আজিজ মাস্টারের জন্য সবাই ছাতিম গাছের নিচে অপেক্ষা করে। কারণ স্কুলঘরের ভেতরে মিলিটারি হেফাজতে থাকা আজিজ মাস্টারকে নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা, মিলিটারি নিয়ে আগ্রহ এবং ভয়। মিলিটারি নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশের পর মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজ স্কুলের দপ্তরি রাসমোহনের মাধ্যমে আজিজ মাস্টারকে স্কুলঘরে ডাকেন। কিন্তু আজিজ মাস্টার ভীতু লোক। সে কিছুতেই একা সেখানে যেতে চাইছিল না। অবশেষে জয়নাল মিয়াসহ ছয়জনের একটি দল স্কুলঘরের দিকে রওয়ানা দেয়। যদিও নেতৃত্ব দেয় আজিজ মাস্টার। স্কুলঘরে পৌছানোর পর রফিক তাকে মেজর এজাজের কাছে নিয়ে যায়। বাকিদের স্কুলঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু তারা চলে যায় না। তারা অপেক্ষা করতে থাকে স্কুলঘর থেকে বেরিয়ে এসে জুম্মাঘরের কাছে ছাতিম গাছের নিচে। তারা আজিজ মাস্টারের অপেক্ষায় বসে থাকে সেখানে। এর পেছনের কারণ হলো তাদের ঔৎসুক্য। তারা জানতে চায় আজিজ মাস্টারের সঙ্গে স্কুলঘরের ভেতরে কী ঘটে! এর আগে গ্রামে এরকম ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। এক দিক দিয়ে প্রচন্ড ভয়, আরেক দিকে মিলিটারি সম্পর্কে তাদের আগ্রহ এবং সেই সঙ্গে নানা রকম চিন্তা-ভাবনা, দুশ্চিন্তা তাদের ভেতরে উঁকি দিচ্ছিল।
Related Question
View Allঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ '১৯৭১' উপন্যাসে একেবারে ছক কষে- মাটি, মানুষ, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট অবকাঠামো এঁকে বাংলার এক নিভৃত গ্রামকে বানিয়ে তুলেছেন যুদ্ধের ময়দান। যেখানে তিনি সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ না করলেও খন্ড খন্ড অংশের মাধ্যমে। পুরো মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে আনতে চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। '১৯৭১' উপন্যাসে হঠাৎ একদিন নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি দলের প্রবেশ। গ্রামের লোকজন জানেও না মিলিটারি কেন তাদের গ্রামে প্রবেশ করেছে। তারা তাদের অজান্তেই প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে।
শুরুতেই আমরা দেখতে পাই নীলু সেনকে বিনা কারণে হত্যার ঘটনা। যার মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশব্যাপী ধর্মের দোহাই দিয়ে ঘটে যাওয়া নির্বিচারে গণহত্যাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আবার আমরা দেখতে পাই সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও বারো বছরের শ্যালিকার সম্ভ্রমহানির ঘটনা। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের দেশের নারীদের ওপর হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের দৃশ্য অনুমান করতে পারি। এরপর ইমাম সাহেবের ওপর করা শারীরিক নিপীড়নের চিত্র দেখতে পাই এ উপন্যাসে। যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় কীভাবে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের দেশে এসে আমাদের দেশেরই নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।
পর সফদরউল্লাহ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ থেকে উপন্যাসের প্রতিবাদী চরিত্র। যে হাতে দা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় প্রতিশোধের স্পৃহায়। আবার এই ঝড়ের সুযোগ নিয়েই পাগল নিজাম ছুটতে ছুটতে জঙ্গলের মধ্যে গিয়ে সংবাদ পৌছে দিতে সক্ষম হয় মুক্তিবাহিনীর কাছে। যার ফলে তারা নিরাপদে এলাকা ছাড়তে পারে।
এই ঝড়ের মতো নানা বিপর্যয়ের ফলেই ধীরে ধীরে পাকবাহিনীর সহযোগী রফিকের চরিত্রে আমরা দেখতে পাই সাহসী পরিবর্তন। যে রফিক মেজর এজাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, একটুও ভীত না হয়ে এজাজের আশু ধ্বংসের বার্তা প্রচার করে। মেজর এজাজের সঙ্গে রফিকের গড়ে ওঠে একটি গভীর দ্বন্দ্ব, যা শেষ পর্যন্ত গড়ায় রফিকের মৃত্যু পর্যন্ত। এভাবেই রফিকের নির্ভয় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সূচনা হতে থাকে নতুন এক বাংলাদেশের।
তাই একথা, বললে অত্যুক্তি হবে না যে, '১৯৭১' উপন্যাসে কালবৈশাখি ঝড় নানা রকম ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মাঝে ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আর উপন্যাসকে নিয়ে গেছে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!