মিলিটারির নির্লিপ্ত চাহনি দেখে আজিজ মাস্টারের নেতৃত্ব দেওয়া ছোট 'দলটি বুকের মধ্যে কাঁপুনি অনুভব করে। নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করেই সবার আগে গ্রামের শিক্ষিত ব্যক্তিদের তলব করে। তাদের মধ্যে অন্যতম স্কুলের হেডমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিক। কিন্তু আজিজ মাস্টার একা আসতে সম্মত না হওয়ায় কয়েকজন মিলে ছোট একটি দল হয়ে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিতে দিতে আসে। কিন্তু স্লোগান শুনে বারান্দাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনাদের কোনো ভাবান্তর হয় না। তারা নির্লিপ্ত চোখে সামনের দিকে চেয়ে থাকে। তাদের সেই চাহনি দেখে আজিজ মাস্টারের নেতৃত্বে আগত দলটি বুকের মধ্যে কাঁপুনি অনুভব করে।
Related Question
View All'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিয়ে আসা আজিজ মাস্টারের ছোট দলটির প্রতি মিলিটারির কোনো উৎসাহ না থাকায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করে শেষরাতের দিকে। এরপর তারা গ্রামের মোটামুটি শিক্ষিত লোকদের তলব করতে শুরু করে। যার কারণে প্রথমেই মসজিদের ইমাম সাহেবকে তলব করে। এরপর স্কুলের হেডমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিককে তলব করে। কিন্তু আজিজ মাস্টার একা মিলিটারির কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। এজন্য সে কয়েকজনকে নিয়ে হাতে পাকিস্তানের পতাকা এবং মুখে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' স্লোগান দিতে দিতে স্কুলের দিকে আসে। এখানে এসে তারা দেখে মিলিটারিরা স্কুলের বারান্দায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। স্লোগান দিয়ে আসা দলটির প্রতি তারা চোখ তুলেও তাকায় না।
পাকিস্তানি মিলিটারি নীলগঞ্জ গ্রামে এসেছে মূলত একটা মিশনে। তাদের ধারণা, নীলগঞ্জ গ্রামের জঙ্গলা মাঠে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কিছু সেনা লুকিয়ে আছে এবং তারা মিলিটারির দুজন অফিসারকে তুলে নিয়ে গেছে। যার মধ্যে মেজর এজাজের বন্ধু মেজর বখতিয়ার অন্যতম। তাদেরকে উদ্ধার করা এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাদের ধরার জন্যই মিলিটারি এসেছে। এজন্যই তারা শুরুতেই গ্রামের শিক্ষিত লোকদের তলব করে। কারণ শিক্ষিত লোকরাই সাম্প্রতিক ঘটনার খবর রাখে। এছাড়া সারা রাত হেঁটে ভোর রাতে মিলিটারির দল এসে পৌছায় এ গ্রামে। এজন্য তারা অনেক ক্লান্ত ছিল। ফলে তাদের অনেকেই ঝিমাচ্ছিল। এ কারণে স্লোগান দিয়ে আসা দলটির প্রতি তাদের কোনো উৎসাহ দেখা যায় না। তারা সন্ন্যাসীদের মতো নির্লিপ্ত চোখে সামনে তাকিয়ে থাকে, যেন তারা কোনো কিছুর অপেক্ষায় আছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মধ্যে প্রকৃত অর্থে কোনো মমত্ববোধ ছিল না। তাদের মধ্যে না ছিল কোনো ভালোবাসা, না ছিল বাঙালিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি নিধন। তারা বাঙালিদের কখনোই বিশ্বাস করত না। কোনো ভীতু, সরল মনের বাঙালি যদি তাদের দিকে এগিয়েও যেত তবুও তারা এগিয়ে আসত না। মূলত এসব কারণেই সেনাবাহিনীর দলটি নির্লিপ্ত ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!