'আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম'- কবিতায় আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য, পুরনো দিনের স্মৃতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। আগে গ্রামের মানুষের মধ্যে অকৃত্রিম সৌহার্দের বন্ধন ছিল, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ছিল অটুট। বর্তমানের কঠিন বাস্তবতায় মানবিক অশান্তির শিকার কবি তাই স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেছেন। তিনি ঐতিহ্যের রসে সিক্ত হয়ে সুখী হওয়ার পুরনো পথই খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি হলো- 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

উত্তরঃ

"বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি" বলতে গ্রামবাংলার পথ-ঘাট, ধানখেতের আল দিয়ে হেঁটে চলাকে বোঝানো হয়েছে। 

'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি আত্মপরিচয় নির্দেশ করতে গিয়ে বাঙালির বহু পুরনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে গ্রামবাংলার পথ-ঘাট, ধানখেতের আলপথে হেঁটে চলার কথাও বলেছেন তিনি। এতে গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের আদি যোগাযোগের পথনির্দেশ করেছেন তিনি। বাঙালির কৃষিকাজ এবং মাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকটি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্যকে স্মরণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে কিছু ঐতিহ্যগত দিক থাকে, যা তাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ তার ঐতিহ্য সংলগ্ন হয়েই বাঁচতে চায়। তাই ইতিহাস, ঐতিহ্যের বিষয়গুলো মানুষের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

উদ্দীপকে এদেশের চিরন্তন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করা হয়েছে। এখানে অতীতে বাংলার মানুষের অবস্থা, বাংলার ঐতিহ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। একসময় মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, বরং সৌহার্দ বজায় ছিল। সেসময় মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি ও বাংলার উত্থানের বিগত দিনগুলো স্মরণ করেছেন। আমাদের অতীত ইতিহাসের সোনালি দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন। কবি আমাদের চর্যাপদের সময় থেকে কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগ, বারো ভূঁইয়া, গীতাঞ্জলি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুকেই স্মরণ করেছেন। কবির অতীতের এই বিষয়গুলো মনে করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে বাঙালির আত্মসত্তা। এভাবে উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সঙ্গে বাঙালির অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

"ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

বাংলায় অভিন্ন সংস্কৃতির ধারা বহু বছরের ঐতিহ্য। এখানে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের লোক বাস করলেও তারা ভাষা-সংস্কৃতি ও আচার- ব্যবহারে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে চলছে। সবার সঙ্গে সবার সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উদ্দীপকে আবহমান গ্রামবাংলাকে স্মরণ করা হয়েছে। আগে এদেশের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে মিশত। সেই মেলামেশায় কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। তখন মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। বর্তমানে আগের সেই বৈশিষ্ট্য আর দেখা যায় না। উদ্দীপকে কবি এমন আক্ষেপের সঙ্গেই অতীতকে স্মরণ করেছেন। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতির ও বাংলাদেশের পশ্চাতের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। তিনি চর্যাপদ থেকে চাঁদ সওদাগর, কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগের কথা বলেছেন। তিনি একইভাবে পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বারো ভূঁইয়া, মধ্যযুগের সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাংলার এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। কবিতায় কবি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির চিরন্তন সাম্যের মন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসার বিষয় প্রকাশ করেছেন।

উদ্দীপকে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য এবং পুরনো দিনের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়েছে। উদ্দীপকের স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে কবি বেঁচে থাকার জন্য পুরনো দিনের পথকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন। আর 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি পুরনো ইতিহাস স্মরণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির উত্থান এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনের সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। অতীত স্মৃতিচারণের দিক দিয়ে উদ্দীপক এবং কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।

330

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,

আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।

চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।

তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?”


আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ।

আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। ।

আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।

আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে ।

 

এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে ।

এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে ।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে ।

এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে ।

আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা' থেকে।

আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।

আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে ।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে ।

এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে ।

এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে ।

এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

 

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে ।

আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।

এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।

শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?”

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই –

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই –

সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই ।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews