আজিজ মাস্টারের বেশ অবাক হওয়ার কারণ হলো মেজর এজাজের স্মৃতিশক্তি। আজিজ মাস্টারকে স্কুলঘরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় এজাজ তার কাছ থেকে শুনেছিলেন গ্রামে কার কার বাড়িতে ট্রানজিস্টার আছে। আজিজ মাস্টার যার যার নাম বলেছে তাদের মধ্যে জয়নাল মিয়ার নামও ছিল। তার বাড়িতেও ট্রানজিস্টার আছে। পরবর্তী সময়ে যখন এজাজ আজিজ মাস্টারের কাছ থেকে শুনতে পান যে সে যাকে নিয়ে কবিতা লিখেছে তার নাম মালা এবং মালা সম্পর্কে বিস্তারিত শোনার সময় জানতে পারেন যে তার বাবার নাম জয়নাল মিয়া, তখন তিনি তার নাম শুনেই জানতে চান, যে জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ট্রানজিস্টার আছে ইনি সেই জয়নাল মিয়া কি না। তখন মেজর এজাজের স্মৃতিশক্তি দেখে আজিজ মাস্টার বেশ অবাক হয়ে যায়। তিনি ভাবেন যে মেজর এজাজের মনেই আছে জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ট্রানজিস্টার থাকার কথা।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে কালবৈশাখি ঝড় নানা রকম ভূমিকা পালন করেছে। এজাজের সাহসিকতা ও বোধবুদ্ধির অন্যতম প্রমাণ দাখিল করা থেকে শুরু করে মুক্তিসেনাদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার কল্পিত কিংবা সত্য ঘটনা ঘটতে দেওয়া পর্যন্ত।
একটা গুরুতর ব্যাপার এই যে, ঝড়ে মীর আলির ঘরের চালাটি উড়ে যায় মানুষ এবং অপরাপর বস্তুসামগ্রী যথাস্থানে রেখেই; আর আমাদের জানানো হয় মীর আলির ভাগ্যে এর আগেও এই ঘটনা একবার ঘটেছিল। সেবার পরিবারটি দ্রুত সামলে ওঠে। কিন্তু এবারে প্রাকৃতিক পীড়নের পাশাপাশি এজাজদের প্রযোজনায় অধিকতর বিপর্যয়কর যে ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তার একমাত্র জোয়ান ছেলের ঘরে ফিরে আশার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, তা সামলে ওঠার কোনো আশা আর থাকে না। ঝড়কবলিত মীর আলিকে তাই একাত্তরের অন্যায় সমরে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হিসেবে ধরে নেওয়াই সংগত।
ঝড়ের ফলেই মেজর এজাজের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয় বলাই। এই ঝড়ের রাতেই স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রম হারানোর পর সফদরউল্লাহ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ থেকে উপন্যাসের প্রতিবাদী চরিত্র। যে হাতে দা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় প্রতিশোধের স্পৃহায়। আবার এই ঝড়ের সুযোগ নিয়েই পাগল নিজাম ছুটতে ছুটতে জঙ্গলের মধ্যে গিয়ে সংবাদ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয় মুক্তিবাহিনীর কাছে। যার ফলে তারা নিরাপদে এলাকা ছাড়তে পারে।
এই ঝড়ের মতো নানা বিপর্যয়ের ফলেই ধীরে ধীরে পাকবাহিনীর সহযোগী রফিকের চরিত্রে আমরা দেখতে পাই সাহসী পরিবর্তন। যে রফিক মেজর এজাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, একটুও ভীত না হয়ে এজাজের আশু ধ্বংসের বার্তা প্রচার করে। মেজর এজাজের সঙ্গে রফিকের গড়ে ওঠে একটি গভীর দ্বন্দ্ব, যা শেষ পর্যন্ত গড়ায় রফিকের মৃত্যু পর্যন্ত। এভাবেই রফিকের নির্ভয় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সূচনা হতে থাকে নতুন এক বাংলাদেশের।
তাই একথা, বললে অত্যুক্তি হবে না যে, '১৯৭১' উপন্যাসে কালবৈশাখি ঝড় নানা রকম ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মাঝে ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আর উপন্যাসকে নিয়ে গেছে একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!