا -
অর্থ: রাতের এক ঘন্টা জ্ঞান চর্চা করা সারা রাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। (দারিমি) সকল ইবাদত সম্পন্ন করার জন্য ইসলাম শিক্ষা প্রয়োজন। আল্লাহর ইবাদত করা যে অনিবার্য সে বিষয়টি জানাও শিক্ষার ওপরেই নির্ভর করে। এজন্য অন্য সকল ইবাদতের চেয়ে ইসলাম শিক্ষা অধিকতর শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তাই ইসলাম শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিহার্য।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!