Capital Consumption Allowance বা CCA।
সাধারণ অর্থনীতিতে দু'ধরনের প্রতিনিধি থাকে। পরিবার এবং ফার্ম। এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে আয়-ব্যয় বিনিময় প্রবাহকে আয়ের চক্রাকার প্রবাহ বলা হয়।
দেশের জনগণ তথা পরিবারের উৎপাদনের উপকরণগুলো হলো- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ফার্মের কাছে সরবরাহ করে। বিনিময়ে সেখান থেকে সেগুলোর দামস্বরূপ খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা বাবদ আয় করে। এ আয় জিডিপি এর সমান। এ প্রক্রিয়ায় পরিবার ও ফার্মসমূহের মধ্যে আয় ব্যয়ের চক্রাকার প্রবাহ বিদ্যমান থাকে।
আজহার সাহেবের মাছ চাষ কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত একটি উপখাত।
কৃষি হচ্ছে এরূপ সৃষ্টি সমন্বয়ী কাজ যা ভূমি কর্ষণ, বীজ বপন, শস্য-উদ্ভিদ পরিচর্যা ইত্যাদি থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য গুদামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফসল উৎপাদন ছাড়াও মাছ চাষ, পশুপালন ও বনায়ন কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের আজহার সাহেব এক সময়ে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে চাকরি করলেও অবসরে যাওয়ার পর অনেকদিন বেকার ছিলেন। তাই তার কাছে মনে হয়েছে মাছ চাষ কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। অন্যান্য কাজের তুলনায় মাছ চাষে পুঁজি কম লাগে অথচ আয় বেশি। তাছাড়া এখানে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অনেক অবসর সময় পাওয়া যায়, যা অন্য কাজে ব্যয় করলে বাড়তি আয় করা সম্ভব। কাজেই বলা যায়, আজহার সাহেবের মাছ চাষ কৃষিখাতের অন্তর্ভুক্ত বলা যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আজহার সাহেবের শাকসবজি চাষের অবদান লক্ষ্য করা যায়।
জীবিকা অর্জনের জন্য যখন বেকার লোকেরা অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগ কোনো কাজ করে কিংবা পেশায় নিযুক্ত হয় তখন তাকে স্বকর্মসংস্থান বলে আজহার সাহেবের শাকসবজি চাষ স্বকর্মসংস্থানের একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। এ চাষের মাধ্যমে তিনি তার এলাকার বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে স্বউদ্যোগে কোনো কাজ করা বা পেশা বেছে নেওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছেন। আজহার সাহেবের শাকসবজির চাষ অত্র এলাকায় শাকসবজির উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে। গ্রামের বেকারদের কেউ কেউ তার কাছ থেকে শাকসবজি কিনে গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি পরিবারের লোকজনকেও অবসর সময়ে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। তার সরবরাহকৃত শাকসবজি অত্র এলাকায় তার যোগান বাড়াতে ও দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।
তাই বলা যায় যে, আজাহার সাহবের শাকসবজি চাষ দেশের জাতীয় আয় বাড়াতেও সাহায্য করছে। তার উৎপাদিত শাকসবজি উন্নতমানের হওয়ায় তিনি তা বিদেশেও রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়বে।
Related Question
View Allকোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে যেসব দ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপন্ন হয় তার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না, বরং ব্যয়যোগ্য আয় থেকে সে ভোগ করে।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যক্তি তার আয়ের যে অংশটুকু ব্যয় করতে সক্ষম হয়, তাকে ব্যয়যোগ্য আয় বলে। সাধারণত, ব্যক্তিগত আয় থেকে সরকারকে প্রদেয় কর ও নিট ব্যবসায় সঞ্চয় বাদ দিয়ে হস্তান্তর পাওনা যোগ করলে তার ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। আর দেশের একজন নাগরিক হিসেবে কর প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যক্তি তার আয়ের সম্পূর্ণ অংশ ভোগ করতে পারে না। তাই বলা হয়, ব্যক্তির ভোগ তার আয় নয়, বরং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার করে ভোগ সূচি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ গ্রহণ করে নিচে ভোগ অপেক্ষকটির রেখা অঙ্কন করা হলো
জাতীয় আয় (Y) | ভোগ ব্যয়বিন্দু (Y, C) | বিন্দু (Y, C) |
০ | ১০০ | a |
১০০ | ১৯০ | b |
২০০ | ২৮০ | c |
৩০০ | ৩৭০ | d |
৪০০ | ৪৬০ | e |

উপরের সূচিতে লক্ষ করা যায়, জাতীয় আয় (Y) শূন্য হলে ভোগ ব্যয় (C) 100 একক হয় যা বিন্দু নির্দেশ করে। একইভাবে, জাতীয় আয় 100, 200, 300 ও 400 একক হলে ভোগ ব্যয় যথাক্রমে 190, 280, 370 ও 460 একক হয়। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d ও বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এখন প্রাপ্ত এই বিন্দুগুলো যোগ করলে পাওয়া যায় ভোগ রেখা। এটি হলো প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকের চিত্ররূপ।
উদ্দীপকে আয়স্তর শূন্য হলেও স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বিদ্যমান থাকায় ভোগস্তর হবে 100 একক। নিচে তা উদ্দীপক অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা হলো:
যে ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না তাকে স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় বলে। অর্থাৎ, আয় শূন্য হলেও এ ভোগ ব্যয় বজায় থাকে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আয় হয় তা থেকে ভোগ ব্যয় সম্পন্ন হয়। এখন বিবেচ্য বছরের পূর্বে কোনো সময়ে জমানো অর্থ থেকে ভোক্তা কিছু ভোগ ব্যয় করে থাকে। এই ভোগ ব্যয়কেই বিবেচ্য বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ বলে।
প্রদত্ত ভোগ অপেক্ষকে Y = 0 হলে,
C = ১০০ + ০.৯Y
বা, C =১০০ +০.৯ ০ [*: Y = ০ ]
বা, C = ১০০ + ০
বা, C = ১০০
C = ১০০একক।
এটিই হলো চলতি বছরের স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয়। আর যেহেতু স্বয়ম্ভূত ভোগ ব্যয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না, তাই আয়স্তর শূন্য হলেও ভোগ ব্যয় ১০০ এককে বজায় থাকে।
একটি দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি আর্থিক বছরে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয়, এগুলোর জন্য ভোক্তা সাধারণ, বিনিয়োগকারী ও সরকার যে ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তার সমষ্টিই হলো সামগ্রিক ব্যয়।
প্রবাসীরা নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় তাদের আয় নিজ দেশের GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশি-বিদেশি জনগণ মিলে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে। আর প্রবাসীরা দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে কর্মরত থাকে বিধায় GDP-এর সংজ্ঞা অনুসারে তাদের আয় GDP-তে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তাদের আয় GNP-তে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!