সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
"নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে।"- এখানে 'জীবনের আশ্বাসে' বলতে বেঁচে থাকার আনন্দকে বোঝানো হয়েছে।
'আমার দেশ' কবিতায় কবি বাংলার মানুষের বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে নতুন করে জীবন সাজানোর কথা বলেছেন। ধনী-গরিব, সুখী-দুঃখী এসব নিয়েই আমাদের সমাজ। সমাজে সব শ্রেণির মানুষ আছে। অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আছে। এ ভালোবাসা প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার আশাকে জাগিয়ে তোলে। জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রণোদনা দেয়। ফলে জীবনের জন্য মানুষ প্রতিনিয়ত আশাবাদী হয়ে ওঠে। আলোচ্য চরণে 'জীবনের আশ্বাস' বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে 'আমার দেশ' কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ সীমাহীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। এদেশ ধানের দেশ, গানের দেশ, প্রাণের দেশ। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, ফুলে-ফলে আনত বৃক্ষশাখা এদেশকে অপরূপ করে তুলেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মোহনীয় লীলাভূমি এদেশ আমাদের জন্মভূমি।
উদ্দীপকে এদেশের সোনাঝরা ধান খেতে শরৎকালে রৌদ্রছায়ার এক চমৎকার চিত্র ফুটে উঠেছে। এদেশের নির্মল আকাশে শরতে মেঘ-বালিকারা নেচে নেচে খেলা করে বেড়ায়। সুনীল আকাশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা যেন মেঘের ভেলায় উড়ে চলে। 'আমার দেশ' কবিতায়ও বাংলার এই বর্ণিল অভিব্যক্তিই মূর্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সূর্য-ঝলকে আমাদের দেশে মৌসুমি নানা ফুল ফোটে। শরতের স্নিগ্ধ রৌদ্রছায়া মাঠ ভরা ধানের শিষে, মানুষের ঘরে ঘরে খেলা করে যায়; মৌসুমি ফুলে সজ্জিত হয় বাংলার প্রকৃতি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমার দেশ' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির শোভার মূর্ত প্রতিচ্ছবি।
"উদ্দীপকটির মূল সুর 'আমার দেশ' কবিতার সমধর্মী হলেও পুরোপুরি এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। ঋতুতে ঋতুতে এদেশ সাজে নব নব রূপে। বসন্ত যেমন ঋতুর রাজা, শরৎ তেমনই ঋতুর রানি। শরৎ তার নির্মল আকাশ, স্নিগ্ধ মাঠ, উদ্ভাসিত সূর্য আর আলো ছায়ার খেলা দিয়ে বাংলার প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে ইেতালে। শরতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মানুষের মন-প্রাণকে এক সীমাহীন আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে শরতের অনুপম সৌন্দর্য অঙ্কিত হয়েছে। শরতের সবুজ ধানের খেতে সোনালি রোদ আর ছায়ার এক কৌতুকময় লুকোচুরি খেলা দেখা যায়। দেখা যায় সুনীল আকাশ সাগরে সাদা মেঘের ভেলায় মেঘ-বালিকাদের বর্ণিল ছোটাছুটি। উদ্দীপকে অঙ্কিত বাংলার শরৎকালীন সৌন্দর্যের এ ছবি 'আমার দেশ' কবিতার শুরুতেই ফুটে উঠেছে। কিন্তু 'আমার দেশ' কবিতার চিরায়ত বাংলার চিত্র উদ্দীপকের এ চিত্রকে ছাড়িয়ে আরও বহুদূর প্রসারিত। সেখানে এদেশের চমৎকার জলবায়ু, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা মাটি ও মানুষ, দুর্যোগ ও সম্প্রীতি নিপুণ মুন্সিয়ানায় অঙ্কিত।
'আমার দেশ' কবিতায় বাংলাদেশের এক সামগ্রিক রূপ দৃশ্যমান। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও বাত্ময় হয়ে উঠেছে এ কবিতায়। অন্যদিকে উদ্দীপকে এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি বিশেষ ঋতু ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটির মূল সুর 'আমার দেশ' কবিতার সমধর্মী হলেও পুরোপুরি এক নয়।
Related Question
View All'কিশ্তি' শব্দের অর্থ নৌকা।
'শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে'- এ পঙ্ক্তি দ্বারা কবি দেশের মানুষের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নের দিকটিকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'আমার দেশ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু এবং এদেশের মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতার দিকটি তুলে ধরেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, খরা, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতিতে সবাই মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির জন্য কাজ করে। সবাই সম্মিলিতভাবে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই লড়াই করে। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে এ ভাবটিই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতায় বর্ণিত ফুলের সৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ফুল আনন্দ ও ভালোবাসার প্রতীক। ফুল মানুষের মনে প্রফুল্লতা ও স্নিগ্ধতার অনুভূতি আনে। ফুলের সৌন্দর্য ও সুগন্ধে আমরা বিমোহিত হই। ফুল প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজানোর পাশাপাশি মানবমনেও আনন্দের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
উদ্দীপকে ঝিঙে ফুলের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। 'ঝিঙে ফুল' আমাদের অতি পরিচিত একটি ফুল। পৌষের শেষে এ ফুল ফুটতে দেখা যায়। সবুজ পাতার আড়াল থেকে জাফরানি রঙের এ ফুল ফুটে ঝিঙে মাচার ওপর দুলতে থাকে। 'আমার দেশ' কবিতায় সহনীয় জলবায়ুতে ফোটা বিভিন্ন ফুলের কথা বলা হয়েছে। সূর্য-ঝলকে মৌসুমি ফুল ফোটার কথা এবং মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরিয়ে তোলার কথা রয়েছে। মূলত ফুলের সৌন্দর্য অনুভবের মাধ্যমে স্বদেশপ্রেমের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে বর্ণিত ফুলের প্রতি অনুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ সুন্দরের পূজারি। ফুল সেই সৌন্দর্যের উৎস। প্রকৃতিতে বিচিত্র বর্ণের ফুল দেখা যায়। ফুল মানুষকে অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে তোলে। ফুলের সৌন্দর্য ও পবিত্রতায় উদ্বেলিত হয়ে মানুষ হিংসা-দ্বেষ ভুলে গিয়ে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয়।
উদ্দীপকে ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। ঝিঙে ফুলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতির চিত্রটি ফুটে উঠেছে। এখানে গ্রাম্য প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রকাশের চেতনাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু 'আমার দেশ' কবিতায় মৌসুমি ফুলের এ সৌন্দর্যচেতনার বাইরেও বাংলাদেশের জলবায়ু, প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শান্তি রক্ষায় ও শান্তি স্থাপনে মানবতাবোধ, মানুষের কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'আমাদের দেশ' কবিতায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু এবং এদেশের মানুষের ঐক্য ও সহমর্মিতার চেতনাটি প্রকাশ পেয়েছে। এদেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বমানবতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, স্বদেশানুরাগ এবং স্বদেশের মানুষের সঙ্গে মহামিলন, বন্ধন ইত্যাদি দিক প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকটির পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কারণ সেখানে এ ধরনের কোনো চেতনার কথা নেই। তাই বলা যায় যে, বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।
প্লাবনে নুহের কিস্তি ভাসে।
'জীবনের ডাক আসে' বলতে মানুষের মাঝে প্রীতি বন্ধনকে বোঝানো হয়েছে, কারণ এ বন্ধনের কারণেই মানুষ মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়।
বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সহানুভূতিপরায়ণ। এই হৃদ্যতার কারণে পরস্পরের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মানুষ মানুষকে। ভালোবাসে মন দিয়ে। ফলে দেশ যেন হয়ে ওঠে একটা প্রাণের মিলনমেলা। ঘোষণা করে সাম্য আর মৈত্রীর জয়গান। এই দারুণ মিলনমেলা সৃষ্টিতে মানুষের যে আগ্রহ, এই আগ্রহকেই কবি জীবনের ডাক বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!