বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি হলো- 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
"বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি" বলতে গ্রামবাংলার পথ-ঘাট, ধানখেতের আল দিয়ে হেঁটে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি আত্মপরিচয় নির্দেশ করতে গিয়ে বাঙালির বহু পুরনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে গ্রামবাংলার পথ-ঘাট, ধানখেতের আলপথে হেঁটে চলার কথাও বলেছেন তিনি। এতে গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের আদি যোগাযোগের পথনির্দেশ করেছেন তিনি। বাঙালির কৃষিকাজ এবং মাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকটি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে
উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্যকে স্মরণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে কিছু ঐতিহ্যগত দিক থাকে, যা তাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ তার ঐতিহ্য সংলগ্ন হয়েই বাঁচতে চায়। তাই ইতিহাস, ঐতিহ্যের বিষয়গুলো মানুষের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকে এদেশের চিরন্তন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করা হয়েছে। এখানে অতীতে বাংলার মানুষের অবস্থা, বাংলার ঐতিহ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। একসময় মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, বরং সৌহার্দ বজায় ছিল। সেসময় মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি ও বাংলার উত্থানের বিগত দিনগুলো স্মরণ করেছেন। আমাদের অতীত ইতিহাসের সোনালি দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন। কবি আমাদের চর্যাপদের সময় থেকে কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগ, বারো ভূঁইয়া, গীতাঞ্জলি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুকেই স্মরণ করেছেন। কবির অতীতের এই বিষয়গুলো মনে করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে বাঙালির আত্মসত্তা। এভাবে উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সঙ্গে বাঙালির অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলায় অভিন্ন সংস্কৃতির ধারা বহু বছরের ঐতিহ্য। এখানে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের লোক বাস করলেও তারা ভাষা-সংস্কৃতি ও আচার- ব্যবহারে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে চলছে। সবার সঙ্গে সবার সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উদ্দীপকে আবহমান গ্রামবাংলাকে স্মরণ করা হয়েছে। আগে এদেশের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে মিশত। সেই মেলামেশায় কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। তখন মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। বর্তমানে আগের সেই বৈশিষ্ট্য আর দেখা যায় না। উদ্দীপকে কবি এমন আক্ষেপের সঙ্গেই অতীতকে স্মরণ করেছেন। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতির ও বাংলাদেশের পশ্চাতের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। তিনি চর্যাপদ থেকে চাঁদ সওদাগর, কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগের কথা বলেছেন। তিনি একইভাবে পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার, বারো ভূঁইয়া, মধ্যযুগের সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাংলার এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। কবিতায় কবি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির চিরন্তন সাম্যের মন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসার বিষয় প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য এবং পুরনো দিনের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়েছে। উদ্দীপকের স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে কবি বেঁচে থাকার জন্য পুরনো দিনের পথকেই আশ্রয় করতে চেয়েছেন। আর 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি পুরনো ইতিহাস স্মরণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির উত্থান এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনের সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ করেছেন। অতীত স্মৃতিচারণের দিক দিয়ে উদ্দীপক এবং কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট আলাদা। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!