বাংলাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সিয়েরালিওন।
ভাষা আন্দোলনের সময় মিছিলে পুলিশের গুলির আঘাতে শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ শাহাদাৎ বরণ করেন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের সময় রফিক ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য রমনায় উপস্থিত হন। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে জনতার বিক্ষোভঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে। এ সময় শহিদ রফিক সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাতে থাকেন। হঠাৎ একটি গুলির আঘাতে তার খুলি উড়ে যায়, তিনি তখনই মারা যান।
আদনানের দেশের আন্দোলনের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভাষার দাবি ছিল বাঙালির প্রাণের দাবি। ভাষা আন্দোলন পুনরায় জোরালো হবার পেছনে ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীনের ভাষণ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খাজা নাজিমুদ্দীন ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় আবারও উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। খাজা নাজিমুদ্দীনের এরূপ ঘোষণায় বাঙালি জাতি বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। অতঃপর ৩০ জানুয়ারি প্রতিবাদ দিবস এবং ৩১ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সারা দেশব্যাপী সর্বস্তরের জনগণ ছাত্রদের সাথে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। বাঙালির মাতৃভাষার দাবিকে দমন করার লক্ষ্যে পাকিস্তানিরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ চক্রান্তকে নস্যাৎ করতে ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙার মাধ্যমে তরুণ প্রাণ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রাজপথে, যা ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত। ভাষা আন্দোলনে শহিদ হন রফিক, শফিক, জব্বার, রবকত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আদনানের দেশের সর্বস্তরের মানুষ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। সুতরাং উক্ত দেশের উক্ত আন্দোলনের
উক্ত আন্দোলন তথা ভাষা আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটায় বলে আমি মনে করি।
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম সফল বিদ্রোহ। ভাষা আন্দোলন তৎকালীন রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়।
ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। বাংলা ভাষার পক্ষে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বক্তব্যের সমর্থনে ১৯৪৮ সালে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে * ফেটে পড়ে। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন পর হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামক বৃহৎ রাজনৈতিক দল তাদের দলের নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন। বৃহৎ এ রাজনৈতিক দলটি ধর্মীয় ভাঁওতাবাজির রাজনীতি ত্যাগ করে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ গ্রহণ করলে এটি সকল ধর্মের লোকদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে পরবর্তী আন্দোলনসমূহে নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের হাতেই চলে যায়। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটায়।
Related Question
View Allএকুশ' নিয়ে প্রথম গানটির গীতিকার আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
বাংলা ভাষা যখন জাতীয় সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে তখন তাকে বাংলাভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ বলে।
ভাষার দাবিতে জীবন বিসর্জন বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন কিন্তু বাঙালি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার সমুন্নত রাখার দাবিতে জীবন দিয়েছিল। তাই বাঙালির এই বৃহৎ ত্যাগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
উদ্দীপকে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে জোট গঠন আমাদেরকে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মূলত পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলাম মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বরে। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকরে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সফিপুরের জাতীয় নির্বাচনে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে ছোট ছোট বিভিন্ন উপদল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ঐ জোট ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জয়লাভ করে। উদ্দীপকের এই নির্বাচন এবং উপরে আলোচিত নির্বাচনের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করলে একবাক্যে বলা যাবে উদ্দীপকের নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উক্ত নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের জোটের নেতৃত্বদানকারী দলের সৃষ্টি ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা এই নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি সম্মিলিতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্ত্বেও জয়ী হতে পারেনি। মূলত ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। বাঙালি ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মুসলিম লীগের ন্যাক্কারজনক শাসনের বিরুদ্ধে তাদের বিপ্লব ঘটিয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে। ফলে এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালিদের মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
ভাষা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
২২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে খুলনায় হরতাল ও প্রতিবাদ সভা ছিল খুলনা অঞ্চলের বৃহত্তর কর্মসূচি।
খুলনা অঞ্চলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২৭ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর বাজারে জনসভা ও অপর এক জনসভা মিউনিসিপ্যাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। যাতে যোগদান করে প্রায় দশ হাজার লোক। ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুসারে খুলনা শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!