আজিজ মাস্টারের শেষ পরিণতি হয়েছিল মর্মান্তিক মৃত্যু। বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এ দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বাদ যায়নি। আজিজ মাস্টার একজন বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ব কিন্তু ভীতু প্রকৃতির। নীলগঞ্জ গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি গড়ার প্রথম দিনেই তাকে তলব করা হয়। তারপর থেকেই আজিজ মাস্টারসহ ইমাম সাহেবকে স্কুলের টিচার্স রুমে আটকে রেখে নানান অত্যাচার-নির্যাতন করে। কারণ সেনাদের ধারণা ছিল মাস্টার মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে। তাই তো মাস্টারকে অপমানজনক শাস্তি হিসেবে প্রথমে উলঙ্গ করে রাখে, তারপর তাকে গ্রামে ঘুরিয়ে আনার কথা বলে। কিন্তু সম্মানহানির চেয়ে মৃত্যুকে বরণ করা শ্রেয় মনে করায় আজিজ মাস্টার মেজরকে অনুরোধ করে যেন তাকে বিলের ধারে গুলি করে মারা হয়। মাস্টার শেষ পর্যন্ত অপমান অথবা মৃত্যুর মধ্যে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই বেছে নেয়।
Related Question
View Allনা, রফিক চরিত্রটি আমার কাছে দ্বিমুখী চরিত্র বলে মনে হয় না। আমার উত্তরের পক্ষে কারণ দেখানো হলো-
'১৯৭১' উপন্যাসের অন্যতম এক চরিত্র রফিক। সে পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার এজাজের সহযোগী। এজাজ যখন নীলগঞ্জ গ্রামে আসে মুক্তিবাহিনীর খোঁজে তখন এজাজের দোভাষী হিসেবে রফিকও আসে। বাঙালি যুবক রফিক এই উপন্যাসের শুরু থেকেই এক রহস্যময় চরিত্র। পাকিস্তানিদের সহচর হলেও বাঙালিদের প্রতিও তার বিশেষ সহানুভূতি ছিল। যেমন- কালীমূর্তির পিছনে লুকানো বলাইকে দেখতে পেয়েও মেজরের দৃষ্টি থেকে তাকে আড়াল করার প্রয়াস, কৈবর্ত্য পাড়ায় তল্লাসি করতে না দেওয়া, আজিজ মাস্টারকে লজ্জাজনক শাস্তি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা ইত্যাদি।
রফিক চরিত্রটি বিশেষত্ব লাভ করেছে মূলত তার নিশ্চুপ ভঙ্গির কারণে। কোনো বিষয়েই তার খোলাখুলি বক্তব্য নেই। ফলে উপন্যাসে তাকে সবচেয়ে জটিল চরিত্র বলে মনে হয়। তাকে বাস্তব কম বরং প্রতীকী চরিত্র বলেই অধিক মনে হয়। রফিক কখনো নীলগঞ্জ গ্রামে আসেনি। অথচ সে গ্রামের সকল রাস্তাঘাট, মানুষ এবং প্রকৃতির সাথে খুব পরিচিত। সে কোন এলাকার মানুষ তা ইমাম সাহেব জানতে চাইলে তার কোনো উত্তর দেয়নি।
রফিক মেজর এজাজের সহযোগী হিসেবে গ্রামে প্রবেশ করলেও 'আমরা' হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি হয়েই সে কথা বলেছে। উপন্যাসের শেষের দিকে রফিকের সংলাপে বোঝা যায় সে পুরোপুরি পাকিস্তান বিরোধী। এটা বুঝতে পেরে এজাজ তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে তখন কৈবর্ত পাড়া আগুনে পুড়ছে। রফিক তখন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে বিলে নামে। তখন আগুনের আলোয় তার মুখে অন্য রকম এক দীপ্তি আবিষ্কার করে মেজর এজাজ। 'এ অন্য রফিক' এমন এক অভিব্যক্তির উদয় হয় মেজরের মনে। অর্থাৎ মেজরের সহযোগী হয়েও রফিকের এমন বিদ্রোহ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাই বলা যায়, রফিক কোনো দ্বিমুখী চরিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামের প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক যুবক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!