যে পরিবার শুধু বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে গঠিত হয় তাকে একক পরিবার বলে।
যে সকল শিক্ষা একজন মানুষকে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সহায়তা করে সে সব শিক্ষা দেওয়া পরিবারের রাজনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত।
পরিবারে সাধারণত মা-বাবা কিংবা বড় ভাই-বোন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। ছোটরা তাদের আদেশ-নির্দেশ অনুসরণ বা মান্য করে চলে। বড়রাও ছোটদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন। পরিবারের বড়রা ছোটদেরকে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেন, যা তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। আবার পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় দেশ ও বিদেশের রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে ওঠে। এভাবে পারিবারিক শিক্ষা ও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে পরিবারেই একজন শিশুর রাজনৈতিক শিক্ষা শুরু হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আদনান সাহেবের পরিবারকে 'পিতৃতান্ত্রিক' পরিবার বলা যায়। পরিবারের শ্রেণিবিভাগের 'বংশ গণনা ও নেতৃত্ব' নীতির ভিত্তিতে একে চিহ্নিত করা যায়।
পিতা, স্বামী বা বয়স্ক কোনো পুরুষ যে পরিবারের কর্তা হন তাকে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে। পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার (যেমন আয়-ব্যয়, সন্তানদের বিয়ে-শাদী, জমি-জমাসহ সম্পত্তি ইত্যাদির বিষয়ে সিদ্ধান্ত) দায়িত্ব পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুরুষ সদস্যের ওপর ন্যস্ত থাকে। আবার পুরুষের দিক থেকেই বংশপরিচয় গণনা করা হয়। এ ধরনের পরিবার ব্যবস্থায় সন্তান-সন্ততিরা আদি পুরুষদের পদবি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আদনান সাহেবের পরিবারের কর্তা হলেন তার বাবা চৌধুরী সাহেব। আর বাবার পরিচয়েই সন্তানসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা পরিচিত হয়। পরিবারের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও আদনান সাহেবের বাবার কথাই মুখ্য। তিনিই সন্তানদের ও পরিবারের যাবতীয় খরচ বহন করেন। যেকোনো প্রয়োজনের কথা পরিবারের সবাই চৌধুরী সাহেবের কাছেই জানায়। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আদনান সাহেবের পরিবারটি 'পিতৃতান্ত্রিক'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আদনান সাহেবের পরিবারটি পরিবারের শ্রেণিবিভাগ, সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পেতে যথেষ্ট নয়।
উদ্দীপকের আদনান সাহেবের পরিবারের মধ্যে মূলত শুধু একটি ধরন দেখা যায়। বংশ গণনা ও নেতৃত্ব নীতির ভিত্তিতে একে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার বলা যায়। কিন্তু পরিবারের শ্রেণিবিভাগের আরো দুটি নীতি রয়েছে। যথা- পারিবারিক কাঠামো ও বৈবাহিক সূত্র। এসব নীতির ভিত্তিতে পরিবারকে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। পারিবারিক গঠন কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবারকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- একক ও যৌথ পরিবার। একক পরিবার মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে গঠিত। এ ধরনের পরিবার ছোট হয়ে থাকে। যৌথ পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ পরিজন একত্রে বাস করে। যৌথ পরিবার বড় পরিবার। বাংলাদেশে উভয় ধরনের পরিবারই রয়েছে। তবে যৌথ পরিবারের সংখ্যা বর্তমানে অনেক কম এবং তা ক্রমেই আরও কমছে।
আবার বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে তিন ধরনের পরিবার লক্ষ করা যায়। যথা- একপত্নীক, বহুপত্নীক ও বহুপতি পরিবার। একপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একজন স্ত্রী থাকে। আর বহুপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে। আমাদের বর্তমান সমাজে অধিকাংশ পরিবার একপত্নীক। এ দেশে কয়েক দশক আগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বহুপত্নীক পরিবার থাকলেও বর্তমানে কদাচিৎ দেখা যায়। অন্যদিকে বহুপতি পরিবারে একজন স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবার দেখা যায় না এবং গোটা বিশ্বেই তা অতি বিরল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের পরিবারটি পরিবারের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে আংশিক ধারণা দেয় মাত্র। অর্থাৎ পরিবারের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা প্রদানে আদনান সাহেবের পরিবার যথেষ্ট নয়।
Related Question
View Allফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau) রাষ্ট্র সৃষ্টির সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা হলো সার্বভৌমত্ব।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি মৌলিক উপাদানের (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব) মধ্যে সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন 'Superanus' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Sovereignty'। এর অর্থ চরম ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।
সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভরশীল।
'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি, প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
বল প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়, সমাজের বলশালী ব্যক্তিরা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং শাসনকাজ পরিচালনা করে। স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম (David Hume), ইংরেজ আইনজীবী এডওয়ার্ড জেংকস (Edward Jenks) প্রমুখ বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সমর্থক। এ সম্পর্কে এডওয়ার্ড জেংকস বলেন- 'ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, আধুনিক সকল রাষ্ট্রব্যবস্থা সার্থক রণকৌশলের ফলশ্রুতি'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র 'গ'-কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজেই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
'খ' শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের প্রতিফলন ঘটেছে, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির মতবাদগুলোর মধ্যে অধিক যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।
ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের মূল বক্তব্য হলো রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। যেসব উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো হলো- সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা এবং কার্যকলাপ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মতবাদটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক ড. গার্নার (Dr. James Wilford Garner) বলেন, 'রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়নি; বরং ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে'।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'খ' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং এক সময় সবগুলো রাষ্ট্র মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে 'খ' রাষ্ট্রের শক্তিশালী হওয়ার দিকটি ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে ইঙ্গিত করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আর এ মতবাদের মধ্যেই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
পারিবারিক কাঠামো অনুযায়ী পরিবার দুই প্রকার। যথা- ১. একক ও ২. যৌথ পরিবার।
আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজ।
পরিবারকে সমাজজীবনের শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়। পরিবারেই একটি শিশু বর্ণমালার সাথে পরিচিত হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পারস্পরিক সহায়তায় সততা, শিষ্টাচার, উদারতা, আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা, বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদেরকে ভালোবাসা ইত্যাদি মানবিক গুণ শিক্ষা লাভের প্রথম সুযোগ ঘটে পরিবারে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক নিজেকে সব ধরনের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, রাষ্ট্রের আইন মান্য করা প্রভৃতি করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!