লুইস হেনরি মর্গানের 'Ancient Society' ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।
পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সামাজিক কাজ অন্যতম। সামাজিক মূল্যবোধ, আচার, প্রথা, রীতিনীতি, অভ্যাস কীভাবে মেনে চলতে হয়, শিশুরা সে সম্পর্কে পরিবারেই প্রথম শিক্ষালাভ করে। স্নেহ, মায়া, মমতা ও ত্যাগের আদর্শের সাথে শিশুরা পরিবারেই প্রথম পরিচিত হয়। এসব গুণ পরবর্তীতে তাদের চরিত্রের ওপর প্রভাব ফেলে।
উদ্দীপকে স্থিরকৃত বিবাহ ও রোমান্টিক বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।
যে বিবাহের ক্ষেত্রে পুত্র-কন্যার অভিভাবকরা পাত্র-পাত্রী মনোনয়ন করে বিবাহের সম্বন্ধ স্থির করে তাকে স্থিরকৃত বিবাহ বলে। বাংলাদেশে অধিকাংশ বিয়ের ধরন স্থিরকৃত। উদ্দীপকে বর্ণিত দীপার বিয়েটিও তার বাবা-মা স্থির করেছেন যা স্থিরকৃত বিবাহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অপরদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত দীপার বান্ধবী কেয়া নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছে, যা রোমান্টিক বিবাহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা পাত্র-পাত্রীর স্বাধীন ইচ্ছায় যে বিবাহ সম্পাদিত হয় তাকে রোমান্টিক বিবাহ বলা হয়। রোমান্টিক বিয়ে অধিকতর আধুনিক সমাজে লক্ষ করা যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে স্থিরকৃত বিবাহ ও রোমান্টিক বিবাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।
অস্থিরকৃত বিবাহ ও রোমান্টিক বিবাহ ছাড়াও আমাদের দেশে আরও কতকগুলো বিবাহের ধরন প্রচলিত রয়েছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো-
একক বিবাহ: একক বিবাহে একজন মহিলা ও একজন পুরুষের মধ্যে বিবাহ হয়। বর্তমানে একক বিবাহই হলো সর্বজন স্বীকৃত এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যবস্থা যা সকল সভ্য সমাজই স্বীকার ও সমর্থন করে।
বহু স্ত্রী বিবাহ: একজন পুরুষের সাথে একাধিক মহিলার বিবাহকে বহু স্ত্রী বিবাহ বলে। বাংলাদেশে বহু স্ত্রী বিবাহ এখনো লক্ষণীয়
অনুলোম ও প্রতিলোম বিবাহ: উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নীচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহকে অনুলোম বিবাহ বলে। আর নীচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহকে প্রতিলোম বিবাহ বলে। আমাদের দেশে হিন্দু সমাজে এরূপ বিবাহ দেখা যায়।
লেভিরেট বিবাহ: এ প্রথায় কোনো ব্যক্তি তার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীকে বিবাহ করে।
সরোরেট বিবাহ: এ ধরনের বিবাহ প্রথায় কোনো ব্যক্তি তার মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করে।
সমান্তরাল কাজিন বিবাহ ও বিষম কাজিন বিবাহ: চাচাতো বা খালাতো ভাই-বোনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিবাহকে সমান্তরাল কাজিন বিবাহ বলে। আর মামাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিবাহকে বিষম কাজিন বিবাহ বলে। আমাদের দেশে মুসলমান সমজে এ ধরনের বিবাহ প্রচলিত আছে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরে উল্লিখিত বিবাহের ধরনগুলো আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!