যে ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে তাকে মৌলিক ইবাদত বলে।
নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট ওয়াক্তের সালাত যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত হয়। সালাতের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনেই সালাত আদায় করতে হয়। সালাতে রুকুর সময় রুকু, সিজদাহর সময় সিজদাহ- এরূপ শৃঙ্খলা প্রতিটি ধাপেই মানতে হয়। অহেতুক নড়াচড়া বা চিৎকার চেঁচামেচি এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে সালাত আমাদেরকে শৃঙ্খলার পরম প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।
আতিউর রহমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। হানাফি মাজহাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর মাসয়ালাসমূহ তত্ত্ব, তথ্য, হিকমত ও কল্যাণকামিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ আল্লাহ প্রতিটি ইবাদতের পেছনেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। উদ্দীপকের আতিউর রহমান ইবাদতের ক্ষেত্রে কল্যাণকামিতার এই ধারণাকেই লালন করছেন।
আতিউর রহমান বিশ্বাস করেন, সালাত মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। তিনি মনে করেন, ইসলামের অন্য সব ইবাদতের পেছনেই এরূপ কল্যাণকর কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিহিত আছে। অনুরূপ বিশ্বাস হানাফি মাজহাবের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। অন্যান্য মাজহাবে এই ধারণা পোষণ করা হয় যে, ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন হুকুম-আহকাম কোনো কল্যাণকামিতা বা মুসলাহাত বিবেচনায় প্রবর্তিত হয়নি। এর হালালগুলো এজন্য হালাল-কেননা আল্লাহ তা হালাল ঘোষণা করেছেন। হানাফি মাজহাবে এ ধারণার প্রতিবাদ করা হয়েছে। কেননা ইসলামের প্রতিটি বিধানের পেছনেই রয়েছে মানুষের কল্যাণ চিন্তা। সালাত মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে; জিহাদ প্রতিষ্ঠা করবে শৃঙ্খলা, জাকাত, সাওম, হজ মানুষকে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দেবে প্রভৃতি তার উদাহরণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আতিউর রহমান হানাফি মাজহাবের কল্যাণকামিতার ধারণাটিই পোষণ করেন।
উদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের একটি দিক অর্থাৎ সালাতের মাধ্যমে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে। সালাত আনুষ্ঠানিক ও দৈহিক ইবাদত হলেও এর মূল আবেদন দৈহিক বা আনুষ্ঠানিক নয়। বরং সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সালাত আত্মিক প্রশান্তি লাভ, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিক দৃঢ়তা অর্জন, সব সৃষ্টির সাথে আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি প্রভৃতি আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
সালাত মানুষকে অশালীন ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। উদ্দীপকে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের এ দিকটিই কেবল লক্ষণীয়। এটি ছাড়াও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় সালাত আদায়ের মধ্য দিয়েই। সালাতের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে। ফলে তার মধ্যে সব অস্থিরতা দূরীভূত হয় এবং শান্তি সৃষ্টি হয়। আবার সালাত মানুষকে সুন্দরতম নৈতিক চরিত্রের অধিকারী করে তোলে। ফলে নৈতিক স্খলন ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে। তাছাড়া মানুষ নিয়মিত সালাত আদায়ের মাধ্যমে পৃথিবীর সব সৃষ্টির সাথে একটা অদৃশ্য, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। উদ্দীপকে এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়নি।
ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকটিতে সালাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের খণ্ডচিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!