সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনই হচ্ছে সামাজিক উন্নয়ন।
অন্য সংস্কৃতির ধারা নিজ সংস্কৃতিতে আয়ত্ত করাকে সাংস্কৃতায়ন বলে। আমাদের দেশে বহুবার বহিরাগত শাসক দ্বারা শাসিত হওয়ায় এখানে সাংস্কৃতায়ন 'প্রক্রিয়ার কারণ বলে মনে করা হয়। যেমন-ইংরেজরা প্রায় দু'শ বছর আমাদের শাসক ছিল বলে অনেক ইংরেজি শব্দ আমাদের ভাষায় মিশে গেছে।
আজমল সাহেবের পরিবারে সংস্কৃতির পরিবর্তন তথা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আজমল সাহেব ৫ বছর পর কাতার থেকে দেশে ফিরে ছেলেমেয়েদের পরিবর্তন দেখে বিস্মিত হন। তিনি লক্ষ করেন তার ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেট ও ফেসবুক ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের খবর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে। তার ছোট ভাই বিদেশে থেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছে। এসব বিষয় তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নকে নির্দেশ করছে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুসরণে আমাদের দেশে বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, বহুজাতিক কোম্পানি, আধুনিক বিপণী বিতান ইত্যাদির সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে এগুলোকে ঘিরে এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশের অনুকরণে প্রচলিত ধারার শিক্ষার সাথে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা চলছে। আবার প্রচলিত ধারার শিক্ষার পাশাপাশি দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন মূলত শিক্ষা সংস্কৃতিরই পরিবর্তন। যা শিক্ষার সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম বা প্রাইভেট চ্যানেল প্রতিষ্ঠার ফলে, সাংস্কৃতিক বিপ্লব সাধন করেছে। যার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে দ্রুত এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তাদের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটছে। এটি একটি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।
"উদ্দীপকের বৈচিত্র্যগুলো সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।"- উক্তিটি যথার্থ।
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন আচরণ বা সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে বলা হয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের মধ্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব বেশি লক্ষ করা যায়। পোশাক, খাদ্যাভাস, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, আচরণ, ফ্যাশন ইত্যাদিতে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যাকে আমাদের সংস্কৃতি থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। ইদানীং বিভিন্ন লোক উৎসব, বর্ষবরণ, মেলা ইত্যাদির আধিকা ও বিভিন্ন লোকসামগ্রীর সম্ভার দেখে এ পরিবর্তন স্পষ্টই চোখে পড়ে। আগে যেমন যাত্রা, পালাগান, সার্কাস, জারিসারির মাধ্যমে মানুষ বিনোদনের চাহিদা পূরণ করত, বর্তমানে ঘরে বসে ফেসবুক ও মিডিয়ার মাধ্যমে সে চাহিদা পূরণ করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।
বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় সংস্কৃতিতে আমাদের দেশে পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এক্ষেত্রে বস্তুগত সংস্কৃতি এগিয়ে আছে। যত দ্রুত আমরা ফ্রিজ, টেলিভিশন গ্রহণ করছি ততদূত অন্য দেশের ধ্যান-ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারি না। বাংলাদেশে পারিবারিক ব্যবস্থায় বা পারিবারিক সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। পূর্বের যৌথ পরিবার ভেঙে এখন একক পরিবার গ্রাম শহর উভয় স্থানে গড়ে উঠেছে। যা তাদের আচার-আচরণে ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সমঅধিকার ও নারী স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নারী-পুরুষের চিরায়ত সম্পর্কে পরিবর্তন এনেছে। এখন নারী-পুরুষ একত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজ করছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বৈচিত্র্যগুলো অর্থাৎ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!